ব্যাটিং ও কিপিং—দুই বিভাগেই লিটন দাসের কীর্তি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ October, ২০২৬

ব্যাটিং ও কিপিং—দুই বিভাগেই লিটন দাসের কীর্তি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ October, ২০২৬ |
লিটন দাস কেবল হাসছিলেন। নিজের ভাগ্যকে বোধহয় নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! ১৪ ও ২৬ রানে ক্যাচ মিসের পর ৪৬ রানে বেঁচে যান রানআউটের সুযোগ থেকে। ভাগ্যলক্ষ্মী যেন আরও একবার তাঁর ওপর প্রসন্ন হলেন ৬৭ রানের মাথায়। উইকেটের পেছনে ক্যাচ হলেও আম্পায়ার আউট দেননি, আর আফগানিস্তানের হাতেও ছিল না কোনো রিভিউ। এই একের পর এক পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন লিটন। স্বভাবসুলভ নান্দনিক শট খেলে ৮৭.১৭ স্ট্রাইক রেটে তুলে নিলেন এক ঝড়ো সেঞ্চুরি, যাতে ছিল ১৪টি চারের মার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করার পর, ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ

দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ এবারও ফিফটি (৫১) করলেও ইবাদত হোসেন তুলে নিয়েছেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক, আর বিশেষজ্ঞ উইকেটকিপার হিসেবে ষষ্ঠ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় মুশফিকুর রহিমকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি। মুশফিক ও লিটন ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে উইকেটকিপার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি আছে কেবল খালেদ মাসুদের। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে আর উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে নামেন না মুশফিক, যিনি এই ম্যাচের একই ইনিংসে খেলেছেন ৮১ রানের চমৎকার ইনিংস। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিংয়েও গড়েন ইতিহাস। রহমত শাহর ক্যাচটি গ্লাভসবন্দী করে এক ম্যাচে ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন

লিটন। এর মাধ্যমে এক টেস্টে বাংলাদেশি উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের খালেদ মাসুদের রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি। আন্তর্জাতিক টেস্ট ইতিহাসেও লিটন গড়েছেন নতুন কীর্তি। সাউথ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসির (১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) পর বিশ্বের দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে এক টেস্টে দুটি ৫০+ রান ও ৮টি ডিসমিসালের বিরল ডাবল অর্জন করলেন তিনি। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বেশ কিছু দিন ধরেই উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, তবে টেস্ট ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকার অভাব ছিল স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ১-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ ড্র করলেও লিটনের সফরটা গিয়েছে বিষাদময়। যদিও এর আগের সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেয়েছিলেন। ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ এবং বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার

হিসেবে শীর্ষ ছয়ে ব্যাট করে এক সিরিজে অন্তত তিন ইনিংসে কোনো রান না করার তেতো স্বাদ পান তিনি। একই সঙ্গে প্রথম ইনিংসে পেয়ার (দুই ইনিংসেই শূন্য) পেয়েছিলেন, যা ২০২২ সালে তামিম ইকবালের পর কোনো বাংলাদেশি শীর্ষ সারির ব্যাটারের ক্ষেত্রে প্রথম। তা ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ে ব্যর্থ হওয়ায় সফরকারী সাংবাদিকদের কড়া প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সব চাপ কাটিয়ে আবু ধাবীর ব্যাটিংবান্ধব উইকেট লিটনের জন্য নিয়ে আসে স্বস্তির হাওয়া। প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে ক্রিজে এসে মিরাজের সঙ্গে ৫০ রান যোগ করে নিজেও দেখা পান ফিফটির। তবে মোহাম্মদ সালীমের খাটো লেন্থের বলে শট খেলতে গিয়ে ইয়ামিন

আহমাদজাইয়ের দারুণ এক ক্যাচে থামে তাঁর ইনিংস। তৃতীয় দিন বিকেলে বাংলাদেশ যখন ভালো অবস্থান থেকে আবারও ভেঙে পড়ছিল, তখন উইকেটে আসেন লিটন। দিনের শুরুটা ৫ রানে করার পর কায়েস আহমেদের বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন লিটন। টাইমিং আর নিখুঁত শট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভাগ্যের সাহায্যও পান পুরোদমে। লাঞ্চের পর ৮১ রান নিয়ে খেলা শুরু করে কায়েসকে সেই একই শটে সীমানা পার করে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে তিনি খরচ করেন ১১৫ বল। সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে গড়েন ১৪৯ রানের বড় জুটি। অবিজেয় ৫২ রান করেন মিরাজ। সপ্তম বা তার নিচের উইকেটে জুটিতে শতক ছোঁয়ার ক্ষেত্রে এটি এই জুটির

তৃতীয় সেঞ্চুরি স্ট্যান্ড, যা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো উভয় ইনিংসে ফিফটি বা তার বেশি রান করলেন লিটন। আগের তিনবারের মতোই এবারও এক ইনিংসকে রূপ দেন শতকে। নিজের ব্যাটিং ও কিপিং নিয়ে লিটন বলেন, ‘উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকাটা আমাকে সাহায্য করে, কারণ সেখান থেকে পিচের আচরণ খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। এটা পরে ব্যাটিংয়ে অনেক কাজে দেয়।’ শতক পূর্ণ করার পরপরই আউট হন লিটন, আর বাংলাদেশও তৎক্ষণাৎ ইনিংস ঘোষণা করে। তবে ততক্ষণে ভাগ্যের সহায়তা আর নিজের ব্যাটের কারিশমায় আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য এক পর্বতসমান লক্ষ্য এনে দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাফের ‘প্লে অন পিরিয়ড’ প্রকল্পের পার্টনার সেনোরা চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের দেশত্যাগ, নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানালেন চিফ প্রসিকিউটর সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐকমত্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল