ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ
নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা?
গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা
ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি
“হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের
নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ
প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রবাসীরা। তবে ব্যালট পেতে নিবন্ধন করা প্রবাসীর সংখ্যা কার্যত প্রকৃত ভোটারের তুলনায় খুবই সামান্য। আবার অনেকে নিবন্ধন করেও ফেরত পাঠাননি ব্যালট।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগশূন্য নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন প্রবাসীরা? একই চিত্র দেশের কারাগারগুলোতে আটক থাকা কয়েদি ভোটারদের ক্ষেত্রেও।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীর সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী সোয়া কোটি বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত।
অবশ্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) বলছে, সংখ্যাটা ১ কোটি ৪৮ লাখের বেশি। আবার একই বছরের সেপ্টেম্বর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক
কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানিয়েছিলেন, বিদেশে বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ। এই সংখ্যা কেবল চাকরি সূত্রে বিদেশে যাওয়া প্রবাসীর সংখ্যা। ইউরোপ ও আমেরিকার বহুদেশে শিক্ষার্থী হিসেবে পাড়ি দেওয়াদের কর্মজীবী হিসেবে গণনা হয় না, কিংবা তাদের ‘স্পাউসরা’ এই সংখ্যার মধ্যে পড়েন না। ফলে এটি স্পষ্ট যে প্রকৃত প্রবাসীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। গত ৬ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নির্ধারিত ৫ জানুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন করেছেন সাত লাখ ৬১ হাজার ১৩৮
জন প্রবাসী বাংলাদেশি। যদি ধরেও নেওয়া হয় মোট ‘১ কোটি ৫৫ লাখ’ প্রবাসী ভোটার রয়েছেন বিভিন্ন দেশে, তাতেও ভোটার সুযোগ পেয়েও ৯৫.০৯ শতাংশ ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখাননি বলেই প্রতীয়মান। রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬ জনের ভোট প্রদানের তথ্য দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। সে হিসেবে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত ভোটারের ৩৮.৩৭ শতাংশের মতো ভোটারের ভোট জমা পড়েনি। হিসেব অনুযায়ী, নিবন্ধন করেও একটি বড় সংখ্যা ভোট দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। প্রবাসীরা কী বলছেন প্রবাসে থাকা বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বিদেশে বসে দেশের ভোটে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন; অনেকেই বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশফাক বিন
মুস্তফা বলেন, “আমি ভাই রাজনীতি-টাজনীতি বুঝি না। নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর পরই নিবন্ধন সেরে ফেলেছিলাম। ব্যালটও পেয়েছি। কিন্তু এখন আর ভোট দিচ্ছি না। ব্যালট পাঠাইনি। মধ্যপ্রাচ্যে যা দেখেছি তাতে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাটা আর নেই।” মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারসাজির বেশ কিছু ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে। সেসব ঘটনায় দেখা গেছে, এক জনের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শত শত ব্যালট। কোথাও কোথাও একজনের ব্যালটে আরেকজন ভোট দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা আশফাক লন্ডনে গিয়েছিলেন স্টুডেন্ট ভিসায়। এরপর সেখানেই স্থায়ী হন। বর্তমানে একটি নামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন বর্জনের ডাক তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে কিনা জানতে
চাওয়া হলে ‘না সূচক’ জবাব দেন তিনি। “যখন নিবন্ধন করি তখন ভেবেছি সুযাগটা শুধু শুধু কেন হাতছাড়া করবো। তাছাড়া সিলেটে আমাদের আসনে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাই ভোটটা দিতে চেয়েছিলাম,” যোগ করেন তিনি। যুক্তরাজ্য থেকে ৩২ হাজার ২৯৯ জন নিবন্ধন করলেও ২১ হাজার ৬৪২ জন ভোট দিয়েছেন। নিবন্ধন করেও যে ৩৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি আশফাক তাদেরই একজন। ফিনল্যান্ডের বাসিন্দা সানিয়া সিরাজ জানিয়েছেন, শুরু থেকেই এই নির্বাচনের প্রতি তার কোনো আগ্রহ জন্মায়নি। “দেখেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে। এখন এসে যদি দেখি আমার ভোট দেওয়ারই দল নেই, আমার অধিকার প্রয়োগের দেশ নেই, সেখানে আমার
কীসের প্রয়োজন? “ভোট তো দূরের বিষয়, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি না হলে তো অটোমেটিক মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। যাদের দেখছি তারা তো দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চাচ্ছে। আমি আমার বাবার নৌকাতেই আছি। তাই নিবন্ধনের প্রশ্নই আসে না।” ফিনল্যান্ডে আনুমানিক দশ হাজারের মতো বাংলাদেশি রয়েছে। যাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৪৮ জন নিবন্ধন করেছিলেন, ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৯০৪ জন। ভোট বর্জনের কথা সরাসরি জানালেন সুইডেন প্রবাসী কবি ও কলামিস্ট আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, এই সাজানো পাতানো নির্বাচন নিয়ে সরকারের যেমন রাখঢাক নেই, বর্জনের বিষয়েও আমার কোনো রাখঢাক নেই। “প্রায় দুই কোটি প্রবাসীর কয়জন ভোট দিয়েছে বলেন? কেন দেয়নি? যদি ভাবেন শুধু আওয়ামী লীগের কারণেই তারা ভোট বর্জন
করছে, তা কিন্তু নয়। ভোট বর্জন করছে কারণ মুহাম্মদ ইউনূস মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারেননি, দেশটাকে ধ্বংসের অংশীদার কেন আমি হবো!” আমেরিকার টেনেসির বাসিন্দা শৈবাল ভৌমিক জানিয়েছেন, তিনি নিবন্ধন করেছিলেন, তবে পোস্টাল ব্যালট তার হাতে গিয়ে পৌঁছেনি। “সত্যি বলতে নিবন্ধন করেছিলাম আদৌ তারা ব্যালট পাঠাবে কিনা তা দেখার জন্য। আমি ও আমার স্ত্রী নিবন্ধন করেছিলাম।তবে আমাদের কারো কাছেই ব্যালট আসেনি। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের অনেকেই সন্দিহান তাদের ভোট গণনা করা হবে কিনা, বা যাকে দিয়েছেন তার পক্ষে পড়বে কিনা।” “সত্যিকার অর্থে আমার কাছে এখন এই নির্বাচনকে ভোট ভোট খেলা মনে হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ হাজার ৭৯৯ জন নিবন্ধন (অনুমোদিত) করলেও ভোট দিয়েছেন ১৭ হাজার ৩২১ জন, শতকরা হিসেবে ৪৪ শতাংশ নিবন্ধন সেরেও ভোট দেননি। সাড়া নেই কারাগারে প্রবাসীদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কারাগার থেকেও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। তবে এ উদ্যোগে সাড়া মেলেনি ৯৩ শতাংশ বন্দির কাছ থেকে। সারা দেশে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র চার হাজার ৫৩৮ জন। বন্দিদের অনেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় ভোটে অংশ নেননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। তবে এনআইডি কার্ড না থাকাসহ দুটি কারণে বন্দিদের নিবন্ধনসহ ভোটে অংশগ্রহণ কম বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারাগারে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শনিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, পরদিন ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ ও গতকাল শনিবার ৪৭১ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। রোববারও বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ছয় হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল করে বৈধ নিবন্ধন দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। “শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারের ৪ হাজার ৫৩৮ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। বাকিদের ভোটগ্রহণে আরও এক দিন (রোববার) সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।” ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর এক নজিরবিহীন নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। স্থগিত করা হয় নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন। এ অবস্থায় দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি সরকার। আর নৌকা প্রতীক ছাড়া ব্যালটে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি।
কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানিয়েছিলেন, বিদেশে বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ। এই সংখ্যা কেবল চাকরি সূত্রে বিদেশে যাওয়া প্রবাসীর সংখ্যা। ইউরোপ ও আমেরিকার বহুদেশে শিক্ষার্থী হিসেবে পাড়ি দেওয়াদের কর্মজীবী হিসেবে গণনা হয় না, কিংবা তাদের ‘স্পাউসরা’ এই সংখ্যার মধ্যে পড়েন না। ফলে এটি স্পষ্ট যে প্রকৃত প্রবাসীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। গত ৬ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নির্ধারিত ৫ জানুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন করেছেন সাত লাখ ৬১ হাজার ১৩৮
জন প্রবাসী বাংলাদেশি। যদি ধরেও নেওয়া হয় মোট ‘১ কোটি ৫৫ লাখ’ প্রবাসী ভোটার রয়েছেন বিভিন্ন দেশে, তাতেও ভোটার সুযোগ পেয়েও ৯৫.০৯ শতাংশ ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখাননি বলেই প্রতীয়মান। রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬ জনের ভোট প্রদানের তথ্য দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। সে হিসেবে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত ভোটারের ৩৮.৩৭ শতাংশের মতো ভোটারের ভোট জমা পড়েনি। হিসেব অনুযায়ী, নিবন্ধন করেও একটি বড় সংখ্যা ভোট দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। প্রবাসীরা কী বলছেন প্রবাসে থাকা বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বিদেশে বসে দেশের ভোটে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন; অনেকেই বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশফাক বিন
