মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ June, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ June, ২০২৬ |
মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার এবং কথিত ‘আলী বাবা’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে ঘিরে দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনা, প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার সরকার বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ভিসা বা ব্যবসায়িক সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা

নিতে হবে। সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল সাংবাদিকদের বলেন, আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, লাইসেন্সের অপব্যবহার বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার এ বক্তব্যকে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা হিসেবে দেখছেন। মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে আলোচিত একটি বিষয় হলো ‘আলী বাবা’ ব্যবসা। স্থানীয়ভাবে এর অর্থ হলো—কোনো মালয়েশীয় নাগরিক তার ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যবহার করে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন। কাগজে-কলমে ব্যবসার মালিক স্থানীয় ব্যক্তি হলেও বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা করেন বিদেশিরা। ব্যবসায়িক মহলের একাধিক সূত্র জানায়, খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি এবং

অনলাইন বাণিজ্যের কিছু ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেক বিদেশি বৈধ পথে ব্যবসা শুরু করতে না পেরে স্থানীয়দের লাইসেন্স ব্যবহার করেন। আবার কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মাসিক অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স ভাড়া দেন। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি ব্যবসা খাতে জবাবদিহিও কমে যায়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী, সামাজিক ভিজিট, ডিপেনডেন্ট কিংবা অন্যান্য ভিসায় প্রবেশ করে অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা বা চাকরিতে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। অভিবাসন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি ব্যবসা পরিচালনা বা কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবে কিছু ব্যক্তি ভিসার শর্ত অমান্য করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে

জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন অভিবাসন পরামর্শক জানান, অনেকেই মনে করেন ভিসা পেলেই সব ধরনের কাজ করা যাবে। বাস্তবে প্রতিটি ভিসার আলাদা শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত ভঙ্গ করলে জরিমানা, আটক কিংবা বহিষ্কারের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে। মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মো. কাজী সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা যারা নিয়ম মেনে কোম্পানি পরিচালনা করি, কর দেই এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলি। তাদের জন্য সরকারের এই অবস্থান ইতিবাচক। কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো প্রবাসী ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ভাষায়, কেউ যদি ভিসার অপব্যবহার করে বা প্রক্সি ব্যবহার করে ব্যবসা চালায়, তাহলে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে

পড়ে। তাই সরকার আইন প্রয়োগ করলে প্রকৃত উদ্যোক্তারাই লাভবান হবেন। আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মানিউল্লাহ বলেন, মালয়েশিয়া বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়; কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আর অবৈধ ব্যবসা এক বিষয় নয়। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিরা স্থানীয়দের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে কর পরিশোধ, শ্রমনীতি এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে না। সেলাঙ্গরের ব্যবসায়ী লিম চি ওয়েই বলেন, যদি সবাই একই নিয়ম মেনে ব্যবসা করত, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না; কিন্তু যখন কেউ শর্টকাট পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করে, তখন বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি বলেন,

সরকারের উচিত শুধু অভিযান চালানো নয়, লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কারণ কোনো ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করলে তার দায় পুরো কমিউনিটির ওপর বর্তাতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির এক নেতা বলেন, মালয়েশিয়ায় অধিকাংশ বাংলাদেশি বৈধভাবে কাজ ও ব্যবসা করছেন। তবে অল্পসংখ্যক মানুষের অনিয়ম পুরো কমিউনিটির জন্য সমস্যা তৈরি করে। তাই সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভিসার ধরন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ব্যবসা করতে হলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অভিবাসন বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কোম্পানি কমিশন এবং

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান আরও জোরদার হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া, প্রক্সি ব্যবসা এবং ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে মালয়েশিয়ার ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং বৈধ বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। তাদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কঠোর বার্তা এখন কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতার ওপর। তবে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী মহলের অনেকেই মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বৈধ উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য শ্রীলঙ্কার কোচের হুমকি, ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স কুমিল্লা ইলিশবাহী পিকআপে ডাকাতির পর ১৯ আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া নিয়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাবের উদ্বেগ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের