র‌্যাব-১ এর প্রধান ফটকে অবস্থান ভুক্তভোগীদের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
     ১২:০৫ অপরাহ্ণ

র‌্যাব-১ এর প্রধান ফটকে অবস্থান ভুক্তভোগীদের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ১২:০৫ 108 ভিউ
অপহরণ ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে ব্যানার টানিয়ে বসে পড়েন। প্রধান উপদেষ্টাসহ গুম কমিশন সদস্যদের র‌্যাব-১ এর অভ্যন্তরে থাকা গুমঘর বা বিশেষ টর্চার সেল পরিদর্শনে আসার আগ পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক আটকে শতাধিক ছাত্র, তরুণ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক অবস্থান করছেন। ফটকে টানানো ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘হাসিনা রেজিমের সব গোপন বন্দিশালা উন্মোচন, গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ভুক্তভোগীদের গণ-অবস্থান কর্মসূচি।

কাউন্সিল এগেইনস্ট ইনজাস্টিস (সিএআই) নামে ভুক্তভোগীদের অনলাইন প্লাটফরমের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সংগঠনের সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হাটহাজারী মাদ্রাসার তরুণ শিক্ষক শের মোহাম্মদ বলেন, তিনি ২০২২ সালে র‌্যাবের হাতে গুমের শিকার হন। এই র‌্যাব-১ কার্যালয়ের ভেতরে এক বিশেষ টর্চার সেলে তাকে টানা ২৩ দিন আটকে রাখা হয়। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে দীর্ঘদিন তাকে হাজতবাস করতে হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে তারা সিএআই’র ব্যানারে ভুক্তভোগীদের নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফরম গড়ে তোলেন। বর্তমানে গুমের শিকার সবাই বিচারের দাবিতে এখানে এসে একে একে জড়ো হয়েছেন। শের মোহাম্মদ আরও বলেন, আমরা যারা এই র‌্যাব-১ কার্যালয়ে গুম ছিলাম, তারা হাসিনার পতনের পর

এ নিয়ে তৃতীয় দফায় এখানে হাজির হয়েছি। আমরা চাচ্ছি-এখানে যে গুম সেলগুলো আছে সেগুলো উন্মোচন করা হোক। কারণ একেকটি গুম সেল গুরুতর সব অপরাধের জ্বলন্ত সাক্ষ্য। এগুলোকে যদি দ্রুত সবার সামনে উন্মোচন করা না যায়, তা হলে এর সঙ্গে জড়িত সব অপকর্ম চাপা দিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর আগে আমাদেরকে উন্মোচন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাসেও এটা করা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগেও আমরা যখন এখানে এসেছিলাম তখন র‌্যাবের যিনি বর্তমান ডিজি তিনি নিজে বলেছিলেন, এখানে কোনো গুম সেল নেই। কিন্তু ইতোমধ্যে গুম সংক্রান্ত কমিশন স্পষ্টভাবে বলেছে যে, তারা টর্চার সেলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে।

তাই ডিজির অস্বীকার আসলে খুবই দুঃখজনক। সুতরাং আমরা এখানে অবস্থান করব। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণমাধ্যমসহ এখানে না আসবেন। তাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি যে এখানে গুম ছিলেন তার প্রমাণ কি-এ সময় তিনি বলেন, আমরাও এটা প্রমাণ করতে চাচ্ছি। এ জন্যই বলছি-ড. ইউনুস এখানে এসে মিডিয়াসহ ভেতরে প্রবেশ করুক। ঘুরে এসে তিনি আমাদের বলুক, এখানে গুম সেল নেই। আমরা চলে যাব। কিন্তু বাস্তবে তিনি এটা কখনই বলতে পারবেন না। কারণ ভেতরে বীভৎস অবস্থা। বন্দিদের গুমের পদ্ধতির বর্ণনা দিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, এই র‌্যাব-১ এর ফটকে যে চেকপোস্ট রয়েছে সেখানে বন্দিদের এনে প্রথমে দু’এক ঘণ্টার জন্য রাখা হয়। এরপর এখানেই

