ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের অন্তত ৩০টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবাধে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবির বিপরীতে এই ‘অরক্ষিত’ অবস্থা নির্বাচনকালীন সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার এক বড় অশনিসংকেত। পরিসংখ্যানের আড়ালে ভয়ের চিত্র সরকারি হিসেবেই বর্তমানে দেশে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৮ শতাধিক। গত কয়েক বছরের বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় সাড়ে চার হাজার অস্ত্র উদ্ধার করেছে। গাণিতিক হিসেবে এখনো ১

হাজার ৩০০-এর বেশি মারণাস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। নির্বাচনের আগে আগে এই মজুত আরও ভারী হচ্ছে। চলতি বছরে প্রায় ২৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং দুই হাজার আসামি গ্রেপ্তারের যে পরিসংখ্যান সরকার দিচ্ছে, তা মূলত ‘আইসবার্গের চূড়া’ মাত্র। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগই পুরনো বা কম গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ৩০টি ডেঞ্জার জোন ও চোরাচালানের কৌশল বিজিবি ও পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে যেসব সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে, তার মধ্যে যশোর (বেনাপোল, পুটখালী), সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সোনা মসজিদ), কুমিল্লা (বিবির বাজার) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (আখাউড়া) সীমান্ত পথগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা

এখন নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে: ১. পণ্যবাহী পরিবহন: ভারত থেকে আসা পাথর, পেঁয়াজ বা ফলের ট্রাকের গোপন চেম্বারে অস্ত্র আনা হচ্ছে। ২. নদীপথ ব্যবহার: বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে অরক্ষিত নদীপথ ব্যবহার করে ছোট নৌকায় অস্ত্রের চালান ঢুকছে। ৩. নারী ও শিশু ব্যবহার: সীমান্ত পারাপারে সন্দেহ এড়াতে নারী ও শিশুদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা: রক্ষক যখন ভক্ষক সীমান্তে অস্ত্র প্রবেশের মূল কারণ হিসেবে ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব’কে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রতিটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ‘মাসল পাওয়ার’ দরকার হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরাই এসব সিন্ডিকেটকে পরোক্ষ মদত দেন। পুলিশ বা বিজিবি চাইলেও অনেক সময় ‘উপরের নির্দেশে’

পিছু হটতে বাধ্য হয়।” সাবেক এক বিজিবি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, “সমস্যা লোকবলের নয়, সমস্যা নির্দেশের। অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেটকে ছাড় দেওয়া—এসবই প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র প্রবেশে প্রশাসনের একাংশের মৌন সম্মতি রয়েছে।” গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ মাহমুদ এ পরিস্থিতিকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, তবে রাজনৈতিক অস্ত্রায়ন বন্ধ করাই হওয়া উচিত প্রথম অগ্রাধিকার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিরোধী মত দমনে বা দলীয় কোন্দল মেটাতে এই অস্ত্রগুলোর ব্যবহার ‘বৈধতা’ পাচ্ছে। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যই হুমকি।” নিরাপত্তা ব্যবস্থায়

বড় ৩ গলদ নিরাপত্তা বিশ্লেষণে সরকারের কৌশলের তিনটি মৌলিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. প্রযুক্তিগত ঘাটতি: সীমান্তে আধুনিক স্ক্যানার ও সেন্সরের অভাব থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকে লুকানো অস্ত্র শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ২. সিলেক্টিভ অভিযান: রাজনৈতিক পরিচয় দেখে অভিযান চালানো বা শিথিল করার সংস্কৃতি। ৩. তদন্তে অনীহা: অস্ত্র উদ্ধারের পর বাহক ধরা পড়লেও মূল গডফাদার বা অর্থের উৎস পর্যন্ত তদন্ত কখনোই পৌঁছায় না। দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বনাম বাস্তবতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অস্ত্রের দাম বেড়ে গেছে, যা চাহিদার ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করে। ভোটের আগে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের প্রবেশ শুধু নির্বাচনী সহিংসতাই বাড়াবে না, বরং নির্বাচন পরবর্তী

সময়েও সামাজিক অস্থিরতা জিইয়ে রাখবে। সরকার কি আদৌ অস্ত্রমুক্ত নির্বাচন চায়, নাকি নিয়ন্ত্রিত সহিংসতাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে—এই প্রশ্ন এখন জনমনে। তবে এটা নিশ্চিত যে, ৩০টি সীমান্ত পথ বন্ধ না করতে পারলে, ব্যালটের লড়াইয়ের চেয়ে বুলেটের আওয়াজই বেশি শোনা যাবে আসন্ন নির্বাচনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচ অফিশিয়াল যারা পদোন্নতি পেলেন চাকরি হারানো সেই পুলিশ কর্মকর্তা উপযুক্ত সময়ে ইরানকে ‘খতম’ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প যুবলীগ নেতার সাজা কমাতে অনুরোধ চিফ প্রসিকিউটরের ছেঁড়া নোট বদলে না দিলে শাস্তি ইরান যুদ্ধে আর্থিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করল ইসরাইল কারামুক্ত সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ১০ হাজার কিলোমিটার দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড! বাংলাদেশি সিনেমার যেসব গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আশা ভোসলে আ’লীগ ও শেখ হাসিনার হাতেই জব্দ ছিলো জামায়াত মার্কিন অর্থায়নে শেখ হাসিনার সরকারের পতন: নথিতে মিলল ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের ভাগীদারদের হদিস কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় নিন্দা, জড়িতদের বিচারের দাবি ‘মাকাম’-এর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা শেখ হাসিনার সরকার পতনে গোপন ভূমিকায় সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআই-এর যেসকল কর্মকর্তা মব সংস্কৃতির জন্মদাতা ও পৃষ্ঠপোষক মবের বিরুদ্ধেই সোচ্চার! কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ‘এখন খুঁজলেও আর ভিক্ষুক পাওয়া যায় না’, জানালেন বিএনপির এমপি বাবুল ‘মুখে ঘুষির’ ধাক্কা সামলে আর্সেনালকে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ আর্তেতার