ইউনূসকে সমর্থন দেওয়া জাতিসংঘই বলছে, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

ইউনূসকে সমর্থন দেওয়া জাতিসংঘই বলছে, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:৪৪ 39 ভিউ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে মার্কিন প্রভাবের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সেই জাতিসংঘই এখন স্বীকার করছে যে, বাংলাদেশে বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত সীমিত। গত ফেব্রুয়ারিতে বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতে ৪০টি সুপারিশ দিয়েছিল জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। সংস্থাটি ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং সন্ত্রাসবিরোধীসহ একাধিক নতুন আইন ব্যবহার করে দ্বিমত পোষণকারীদের চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের এখনও ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার ব্যক্তিকে আটক করার বিষয়টি নিয়ে গভীর সমালোচনা

রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে যে সহিংসতা ও অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, কারাগারে হামলা এবং পুলিশের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনাগুলো ছিল নজিরবিহীন। নরসিংদীতে হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে চিহ্নিত ৯ জন জঙ্গি পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার টুর্ক তখন এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং ২৫ জুলাই ২০২৪-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি একতরফাভাবে তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছিলেন। তিনি বাকস্বাধীনতার ওপর জোর দিলেও এএসআই মোক্তাদির বা পরিদর্শক মাসুদ পারভেজের মতো পুলিশ সদস্যদের নির্মম হত্যার ঘটনাগুলো তখন উপেক্ষা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সাল সাংবাদিকদের জন্য এক অভাবনীয় ঝুঁকিপূর্ণ

সময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দ্রুত অবনতি ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতনের অন্তত ৩৮১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ক্ষেত্রে সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্তত ২০ জন সাংবাদিক প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন এবং ১২৩ জন সাংবাদিক তাদের পেশাগত কাজের কারণে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমানে সাংবাদিকদের দমন করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার একটি নতুন কৌশল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই আইনে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না ও আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার হওয়া

নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে, যেখানে আনিস আলমগীর এখনও কারাবন্দী। শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এমনকি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ব্রডকাস্ট সাংবাদিকদের চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসরকে সংকুচিত করে দিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর থেকে শুরু হওয়া দমনমূলক প্রবণতা ২০২৫ সালে আরও গভীর হয়েছে। ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তের মতো সাংবাদিকরা সারা বছরই কারাবন্দী ছিলেন এবং শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক চিত্র ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বর্তমানে গণতন্ত্রের ভিত্তি

হিসেবে না দেখে একটি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন