বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: ১৬ মার্চ আলোচনার টেবিলে অধিকার ও চূড়ান্ত ফয়সালার ক্ষণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: ১৬ মার্চ আলোচনার টেবিলে অধিকার ও চূড়ান্ত ফয়সালার ক্ষণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬ |
১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল বাঙালি জাতির জন্য এক সন্ধিক্ষণ। ৭ মার্চের সেই কালজয়ী ঘোষণার পর থেকে পুরো বাংলা চলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে। আজ ১৬ মার্চ; ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এক নতুন মোড় নিয়েছিল। ঢাকার আকাশে তখন একদিকে আলোচনার গুঞ্জন, অন্যদিকে বারুদের গন্ধ। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি সেদিন একবিন্দুতে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, অধিকারের প্রশ্নে তারা আর পিছু হটবে না। অসহযোগ আন্দোলনের ১৬তম দিনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবনে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু তার নিজস্ব সাদা গাড়িতে চড়ে যখন বৈঠকে যাচ্ছিলেন, তার গাড়িতে উড়ছিল কালো

পতাকা—যা ছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির তীব্র প্রতিবাদের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি সেদিন কোনো দয়া ভিক্ষা করতে যায়নি, বরং সাত কোটি মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে ন্যায্য অধিকারের দাবি জানাতে গিয়েছিল। বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু যখন ৩২ নম্বরে ফিরে আসেন, তখন তার চোখে-মুখে ছিল এক দৃঢ় প্রত্যয়। ১৬ মার্চ সারা দেশ ছিল বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, সচিবালয় সব বন্ধ ছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানি শাসকরা আলোচনার আড়ালে মূলত সময়ক্ষেপণ করছিল এবং ভেতরে ভেতরে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রেখেছিল। বঙ্গবন্ধু বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই আলোচনার টেবিলে বসার পাশাপাশি তিনি বাঙালি জাতিকে প্রতিটি গ্রামে ও মহল্লায় ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের

কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি সেদিন একই সাথে কূটনীতি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি—উভয় পথেই প্রস্তুত ছিল। ১৬ মার্চ কেবল আলোচনার দিন ছিল না, ছিল রাজপথের সংগ্রামের দিনও। এদিন বিভিন্ন শিল্পী, লেখক এবং চিকিৎসক সংগঠনগুলো মিছিলে মিছিলে ঢাকাকে উত্তাল করে তুলেছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করছিল যে, আলোচনার ফল যাই হোক না কেন, বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এখন অপ্রতিরোধ্য। বঙ্গবন্ধু সেদিন প্রমাণ করেছিলেন, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি এক দুর্দমনীয় জাতির কণ্ঠস্বর। আজ ২০২৬ সালের ১৬ মার্চে দাঁড়িয়ে আমরা যখন একটি সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিক, তখন সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়। বঙ্গবন্ধু যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের

স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ আমরা সেই স্বপ্নের পথেই অগ্রসরমান। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি এক অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস। ১৬ মার্চের সেই দৃঢ় অবস্থান আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, মাথা নত না করে অধিকারের লড়াইয়ে অবিচল থাকাই বাঙালির মূল শক্তি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে তার আদর্শকে ধারণ করাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তিন ঘণ্টা বসে পাঁচ লিটার তেল, এটাই বিএনপি সরকারের কৃষিনীতি কক্সবাজারে শিশু মৃত্যুর মিছিল, কিন্তু ঢাকায় কি সেটা টের পাচ্ছে কেউ? ‘আর কখনও বিচার চাইব না’ : যে দেশে বিচার চাওয়াই অপরাধ পুলিশ হত্যার বিচার চাই! ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ খালি তাক আর মন্ত্রণালয় ভরা অজুহাত : আন্তর্জাতিক বাজারের দোষ, দেশীয় ব্যর্থতার ঢাল অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার ফুটবলের এক ম্যাচেই ২৪ লাল কার্ড রানআউট নিয়ে বিতর্ক, ছুরিকাঘাতে নিহত ক্রিকেটার ব্র্যাক ব্যাংকে নিয়োগ, থাকছে না বয়সসীমা শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হামের কাছাকাছি উপসর্গ, যা করণীয় চ্যাট না খুলেই অনলাইনে কে আছে দেখাবে এবার হোয়াটসঅ্যাপ ৬৪ বাংলাদেশিসহ ১২৭ বন্দিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের যুদ্ধের মধ্যেও খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে ইরানের ‘আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের চিঠি’ বিষয়টি নিয়ে যা জানা গেল ভোটার তালিকা সংশোধন বিল-২০২৬ পাস কতদিন চলবে যুদ্ধ, জানাল ইরানের সেনাবাহিনী নারী সেজে থাকা সেই ছাত্রদল নেতা বাস্তবে দেখতে কেমন, দেখুন ছবিতে সুকৌশলে বোতলজাত সয়াবিন উধাও করা হচ্ছে