জুমার দিনের অফুরন্ত ফজিলত ও বরকতময় আমল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ October, ২০২৬

জুমার দিনের অফুরন্ত ফজিলত ও বরকতময় আমল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ October, ২০২৬ |
সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমা বা জুমাবার হলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ একটি দিন। মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত-বন্দেগি এবং মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে এই পবিত্র দিনটি। জুমার দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর বিশেষ ফজিলত এবং বরকতময় আমলগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। ১. শ্রেষ্ঠ দিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে উম্মতে মুহাম্মদীর অগ্রগামিতা আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিনে বিশেষ ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সঠিক দিন নির্ণয় করতে ভুল করেছিল। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রোববারকে নির্ধারণ করেছিল, আর আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদীকে জুমার দিনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)

বলেছেন— نَحْنُ الآخِرُونَ السّابِقُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، بَيْدَ أَنّهُمْ أُوتُوا الكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، ثُمّ هَذَا يَوْمُهُمُ الّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللهُ، فَالنّاسُ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ: اليَهُودُ غَدًا، وَالنّصَارَى بَعْدَ غَدٍ ‘আমরা পরে আগমনকারীরাই কিয়ামতের দিন অগ্রগামী হব। তবে অন্যদেরকে (আসমানি) কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। এই দিন তাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিস্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার।’ (বুখারি ৮৭৬, মুসলিম ৮৫৫) ২. জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য জুমার দিনটি সমস্ত

দিনের সর্দার এবং শ্রেষ্ঠ দিবস। এই দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বদরি সাহাবি আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ، فِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ: خَلَقَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَأَهْبَطَ اللهُ فِيهِ آدَمَ، وَفِيهِ تَوَفّى اللهُ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللهَ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلّا أَعْطَاهُ إِيّاهُ، مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السّاعَةُ، مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرّبٍ، وَلَا أَرْضٍ وَلَا سَمَاءٍ، وَلَا رِيَاحٍ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَحْرٍ، إِلّا وَهُنّ مُشْفِقُونَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে

সবচেয়ে মহান দিন। এমনকি এই দিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান। জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে— এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন তাকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এদিনেই আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, যাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা তাকে তা-ই দান করবেন, যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা পর্যন্ত জুমার দিন (কিয়ামতের আশঙ্কায়) ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। পৃথিবী, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, সাগর সবকিছু জুমার দিন (কিয়ামতের আশঙ্কায়) উদ্বিগ্ন থাকে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা

৫৫৫৯, মুসনাদে আহমাদ ১৫৫৪৮, ইবনে মাজাহ ১০৮৪১) ৩. জুমার রাতে বান্দার আমল পেশ করা হয় জুমার রাতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই রাতে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِعِ رَحِمٍ. ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অর্থাৎ জুমারাতে আদম সন্তানের আমল (আল্লাহর সামনে) পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের আমল কবুল করা হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ১০২৭২, আদাবুল মুফরাদ ৬১২) ৪. জান্নাতের ‘ইয়াউমুল মাজিদ’ বা অনন্য প্রাপ্তি দিবস জান্নাতবাসীদের জন্য জুমার দিনটি মহা আনন্দ ও দীদার লাভের দিন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)

বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— أَتَانِي جِبْرِيلُ بِمِثْلِ المِرْآةِ البَيْضَاءِ، فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، قُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ! مَا هَذِهِ؟ قَالَ: هَذِهِ الجُمُعَةُ، جَعَلَهَا اللهُ عِيدًا لَكَ وَلأُمّتِكَ، فَأَنْتُمْ قَبْلَ اليَهُودِ وَالنّصَارَى، فِيهَا سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبدٌ يَسْأَلُ اللهَ فِيهَا خَيْرًا إِلاّ أَعْطَاهُ إِيّاهُ. قَالَ: قُلْتُ: مَا هَذِهِ النّكْتَةُ السّوْدَاءُ؟ قَالَ: هَذَا يَوْمُ القِيَامَةِ، تَقُومُ فِي يَوْمِ الجُمُعَةِ، وَنَحْنُ نَدْعُوهُ عِنْدَنَا المَزِيدَ، قَالَ: قُلْتُ: مَا يَوْمُ المَزِيدِ؟ قَالَ: إِنّ اللهَ جَعَلَ فِي الجَنّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ، وَجَعَلَ فِيهِ كُثْبَانًا مِنَ المِسْكِ الأَبْيَضِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الجُمُعَةِ يَنْزِلُ اللهُ فِيهِ، فَوُضِعَتْ فِيهِ مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ لِلأَنْبِيَاءِ، وَكَرَاسِيّ مِنْ دُرٍّ لِلشّهَدَاءِ، وَيَنْزِلْنَ الحُورُ العِينُ مِنَ الغُرَفِ فَحَمِدُوا اللهَ وَمَجّدُوهُ. قَالَ: ثُمَّ