মুস্তফা বলেন, “আমি ভাই রাজনীতি-টাজনীতি বুঝি না। নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর পরই নিবন্ধন সেরে ফেলেছিলাম। ব্যালটও পেয়েছি। কিন্তু এখন আর ভোট দিচ্ছি না। ব্যালট পাঠাইনি। মধ্যপ্রাচ্যে যা দেখেছি তাতে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাটা আর নেই।” মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারসাজির বেশ কিছু ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে। সেসব ঘটনায় দেখা গেছে, এক জনের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শত শত ব্যালট। কোথাও কোথাও একজনের ব্যালটে আরেকজন ভোট দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা আশফাক লন্ডনে গিয়েছিলেন স্টুডেন্ট ভিসায়। এরপর সেখানেই স্থায়ী হন। বর্তমানে একটি নামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন বর্জনের ডাক তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে কিনা জানতে
চাওয়া হলে ‘না সূচক’ জবাব দেন তিনি। “যখন নিবন্ধন করি তখন ভেবেছি সুযাগটা শুধু শুধু কেন হাতছাড়া করবো। তাছাড়া সিলেটে আমাদের আসনে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাই ভোটটা দিতে চেয়েছিলাম,” যোগ করেন তিনি। যুক্তরাজ্য থেকে ৩২ হাজার ২৯৯ জন নিবন্ধন করলেও ২১ হাজার ৬৪২ জন ভোট দিয়েছেন। নিবন্ধন করেও যে ৩৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি আশফাক তাদেরই একজন। ফিনল্যান্ডের বাসিন্দা সানিয়া সিরাজ জানিয়েছেন, শুরু থেকেই এই নির্বাচনের প্রতি তার কোনো আগ্রহ জন্মায়নি। “দেখেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে। এখন এসে যদি দেখি আমার ভোট দেওয়ারই দল নেই, আমার অধিকার প্রয়োগের দেশ নেই, সেখানে আমার
কীসের প্রয়োজন? “ভোট তো দূরের বিষয়, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি না হলে তো অটোমেটিক মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। যাদের দেখছি তারা তো দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চাচ্ছে। আমি আমার বাবার নৌকাতেই আছি। তাই নিবন্ধনের প্রশ্নই আসে না।” ফিনল্যান্ডে আনুমানিক দশ হাজারের মতো বাংলাদেশি রয়েছে। যাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৪৮ জন নিবন্ধন করেছিলেন, ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৯০৪ জন। ভোট বর্জনের কথা সরাসরি জানালেন সুইডেন প্রবাসী কবি ও কলামিস্ট আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, এই সাজানো পাতানো নির্বাচন নিয়ে সরকারের যেমন রাখঢাক নেই, বর্জনের বিষয়েও আমার কোনো রাখঢাক নেই। “প্রায় দুই কোটি প্রবাসীর কয়জন ভোট দিয়েছে বলেন? কেন দেয়নি? যদি ভাবেন শুধু আওয়ামী লীগের কারণেই তারা ভোট বর্জন
করছে, তা কিন্তু নয়। ভোট বর্জন করছে কারণ মুহাম্মদ ইউনূস মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারেননি, দেশটাকে ধ্বংসের অংশীদার কেন আমি হবো!” আমেরিকার টেনেসির বাসিন্দা শৈবাল ভৌমিক জানিয়েছেন, তিনি নিবন্ধন করেছিলেন, তবে পোস্টাল ব্যালট তার হাতে গিয়ে পৌঁছেনি। “সত্যি বলতে নিবন্ধন করেছিলাম আদৌ তারা ব্যালট পাঠাবে কিনা তা দেখার জন্য। আমি ও আমার স্ত্রী নিবন্ধন করেছিলাম।তবে আমাদের কারো কাছেই ব্যালট আসেনি। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের অনেকেই সন্দিহান তাদের ভোট গণনা করা হবে কিনা, বা যাকে দিয়েছেন তার পক্ষে পড়বে কিনা।” “সত্যিকার অর্থে আমার কাছে এখন এই নির্বাচনকে ভোট ভোট খেলা মনে হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ হাজার ৭৯৯ জন নিবন্ধন (অনুমোদিত) করলেও ভোট দিয়েছেন ১৭ হাজার ৩২১ জন, শতকরা হিসেবে ৪৪ শতাংশ নিবন্ধন সেরেও ভোট দেননি। সাড়া নেই কারাগারে প্রবাসীদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কারাগার থেকেও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। তবে এ উদ্যোগে সাড়া মেলেনি ৯৩ শতাংশ বন্দির কাছ থেকে। সারা দেশে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র চার হাজার ৫৩৮ জন। বন্দিদের অনেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় ভোটে অংশ নেননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। তবে এনআইডি কার্ড না থাকাসহ দুটি কারণে বন্দিদের নিবন্ধনসহ ভোটে অংশগ্রহণ কম বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারাগারে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শনিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, পরদিন ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ ও গতকাল শনিবার ৪৭১ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। রোববারও বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ছয় হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল করে বৈধ নিবন্ধন দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। “শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারের ৪ হাজার ৫৩৮ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। বাকিদের ভোটগ্রহণে আরও এক দিন (রোববার) সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।” ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর এক নজিরবিহীন নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। স্থগিত করা হয় নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন। এ অবস্থায় দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি সরকার। আর নৌকা প্রতীক ছাড়া ব্যালটে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি।



