ইরানে নজিরবিহীন খরা, তেহরানে তীব্র পানি সংকট – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ নভেম্বর, ২০২৫
     ৭:২৭ অপরাহ্ণ

ইরানে নজিরবিহীন খরা, তেহরানে তীব্র পানি সংকট

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ নভেম্বর, ২০২৫ | ৭:২৭ 75 ভিউ
ইরান এই শরতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী তেহরান মারাত্মক পানি সংকটে ভুগছে। রেকর্ড পরিমাণ কম বৃষ্টিপাত ও প্রায় খালি জলাধারের কারণে দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পানি সাশ্রয়ে অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করেছেন, শিগগির পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে তেহরানের পানির সরবরাহ রেশনিং করতে হবে। তবে তিনি আরও বলেছেন, কেবল রেশনিং করেও বিপর্যয় ঠেকানো নাও যেতে পারে। “যদি রেশনিং কার্যকর না হয়,” তিনি বলেন, “তাহলে আমাদের তেহরান খালি করার কথাও ভাবতে হতে পারে।” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক তেহরান মেয়র গোলামহোসেইন কারবাসচি একে “রসিকতা” বলে উল্লেখ

করেন এবং বলেন, “তেহরান খালি করা অবাস্তব।” ইরানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১০ দিনে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ইতোমধ্যে রাজধানীতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পানির অভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক নারী বিবিসি পারসিয়ানকে বলেন, “আমি টয়লেট ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য পানির ট্যাংকার কেনার কথা ভাবছি।” গ্রীষ্মে ইরানি র‍্যাপার ভাফা আহমদপুর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় তার রান্নাঘরের কল শুকিয়ে গেছে। “চার-পাঁচ ঘণ্টা হয়ে গেছে,” তিনি বলেন, “আমি টয়লেটে যাওয়ার জন্য বোতলজাত পানি কিনেছি।” তেহরানের প্রধান পানির উৎস লাতিয়ান বাঁধ বর্তমানে ধারণক্ষমতার ১০ শতাংশেরও কম পানি ধরে রেখেছে। কাছের কারাজ বাঁধের অবস্থা আরও করুণ। কারাজ বাঁধের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ-আলি মোআল্লেম জানান, গত

বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাত ৯২ শতাংশ কমেছে এবং বাঁধের মাত্র আট শতাংশ পানি অবশিষ্ট রয়েছে, যার বেশিরভাগই ‘ডেড ওয়াটার’। জলশূন্যতার আশঙ্কায় সরকার এখন দেরি শরতের বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু পূর্বাভাস আশাব্যঞ্জক নয়। শক্তি মন্ত্রী আব্বাস আলি আবাদি জানিয়েছেন, পানির ঘাটতি মোকাবিলায় রাতের বেলায় কিছু এলাকায় সম্পূর্ণভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার পরিকল্পনাও করছে সরকার। আবাদি আরও বলেন, তেহরানের সংকটের জন্য কেবল বৃষ্টির অভাব দায়ী নয়; পুরনো পাইপলাইন থেকে লিকেজ ও সাম্প্রতিক ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষও পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। গত জুনে তেহরানের তাজরিশ এলাকায় ইসরায়েলি হামলার পর সেখানে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছিল। তেহরান ছাড়াও পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব

আজারবাইজান ও মারকাজি প্রদেশের বাঁধগুলোও ভয়াবহভাবে শুকিয়ে গেছে। ইরানের জাতীয় জলবায়ু ও খরা সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের প্রধান আহমদ ভাজিফে জানিয়েছেন, এসব অঞ্চলে পানির স্তর এক অঙ্কের শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদেও পরিস্থিতি একই রকম। খোরাসান রজাভি প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, মাশহাদের বাঁধে এখন মাত্র আট শতাংশেরও কম পানি অবশিষ্ট আছে, যা তিনি “মেগা-খরার” পূর্বাভাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান হোসেইন এসমাইলিয়ান জানান, শহরের চারটি প্রধান বাঁধের মিলিত ধারণক্ষমতার মাত্র তিন শতাংশ পানি বাকি রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই অচল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই পানি সংকট বহু দশকের অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফল। এমনকি

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইও গত এক দশকে একাধিকবার পানি সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবুও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ তেহরান, কারাজ ও মাশহাদসহ ১ কোটি ৬০ লক্ষাধিক মানুষের সামনে নলকূপ শুকিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ বাস্তবতা হাজির হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের দাবি ১৩৫ সাংবাদিকের সাভার-আশুলিয়ার সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ৮০ বছরের ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধকে জেলে পচিয়ে মারাই যদি শাসনের নমুনা হয় গ্রামীণের সুযোগ-সুবিধা ঘিরে প্রশ্ন Losing His Wife. Losing His Newborn. Losing Justice. দেশ আজ ক্লান্ত, দেশ আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত, দেশ আজ দখলদার ইউনুসের অবৈধ শাসনে দিশেহারা। জামায়াতের ইতিহাস বিকৃতি, নিজের ফাঁদে বিএনপি হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—ভিডিওতে নাগরিকের আক্ষেপ বিশেষজ্ঞ বাদ দিয়ে, জনমত উপেক্ষা করে গণমাধ্যমে শিকল পরানোর ষড়যন্ত্র স্মরণকালের ভয়াবহতম রক্তাক্ত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ ইউনূসের দুঃশাসন: দেড় বছরে ‘মব’ হামলায় নিহত ২৫৯ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের পর এবার জাতীয় ভোটেও জালিয়াতির নীল নকশায় জামায়াত ভোটের আগে পাকিস্তান থেকে ঢুকছে অস্ত্র, উদ্দেশ্য সহিংসতা বাংলাদেশ যদি মৌলবাদীদের হাতে পড়ে, দিল্লি কি নিরাপদ থাকবে? বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করার ভূরাজনৈতিক নকশা ড. ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘বাটপারিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ গণভোট, রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত ও অবৈধ ইউনূস সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে : চরমোনাই পীর রঙিন বিপ্লব’-এর পর বাংলাদেশ কি ইসলামি একনায়কতন্ত্রের পথে? নতুন বইয়ে সতর্কবার্তা ইবনে সিনায় শত কোটি টাকার ‘হরিলুট’: কাঠগড়ায় জামায়াত নেতা ডা. তাহের