يَقُولُ اللهُ: اكْسُوا عِبَادِي، فَيُكْسَوْنَ، وَيَقُولُ: أَطْعِمُوا عِبَادِي، فَيُطْعَمُونَ، وَيَقُولُ: اسْقُوا عِبَادِي، فَيُسْقَوْنَ، وَيَقُولُ: طَيَّبُوا عِبَادِي فَيُطَيّبُونَ. ثُمَّ يَقُولُ: مَاذَا تُرِيدُونَ؟ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا رِضْوَانَكَ، قَالَ: يَقُولُ: رَضِيتُ عَنْكُمْ، ثُمَّ يَأْمُرُهُمْ فَيَنْطَلِقُونَ، وَتَصْعَدُ الحُورُ العِينُ الغُرَفَ، وَهِيَ مِنْ زُمُرُّدَةٍ خَضْرَاءَ، وَمِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ জিবরিল (আ.) আমার কাছে এসেছেন শুভ্র আয়নার মত একটা জিনিস নিয়ে। আয়নাটিতে একটি কালো দাগ। আমি বললাম, এটা কী? জিবরিল (আ.) বলেছেন, এটি হল জুমার দিন। এ দিনকে আল্লাহ তাআলা আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আপনারা ইহুদি ও নাসারা থেকে অগ্রগামী। (তাদের বিশেষ ইবাদতের দিন যথাক্রমে শনিবার ও রোববার, যা জুমার দিনের পরে আসে।) এই দিন একটা সময় আছে, যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যে কল্যাণই প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন। নবীজি (সা.) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, জুমার দিনকে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হল কেন? জিবরিল (আ.) জবাব দিয়েছেন, এই যে কিয়ামত দিবস তা এ দিনেই সংঘঠিত হবে। আখেরাতেও জুমার দিনকে আমরা ‘ইয়াউমুল মাজিদ’ নামে স্মরণ করব। নবীজি (সা.) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, ‘ইয়াউমুল মাজিদ’ কী? জিবরিল (আ.) উত্তর দিয়েছেন, জান্নাতে আল্লাহ তাআলা প্রশস্ত ও সুগন্ধময় একটা উপত্যকা বানিয়েছেন এবং এতে তিনি শুভ্র মেশকের একাধিক টিলা স্থাপন করেছেন। জুমার দিন এলে আল্লাহ তাআলা এ উপত্যকায় অবতরণ করবেন। তখন সেখানে নবীগণের জন্য স্বর্ণের মিম্বরসমূহ রাখা হবে, শহীদগণের জন্য মুক্তার অনেক চেয়ার পাতা হবে এবং জান্নাতী হুরেরা আপন আপন কক্ষ থেকে অবতরণ করবে। এরপর সকলে মিলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও মাহাত্ম্যের স্তুতি গাইতে থাকবে। জিবরিল (আ.) আরও বলেন, এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, (হে ফেরেশতারা!) আমার বান্দাদের (বিশেষ পোশাক) পরিধান করাও। সে অনুযায়ী তাদের সজ্জিত করা হবে। তখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেবেন, আমার বান্দাদের জন্য (বিশেষ) খাদ্য পরিবেশন কর। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদের জন্যই বিশেষ ভোজনের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার বান্দাদের সামনে (বিশেষ) পানীয় উপস্থিত কর। সে হিসাবে তাদের সামনে পানীয় পরিবেশন করা হবে। এরপর আল্লাহ তাআলার আদেশ, আমার বান্দাদের আতর-খোশবু লাগিয়ে দাও। তখন তাদেরকে সুরভিত করা হবে। এবার আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, (হে আমার বান্দারা!) তোমরা আমার কাছে কী চাও? তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা কেবল আপনার রিযা ও সন্তুষ্টি কামনা করি। আল্লাহ তাআলা উত্তর দেবেন, আমি তোমাদের প্রতি রাজি হয়ে গেছি। (তবারানির বর্ণনায় আছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন এমন নিআমতের দ্বার উন্মুক্ত করবেন, যা কখনো কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো হৃদয় কল্পনা করেনি।) তারপর সবাইকে নিজ নিজ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করবেন। সকলে আপন আপন জান্নাতে চলে যাবে এবং হুরেরা ঐসব কক্ষে আরোহণ করবে, যার প্রত্যেকটিই সবুজ (মূল্যবান রত্ন) পান্না বা লাল ইয়াকুতের তৈরি। (মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪২২৮, তবারানি ৩/৫৫, ২১০৫৪) ৫. এক জুমা থেকে আরেক জুমা গুনাহ মাফ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— الْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، كَفّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنّ، مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ ‘এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফ্ফারা (পাপমোচনকারী), যদি কাবীরা গুনাহ না করা হয়।’ (মুসলিম ২৩৩, ইবনে মাজাহ ১০৮৬) ৬. দশ দিনের গুনাহ মাফ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন— مَنْ تَوَضّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ، وَمَنْ مَسّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করবে, এরপর জুমায় উপস্থিত হবে, তারপর মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শুনবে এবং চুপ থাকবে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনগুলো এবং আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম ৮৫৭, আবু দাউদ ১০৫০, মুসনাদে আহমাদ ৯৪৮৪, ইবনে হিব্বান ১২৩১) ৭. পবিত্রতা ও নীরবতার ফজিলত হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ...مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَطَهّرُ ثُمّ يَمْشِي إِلَى الْمَسْجِدِ، ثُمّ يُنْصِتُ، حَتّى يَقْضِيَ الْإِمَامُ صَلَاتَهُ، إِلّا كَانَتْ كَفّارَةَ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الّتِي قَبْلَهَا، مَا اجْتُنِبَتِ الْمَقْتَلَةُ অর্থ: ‘...কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গোনাহসমূহের কাফ্ফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (ইবনে খুজায়মা ১৭৩২, মুসনাদে আহমাদ ২৩৭২৯) জুমার দিনের আমল জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল হলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জুমার নামাজ আদায় করা। ভালোভাবে পবিত্র হয়ে, পরিষ্কার ও উত্তম জামা-কাপড় পরে প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়া, খুতবা শোনা এবং নামাজ ও জিকিরে মগ্ন থাকা। এ বিষয়ে হাদিস শরিফে বিভিন্ন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে— ১. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া খুতবা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মসজিদে পৌঁছানো বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, এর সওয়াব তত বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَن اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً... ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি, যে একটি গাভী কুরবানি করে। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। এরপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি ৯২৯) ২. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া যানবাহনের সহজলভ্যতার যুগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস প্রায় উঠেই গেছে। অথচ সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে জুমার নামাজে যাওয়ার রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি— مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ... ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কথা বলবে না, সে মসজিদে আসার প্রতি কদমে এক বছর রোজা ও এক বছর রাতের ইবাদতের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ ৩৪৫) ৩. গোসল, মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি ব্যবহার আজকাল সাবান বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা হলেও ‘মিসওয়াক’ একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত, যা অনেকে অবহেলা করেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِسَاكٌ وَيَمَسُّ مِنْ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ ‘জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে।’ (মুসলিম ৮৪৬) ৪. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা জুমার দিনের অন্যতম বরকতময় আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النَّوْرِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হয়ে থাকবে।’ (বাইহাকি ৫৭৯৩) ৫. আসরের পর বিশেষ দরুদের আমল জুমার দিন আসরের নামাজের পর নির্দিষ্ট একটি দরুদ পাঠ করার বিষয়ে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন— مَنْ صَلَّى عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ ثَمَانِينَ مَرَّةً غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُ ثَمَانِينَ عَامًا وَكُتِبَتْ لَهُ عِبَادَةُ ثَمَانِينَ سَنَةً ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর সেই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।’ (আফদালুস সালাওয়াত, পৃষ্ঠা ২৬) দরুদ শরিফটি হলো— اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّمْ تَسْلِيمًا উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।’ ৬. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত অনুসন্ধান করা জুমার দিনে এমন একটি অমূল্য মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই কবুল করা হয়। এ মহামূল্যবান সময়ের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন থাকে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫) জুমার দিনটি মুমিন মুসলমানের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা অর্জনের এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। শরিয়ত নির্দেশিত নিয়ম ও আমলগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই কেবল এই দিনের প্রকৃত বরকত ও ফজিলত লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের পবিত্রতা রক্ষা করার এবং প্রতিটি আমল সঠিকভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন। লেখক: ইসলামিক স্কলার, মুফাচ্ছিরে কুরআন ও পীরসাহেব, শাজুলিয়া দরবার শরিফ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিয়ের পাত্র খুঁজতে তরুণীর অভিনব কাণ্ড বিমানের ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত, অধরা ব্যাগেজ কন্ট্রোলার সাখাওয়াত অসুস্থ গরুর গোশত বিক্রির চেষ্টা, ২ কসাইয়ের কারাদণ্ড ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারে নতুন বাস্তবতার মুখে কুর্দি বাহিনী ইন্দোনেশিয়াকে ২ গোল দিয়ে ৯ গোল খেল বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সুখবর মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির তিন শিক্ষকের পদাবনতি জুমার দিনের অফুরন্ত ফজিলত ও বরকতময় আমল পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন এবার সেলিব্রেটিদের নিয়ে ‘হ্যালো সুপারস্টারস’ কলা কখন খেলে শরীরের জন্য উপকার জনবল নেবে প্রাইম ব্যাংক, থাকছে না বয়সসীমা একবার শুধু নিজেদের জন্য ব্যায়াম না করেও যে কৌশলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কৌশলের পুনরাবৃত্তি খেলাপি ঋণের সংকট ও সমাধান ছন্দে ছন্দে গণহত্যার ইতিহাস রাবি শিবিরের ভয়াবহ গুন, মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায়: আম্মার