ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু: ইতিহাসের আয়নায় আমাদের পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক
জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি-বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী
ডিজেলের পর এবার এলো ১৬ হাজার মেট্রিক টন ভারতীয় চাল, নামল মোংলায়
শিক্ষক রাজনীতি নাকি শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার রাজনীতি
একটি বন্দিত্ব: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের অনিবার্যতা
তেল সরবরাহে হরমুজ ঝুঁকি: ৩ লাখ টন ক্রুডের চালান নিয়ে তেহরানের দ্বারস্থ ঢাকা
আওয়ামী লীগ ফিরবেই, তবে পুরনো নাকি নতুন নেতৃত্বে— এটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন”: মাসুদ কামাল
বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন সংকটে সরকারের শেষ ভরসা
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’সহ বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’, ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘মেগা দুর্নীতির ক্ষেত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল সেসময়ের প্রধান বিরোধী দল ও বর্তমানের সরকারী দল বিএনপি।
কিন্তও এখন দেশে একের পর এক গ্রিড বিপর্যয় অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানী সংকটের সময় যখন দেশের একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নাজুক।
এ অবস্থায় বিরোধীদলে থাকতে সমালোচনা করলেও এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেই দৃশ্যপট পাল্টিয়ে ভরসা করতে চাইছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান লোডশেডিং ও উৎপাদন ঘাটতি মোকাবিলায় রূপপুরই হতে পারে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান রক্ষাকবচ।
২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির মিডিয়া সেল আয়োজিত এক সেমিনারে
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান রূপপুর প্রকল্পকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, “পরিবর্তিত বিশ্বে নিউক্লিয়ার পাওয়ারের প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। সরকার এই অপ্রয়োজনীয় জিনিস আঁকড়ে ধরে বাহাদুরি নিতে চাচ্ছে, যা একটি বাচ্চা ছেলের কাজের মতো।” বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল অভিযোগগুলো ছিলো, অত্যধিক ব্যয়, জনঘনত্ব ও ঝুঁকি, পরিবেশ বিপর্যয়। সেদিন বিএনপি দাবি করেন, ভারতের কুদামকুলান প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের ব্যয় কেন দ্বিগুণ (১২.৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের আশঙ্কা) তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০-এর বেশি মানুষ বসবাসকারী দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনাকে ‘অপরিণামদর্শী’ বলা হয়েছিল। পদ্মা নদীর পানি ব্যবহার ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিএনপির
সেই আশঙ্কার বিপরীতে বর্তমান বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত রূঢ়। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি বড় ইউনিট (৮৫০ মেগাওয়াট) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জ্বালানি আমদানিতে ডলার সংকট এবং পুরনো কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড এখন চরম চাপের মুখে। এই পরিস্থিতিতে রূপপুরের মতো একটি বিশাল বেইজ-লোড কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বৈশ্বিক বাজার ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র চালু হলে একনাগাড়ে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। যেটা গ্রিডকে স্থিতিশীলতা
দেবে। এর বিশাল সক্ষমতার ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলে আশুগঞ্জের মতো কেন্দ্র শাটডাউন হলেও দেশে বড় ধরনের হাহাকার তৈরি হবে না। জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) একবার লোড করলে দেড় থেকে দুই বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। যেটা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সেরা সমাধান। এছাড়া কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প। বিএনপি যখন এই প্রকল্পটিকে ‘অপরিণামদর্শী’ বলেছিল, তখন তাদের যুক্তিতে আর্থিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে বর্তমানের বিদ্যুৎহীন অন্ধকার রাতগুলো জানান দিচ্ছে যে, একটি বড় ও স্থায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভাব কতটা প্রকট। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রূপপুর কি পারবে বিএনপির সেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ তকমা মুছে দিয়ে দেশের কোটি মানুষের ঘরে নিরবচ্ছিন্ন আলো
পৌঁছে দিতে? দেশবাসী এখন সেই প্রত্যাশাতেই দিন গুনছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান রূপপুর প্রকল্পকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, “পরিবর্তিত বিশ্বে নিউক্লিয়ার পাওয়ারের প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। সরকার এই অপ্রয়োজনীয় জিনিস আঁকড়ে ধরে বাহাদুরি নিতে চাচ্ছে, যা একটি বাচ্চা ছেলের কাজের মতো।” বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল অভিযোগগুলো ছিলো, অত্যধিক ব্যয়, জনঘনত্ব ও ঝুঁকি, পরিবেশ বিপর্যয়। সেদিন বিএনপি দাবি করেন, ভারতের কুদামকুলান প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের ব্যয় কেন দ্বিগুণ (১২.৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের আশঙ্কা) তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০-এর বেশি মানুষ বসবাসকারী দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনাকে ‘অপরিণামদর্শী’ বলা হয়েছিল। পদ্মা নদীর পানি ব্যবহার ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিএনপির
সেই আশঙ্কার বিপরীতে বর্তমান বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত রূঢ়। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি বড় ইউনিট (৮৫০ মেগাওয়াট) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জ্বালানি আমদানিতে ডলার সংকট এবং পুরনো কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড এখন চরম চাপের মুখে। এই পরিস্থিতিতে রূপপুরের মতো একটি বিশাল বেইজ-লোড কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বৈশ্বিক বাজার ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র চালু হলে একনাগাড়ে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। যেটা গ্রিডকে স্থিতিশীলতা
দেবে। এর বিশাল সক্ষমতার ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলে আশুগঞ্জের মতো কেন্দ্র শাটডাউন হলেও দেশে বড় ধরনের হাহাকার তৈরি হবে না। জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) একবার লোড করলে দেড় থেকে দুই বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। যেটা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সেরা সমাধান। এছাড়া কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প। বিএনপি যখন এই প্রকল্পটিকে ‘অপরিণামদর্শী’ বলেছিল, তখন তাদের যুক্তিতে আর্থিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে বর্তমানের বিদ্যুৎহীন অন্ধকার রাতগুলো জানান দিচ্ছে যে, একটি বড় ও স্থায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভাব কতটা প্রকট। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রূপপুর কি পারবে বিএনপির সেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ তকমা মুছে দিয়ে দেশের কোটি মানুষের ঘরে নিরবচ্ছিন্ন আলো
পৌঁছে দিতে? দেশবাসী এখন সেই প্রত্যাশাতেই দিন গুনছে।