হালকা করে অনেকটা বিনোদনমূলক টর্চার হয়। যেমন-যার ইচ্ছে হয় সে এসে চড়থাপ্পড় দিয়ে দেয়। কেউবা থুথু দিয়ে যায়...ইত্যাদি যা ইচ্ছে হয় করে। এরপর সিদ্ধান্ত হয়-সংশ্লিষ্ট বন্দিরা কে কোথায় যাবে। ভুক্তভোগীরা বলেন, খুনি হাসিনার সময়ে যারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করত তারা এখন নিজেদের মধ্যে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এমনকি তারা বর্তমান সরকারকেও অনেকটা জিম্মি করে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেট এখনই ভাঙতে হবে। তা না হলে এই দেশ আবার ভারতের হাতে যাবে এবং যারা বিপ্লব করেছে, আমরা যারা কথা বলছি তাদের লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না। একজন বলেন, এর আগে মেজর নাভিদ কায়সার নামে র‌্যাব কর্মকর্তার নিষ্ঠুরতম নির্যাতনের খবর একটি বিদেশি মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। কিন্তু

অবাক করা বিষয় হলো, আমরা যখন এখানে বিচারের দাবিতে এসেছি তখন ওই মিডিয়ায় যাকে নির্যাতনকারী হিসাবে (মেজর নাভিদ কায়সার) বিশেষভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছিল তিনিই এসেছিলেন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে। তাহলে বোঝেন এখনো তারা কি পরিমাণ নিরাপদ আশ্রয়ে এবং অভয়ে আছে। প্রধান ফটকে ভুক্তভোগীদের অবস্থানের আশপাশে সাদা পোশাকে র‌্যাবের একাধিক গোয়েন্দা সদস্যকে তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। কর্পোরাল সোহাগ নামে এক গোয়েন্দা সদস্য বলেন, ওপরের স্যারদের নির্দেশে তারা এখানে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। অবস্থান কর্মসূচির কারণে র‌্যাব-১ কার্যালয়ের লোকবল এবং যানবাহনকে এবিপিএন কার্যালয় ঘুরে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদা না পেয়ে সরকারি নিয়মের অজুহাতে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাদের মব ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারে এনসিপি-ইনকিলাব মঞ্চে আতঙ্ক ৩৪টা সইয়ে বন্দী একটা গ্রাম : হালাল মাইক, হারাম সাউন্ডবক্স চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব যে দেশে ফুল নিয়ে হাঁটা বিপজ্জনক : একটা ভাঙা বাড়ি, চারটা গ্রেপ্তার, একটা প্রশ্ন অগ্নিঝরা ৮ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর দর্শনে নারী-সমতা ও সোনার বাংলার প্রতিশ্রুতি বিএনপির স্মৃতিশক্তি বড় অদ্ভুত, নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসীকেই চিনতে পারে না! মন্দিরে বোমা হামলা, পুরোহিত হাসপাতালে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোথায়? সেহরি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন ঢাবি হলে ঢুকে ছাত্রীদের নির্যাতনসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বরখাস্ত: সাড়ে ১৬ বছর পর ডিসি কোহিনূরকে পুনর্বহাল রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে আজ থেকে বন্ধ দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে রেকর্ডভাঙা ধস শেয়ারবাজারে: দুই দিনে উধাও ১৬ হাজার কোটি টাকা, কারসাজি নিয়ে সন্দেহ ৪ হাজার সদস্য নিয়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে নির্বাচনের দুদিন আগে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সীমান্ত পার করানো হয় ফয়সালকে, অবশেষে ভারতে সঙ্গীসহ আটক আড়ং ও বাংলাদেশের গৌরবময় অর্জন: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারুশিল্পের ষ্টোর’ ঢাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান, বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম ৭ই মার্চ পোস্টের জেরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে সেহেরির সময় নির্মমভাবে পেটালো ছাত্র শিবির-ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা