নিরন্তর টিকে থাকার লড়াই কুতুবদিয়া দ্বীপবাসীর – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৫

আরও খবর

সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর!

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আসলে ‘বাণিজ্য অস্ত্র’, দেশকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র: মাহবুব কামাল

‘নতুন বন্দোবস্তের’ ফল মিলতে শুরু করেছে, সরকার ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে: মোহাম্মদ আলী আরাফাত

নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক দেখতে সাধারণ কলম, আসলে ভয়ংকর পিস্তল! পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের হাতে আসছে নতুন অস্ত্র

নিরন্তর টিকে থাকার লড়াই কুতুবদিয়া দ্বীপবাসীর

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৫ |
কক্সবাজার উপকূলে বঙ্গোপসাগরের কোলে ছোট্ট এক দ্বীপ কুতুবদিয়া। চারপাশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দিনের পর দিন ছোট হয়ে আসছে দ্বীপটির আয়তন। ফলে এ উপজেলার মানুষের জীবন ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। কখনো জোয়ারের পানি, কখনো ঘূর্ণিঝড়, আবার কখনো সুপেয় পানি ও উন্নত চিকিৎসার অভাব-সব মিলিয়ে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জীবন পার করছেন দ্বীপবাসী। তবুও এই সংগ্রামের মাঝেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তারা। দ্বীপের জনজীবন উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তারা পিছিয়ে পড়েছেন। দ্বীপবাসীর প্রধান দাবি-টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উন্নত চিকিৎসা সেবা। যোগাযোগ ব্যবস্থাও এখানে অপ্রতুল। আটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের দেখা মেলে

না। ভাঙনে ছোট হচ্ছে কুতুবদিয়া : গত ৩০ বছরে দ্বীপের চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কুতুবদিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ ভূমি সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশও জোয়ারের চাপে প্রতিদিন ক্ষয়ে যাচ্ছে। ধলঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলেবেলায় যে বাড়ি ছিল, তা এখন সাগরে বিলীন। এখন সেখানে মাছ ধরার ট্রলার চলে। একটা গ্রামই হারিয়ে গেছে। তিন সন্তান নিয়ে পাশের একটি উঁচু জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর বানিয়ে থাকি। তবুও মনে সবসময় আতঙ্ক-কখন যে এই ঘরটিও ভেঙে যায়! সুপেয় পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা : কুতুবদিয়ায় ভূগর্ভস্থ পানি কোনো সময় লবণাক্ত, কোনো সময় মিঠা। তাও সরাসরি পানের উপযোগী নয়। দ্বীপে নেই

কোনো পানি শোধনাগার। তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলো বৃষ্টির পানি ট্যাংকে জমিয়ে রাখে। বাকিরা এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে কলসি ভরে পানি আনেন। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তরুণী হালিমা বেগম ও তসলিমা আক্তার বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টায় কলসি নিয়ে যাই। অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। লাইন শেষে অনেক সময় লবণাক্ত পানি উঠে, তখন খালি হাতে ফিরে আসতে হয়। নেই উন্নত চিকিৎসা সেবা : দ্বীপে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও উন্নত চিকিৎসা নেই। ভালো ডাক্তার এখানে থাকতে চান না। হাসপাতালেও জনবল সংকট প্রকট। রাতবিরাতে জটিল রোগ হলে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম যেতে হয়। বড়ঘোপ ইউনিয়নের সাদ্দাম হোসেন বলেন,

আমার মা স্ট্রোক করেছিলেন। চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য ট্রলারে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা যান। ৭৬ বছর বয়সী মুক্তার হোসেন জানান, গত ৫০ বছরে চিকিৎসার অভাবে মাঝসমুদ্রে অসংখ্য প্রাণ ঝরে গেছে। এ ধরনের শতাধিক ঘটনার সাক্ষী তিনি নিজে। সাগরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ : বড়ঘোপ ইউনিয়নের পশ্চিম রোমাই পাড়ার মমতাজ বেগম (৫০) সাগরের তাণ্ডবে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। স্বামীর শেষ সম্বল বসতভিটা এক দশক আগে সাগরে বিলীন হয়েছে। আগে এখানে ৫ শতাধিক পরিবারের বসতি ছিল। এখন মাত্র কয়েকটি ঘর অবশিষ্ট। অভাবের সংসারে একমাত্র ছেলে রিকশাচালক। নতুন বসতভিটা কেনার সামর্থ্য নেই। তাই সাগরপাড়েই ছোট্ট ঘর তুলে কোনোভাবে বেঁচে আছেন। বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক

বলেন, গত অমাবস্যার জোয়ারে ২০-২৫টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। আগামী পূর্ণিমার আগে ব্যবস্থা না নিলে আরও ৩০-৪০টি বাড়ি হারিয়ে যাবে। বিদ্যুৎ খুঁটিও পড়ে গেছে, কিন্তু প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়ায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়। পরবর্তী সময়ে ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো কয়েক হাজার মানুষ কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে আশ্রয় নেন। সেই এলাকা এখন ‘কুতুবদিয়া পাড়া’ নামে পরিচিত। এত বছর পেরিয়ে গেলেও টেকসই বেড়িবাঁধ হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বেড়িবাঁধ। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় দ্বীপের আয়তন কমছে। মানুষ ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারাচ্ছে। এ জন্য বরাদ্দের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, সুপেয় পানির সংকট

দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় জনস্বাস্থ্যের মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে। কাজ শেষ হলে মাত্র ৫০ পয়সা বা নামমাত্র মূল্যে কার্ড/মিটার সিস্টেমে পানি পাওয়া যাবে। এছাড়া দীর্ঘদিনের দাবি ফেরি সেবা চালুর বিষয়েও চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত শিশু সাদমানকে, মরদেহ নিয়ে ফেরার ছবি ভাইরাল ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান ৫ বিভাগে শিলাবৃষ্টির আভাস সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ২৫ হাজার ৪০৮ জন অনুপস্থিত, বহিষ্কৃত ৬ লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আসলে ‘বাণিজ্য অস্ত্র’, দেশকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র: মাহবুব কামাল ‘নতুন বন্দোবস্তের’ ফল মিলতে শুরু করেছে, সরকার ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে: মোহাম্মদ আলী আরাফাত নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক দেখতে সাধারণ কলম, আসলে ভয়ংকর পিস্তল! পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের হাতে আসছে নতুন অস্ত্র অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে আইপিইউর উদ্বেগ, সমর্থন জানাল আরআরএজিও ‘নোবেলের টাকা ও কর নিয়ে ইউনূস মারাত্মক অ্যালার্জি আছে’, দাবি সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের ১৮ মাস কারাবন্দী ডাবলু সরকার মায়ের মৃত্যুতেও প্যারোল মেলেনি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উন্মত্ত জনতাকে দিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার ‘গোপন ব্লু-প্রিন্ট’ ছিল ৫ আগস্ট: নর্থইস্ট নিউজ আওয়ামী লীগ নেতাদের সিম বন্ধ করে বিক্রির ‘বাণিজ্য’, ছাত্রলীগ নেতা জাকিরের চাঞ্চল্যকর দাবি