সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দেখা দিয়েছে নতুন বিপদ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৭ অক্টোবর, ২০২৪

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দেখা দিয়েছে নতুন বিপদ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৭ অক্টোবর, ২০২৪ |
অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে কমপক্ষে ২০ ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। এনভায়নমেন্টাল অ্যাডভান্স নামের একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত দুই যুগে এসব বিপদ তৈরি হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো দ্বীপটির মাটি, পানি ও বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠছে। দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় দ্বীপের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যটনের কারণে উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কচ্ছপের আবাস ধ্বংস, প্লাস্টিকের ব্যবহার, মিঠাপানির সংকট, জোয়ারে সমুদ্রভাঙনসহ নানা বিপদ দেখা দিয়েছে। দ্বীপে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ১০ হাজার থাকলেও সারা বছরে সেখানে কয়েক লাখ পর্যটক থাকেন।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপে সরকার পিছু হটে। উদ্যোগ না নিলে প্রবালশূন্য হতে পারে দ্বীপটি। দ্বীপটিতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর সাদা মাছির উৎপাত। এই মাছি দ্বীপের গাছপালা ধ্বংস করছে। ঐতিহাসিকভাবে সেখানে শতাধিক প্রজাতির গাছ ছিল। দুই মাস ধরে দ্বীপে আরেকটি নতুন বিপদ হাজির হয়েছে। সেখানে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর সাদা মাছির উৎপাত। সাদা মাছির কারণে গত কয়েক মাসে ৩০০ নারকেলগাছ মারা গেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, এ ধরনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র দ্বীপ রক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নেয়। কারণ, এ ধরনের দ্বীপ তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। কিন্তু কিছু পর্যটকের কয়েক যুগের অত্যাচারে তা কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে

পারে। সুতরাং সেন্ট মার্টিন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন। মৌসুমি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও পরিবেশবিধ্বংসী বিনোদনের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত এক যুগে দ্বীপটি রক্ষায় সরকার তিন দফায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রকল্প চালু করে। কিন্তু পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সর্বশেষ ২০২০ সালের আগস্টে সেখানে পর্যটক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকারের তরফে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসকে (সিইজিআইএস) একটি সমীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা শেষে জানায়, দ্বীপটিতে কোনোভাবেই পর্যটকদের রাতে থাকার

অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না। শীতে পর্যটন মৌসুমে দিনে ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া ঠিক হবে না। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সেন্ট মার্টিন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নাল–এ প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় জলপাই রঙের কাছিম, চার প্রজাতির ডলফিন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা বন্য প্রাণীর বাস এই দ্বীপে। এসব প্রাণীও দ্বীপটি ছেড়ে চলে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে উল্টো প্রচার শুরু হয়। সেখানে মার্কিন ঘাঁটি তৈরিসহ নানা ধরনের প্রচার চলতে থাকে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সেন্ট মার্টিনে চার মাস

পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরে পর্যটকেরা যেতে পারলেও রাতে থাকতে পারবেন না। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে গিয়ে রাতেও থাকতে পারবেন। তবে ওই সময় দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না। আর ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারবেন না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা দ্বীপটি বাঁচাতে চাই। এটি দেশের সবার সম্পদ। পর্যটকেরা দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশের ওই সম্পদ রক্ষা পাবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন: এআই ক্যামেরার ভুয়া মামলায় গচ্চা লাখ লাখ টাকা, বিদেশি চক্রের ফাঁদ এইচএসসিতেও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি: সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন নির্দেশনা জারি বৃথা গেল শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলির প্রথম সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নেই বেনজীর আহমেদের নাম, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ দিতে চাওয়া সেই সোহাগ পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফে মাটির নিচে ‘বারুদের স্তূপ’: টেকনাফে মাটির তলদেশ থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার খুলনায় মসজিদে সশস্ত্র হামলা: চাঁদাবাজি নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা? তদন্তে পুলিশ মৌলবাদীদের পথেই হাটলেন মন্ত্রী পরিষদঃ প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রীপরিষদের অসন্মতি ব্র্যাককে বিদেশী অনুদানে কর রেয়াত: চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ভূমিকার পুরস্কার? হামের টিকাদানের ৯ সপ্তাহেও তৈরি হয়নি অ্যান্টিবডি, টিকার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে বিএনপির দুই এমপির প্রতিষ্ঠানের গোপন প্রস্তাব বেড়িবাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৩০ ফুটবল জ্বরে বিশ্ব, রাত জাগলেও চাই শরীরের যত্ন ব্রাজিলভক্ত পড়শীর ফেসবুক পোস্ট, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া যেভাবে দুবাই থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে বেনজীর আহমেদকে জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের লেবাননে ইসরাইলের রাসায়নিক ‘গ্লাইফোসেট’ ব্যবহারের অভিযোগ দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি সাইবার হামলার শিকার ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংক প্রেমের বিয়ের জেরে থানার ভেতরেই মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করলেন বাবা-মা