আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ১৫ বছর জালিয়াতদের টার্গেট ছিল জনতা ব্যাংক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ October, ২০২৪

আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ১৫ বছর জালিয়াতদের টার্গেট ছিল জনতা ব্যাংক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ October, ২০২৪ |
সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল জনতা ব্যাংক। আমানতপ্রবাহ বেশি, খেলাপি ছিল কম। প্রভিশন ও মূলধন ঘটতি ছিল না। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ব্যাংক জালিয়াতচক্র ও টাকা পাচারকারীদের নজর পড়ে এ ব্যাংকের প্রতি। রাজনৈতিক চাপ, দুর্নীতিবাজ পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কারণে ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে চক্রটি ঋণের নামে জনগণের আমানতের টাকা বের করে দিতে থাকে। এর একটি অংশ বিদেশেও পাচার করা হয়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ। এসব কারণে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে এখন ৪৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৪৮ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে খেলাপি ঋণ

আরও বেড়েছে। ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ফলে আগামী দিনে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উপস্থাপিত আর্থিক অবস্থার চিত্র এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের অবস্থান ছিল শীর্ষে। সব সূচকেই ব্যাংকটির অবস্থা ছিল শক্তিশালী। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির এ অবস্থা বজায় ছিল। ২০০৯ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এরপর থেকেই লুটপাটকারী এবং টাকা পাচারকারীদের নজর পড়ে ব্যাংকটির প্রতি। তারা লুটপাট করতে নানা ফাঁদ পাততে থাকে। কিন্তু তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিয়মকানুনের প্রতি কঠোর থাকায়

প্রথমদিকে লুটপাটকারীরা সুবিধা করতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রভাবে দুর্নীতিবাজদের এমডি নিয়োগ করা হলে তারা বিধিবিধানের কোনোরকম তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে ঋণ বিতরণ করতে থাকে। আর দুর্বল হতে থাকে ব্যাংকটি। আওয়ামী লীগ সরকার টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ওই সময়ে সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজন জনতা ব্যাংকে ব্যাপকভাবে লুটপাট করেছে। এসব টাকা বিদেশেও পাচার করেছে। পর্ষদ, এমডিসহ শীর্ষ নির্বাহীরা ছিল ‘জালিয়াতদের’ পক্ষে এবং আমানতকারীদের বিপক্ষে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব জেনেও ছিল একেবারেই নির্বিকার। জনতা ব্যাংকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সুপারিশই আমলে নেয়নি সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলেও

এমডির মেয়াদ বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জনতা ব্যাংকও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানেনি। আওয়ামী লীগ সময়ে শুরুর বছর ব্যাংকটি ঠিকভাবেই চলছিল। কিন্তু এর পরের বছর থেকেই লুটপাট শুরু হয়। প্রথম জালিয়াতি শুরু হয় বিসমিল্লাহ গ্রুপের মাধ্যমে। গ্রুপটি জনতা ব্যাংকের তিনটি শাখা থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা সুদসহ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। জনতা ব্যাংকসহ ৫টি ব্যাংক থেকে তারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটি থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। শুধু একটি শাখা অর্থাৎ দিলকুশা স্থানীয় কার্যালয় থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২৫

হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী জনতা ব্যাংক কোনো একক গ্রুপকে এত বেশি ঋণ দিতে পারে না। কিন্তু তারা কোনো আইনকানুন মানেনি। বেক্সিমকো গ্রুপ যখন যা চেয়েছে, সেই পরিমাণ ঋণই তারা দিয়েছে। স্থানীয় কার্যালয়ের এত বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু বেক্সিমকো ঋণ দেওয়ার জন্য ওই শাখার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রুপের নামে বিতরণ করা ঋণের সিংহভাগ ঋণই এখন খেলাপির পথে রয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে কিছু ঋণ খেলাপি করা হয়েছে। ডিসেম্বর ও মার্চ প্রান্তিকের মধ্যে কোনো ছাড় না দিলে আরও খেলাপি হবে। শাখা থেকে রপ্তানির আড়ালে প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ওইসব রপ্তানি আয় মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও

এখনো দেশে আসেনি। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটিতে গ্রুপের ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে তারা আরও ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এদিকে জনতা ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। জনতা ব্যাংকের কাছে বেক্সিমকো গ্রপের মোট ঋণের তথ্য কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চাওয়া হলেও তারা সেটি দেয়নি। এমডি পরিবর্তন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই তথ্য পেয়েছে। ব্যাংকটিতে এস আলম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আরও ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমদানির নামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যাংকটিতে বড় ধরনের দুটি ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। একটি হচ্ছে অ্যানন টেক্স গ্রুপ ও অন্যটি ক্রিসেন্ট গ্রুপ। অ্যানন টেক্স গ্রুপ জালিয়াতি করে ঋণ নিয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা, যা সুদ-আসলে বেড়ে এখন ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর পুরোটাই এখন খেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে অ্যানন টেক্স গ্রুপের ঋণে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনার তথ্য মিলেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ওই গ্রাহককে কোনো সুবিধা দেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও অ্যানন টেক্সের ঋণের ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাতিল করে দিয়েছে। জনতা ব্যাংকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিছু ঋণ পরিশোধের পর এখন স্থিতি ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। রপ্তানির নামে গ্রুপটি বিদেশে পাচার করেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতরা শুধু ঋণ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, অন্য ব্যাংকের খেলাপি ঋণও জনতা ব্যাংককে কিনতে বাধ্য করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। এর মধ্যে নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন নাসা গ্রুপের দুটি ঋণ বাবদ ১২০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছিল। পরে এ দুটি ঋণ জনতা ব্যাংক কিনে নেয় নিয়মিত অবস্থায়। তখন জনতা ব্যাংক থেকে তিনি আরও নতুন ঋণ নেন। এখন স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪১৭ কোটি টাকা। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় খেলাপি হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ তারা কিনেছিল। পরে সেগুলো নিয়মিত করে নতুন ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোও এখন খেলাপি। রানাকা গ্রুপের ঋণের স্থিতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আরও ঋণ খেলাপির পথে রয়েছে। রতনপুর গ্রুপের ঋণের স্থিতি ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই ঋণের পুরোটাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। সিকদার গ্রুপের ৮৩০ কোটি টাকা ঋণের পুরোটাই খেলাপি হওয়ার যোগ্য। কিন্তু আদালতের নির্দেশের কারণে এটি খেলাপি করা হয়নি। চৌধুরী গ্রুপের ৬৩০ কোটি টাকা ঋণের পুরোটাই খেলাপি। গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের ঋণ ছিল সোনালী ব্যাংকে। সেখানে এটি খেলাপি হলে ২০১২ সালে জনতা ব্যাংক ঋণটি কিনে নেয় নিয়মিত অবস্থায়। তখন থেকে আরও নতুন ঋণ দিতে থাকে। এখন বকেয়া স্থিতি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশকিছু ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। বাকিগুলোর কিস্তিও নিয়মিত শোধ করা হচ্ছে না। এগুলোও খেলাপির পথে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির ঋণ বিতরণের স্থিতি প্রতিবছর বাড়ছিল গড়ে ২ হাজার কোটি টাকা করে। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে এ স্থিতি বাড়ার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মূলত তখন থেকেই লুটপাট শুরুর কারণে ঋণের স্থিতিও বাড়তে থাকে। ২০০৭ সালে ঋণ স্থিতি ছিল ১২ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। এর পরের বছর থেকেই ঋণ স্থিতি মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায়। আগে যেখানে বছরে ঋণ স্থিতি বাড়ত ২ হাজার কোটি টাকা করে, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ স্থিতি বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এর বেশির ভাগ অর্থই লুটপাট হয়েছে। যে কারণে ২০১০ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ নিম্নমুখী ছিল। ২০১১ সালে থেকে তা বাড়তে থাকে। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকায়। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০১১ সালে ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায়। আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১২ সালে স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। ওই এক বছরে স্থিতি বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। আগের বিতরণ করা ঋণ আদায় না হওয়ায় ওই বছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ হাজার ৩২০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ছিল। ওই সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে। যে কারণে তখন ঋণ স্থিতির হ্রাস বা বৃদ্ধি স্বাভাবিক ছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণও কমছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে ঋণ স্থিতি বাড়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণও বেড়ে যায়। ওই বছরে ঋণ স্থিতি আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আগের বছরে ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বেড়ে ৪ হাজার ৩১৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে ঋণ স্থিতি ৫ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা হয়। ২০১৭ সালে ঋণ স্থিতি ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেড়ে ৫ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা হয়। ২০১৮ সালেও ঋণ স্থিতি ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ৩৭১ কোটি টাকায় এবং খেলাপি ঋণ এক বছরের ব্যবধানে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ওই বছরে অ্যানন টেক্স, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ খেলাপি হয়ে যায়। যে কারণে খেলাপি ঋণে বড় ঝাঁপ দিয়েছে। ২০১৯ সালে ঋণ স্থিতি স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি ২০২১ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ কমে ১২ হাজার ৩২০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২০ সাল থেকে ঋণ বিতরণ অস্বাভাবিক গতিতে বাড়তে থাকে। ওই সময়ে বেক্সিমকো গ্রুপ বেশি ঋণ নিয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার কোটি টাকায়। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকের ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় লাখ কোটি টাকায়। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৪৭ শতাংশ ঋণই খেলাপি। আগামী দিনে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা, যা ৭ গুণ বেশি। খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৪ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা, যা ২৭ গুণ বেশি। এটি ব্যাংক খাতে একটি বিরল ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাফের ‘প্লে অন পিরিয়ড’ প্রকল্পের পার্টনার সেনোরা চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের দেশত্যাগ, নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানালেন চিফ প্রসিকিউটর সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐকমত্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল