মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমার গোল্ড মেডেল কোথায়? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ September, ২০২৬

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমার গোল্ড মেডেল কোথায়?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ September, ২০২৬ |
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন শিক্ষার্থীদের গোল্ড মেডেলও গায়েব করে দিতে পারে, তখন এই বাংলাদেশ নিয়ে আমি আর কীভাবে আশা রাখব? শুনেছি, ২৪-এর জুলাই আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। কিন্তু সেই নতুন বাংলাদেশে আমার অর্জিত গোল্ড মেডেলটাই হাওয়া হয়ে গেল! আমি বলছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Vice Chancellor’s Award-এর কথা। এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্যতার অন্যতম শর্ত হলো—অনার্সের নিজ নিজ সেশনে সর্বোচ্চ CGPA অর্জন করা। আমি ২০১৮ সেশন থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Biochemistry and Molecular Biology বিভাগে ৩.৮১ CGPA নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করি। মোট ২৮০০ মার্কের মধ্যে আমার অর্জন ২৪৯৬। ২০২৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Vice Chancellor’s Award-এর জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় আমার

নামও ছিল। আমাদের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ২৪ জুলাই ২০২৪। কিন্তু তখন দেশে আন্দোলন চলছিল। পুরো দেশ উত্তপ্ত ছিল। সেই অস্থির পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানের মাত্র তিন দিন আগে, ২১ জুলাই, আমাদের SMS-এর মাধ্যমে জানানো হয় যে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল, পরবর্তী তারিখ জানানো হবে। সেই সময় দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছিলাম। তারপর শুরু হলো অপেক্ষা। একদিন, দুইদিন নয়—পুরো দুই বছর। এই দুই বছরে অসংখ্যবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোন করেছি। শুধু জানতে চেয়েছি— “আমাদের অনুষ্ঠান কবে হবে?” প্রতিবারই উত্তর পেয়েছি— “কাজ চলছে, আপনাদের জানানো হবে।” এমনকি গত মাসেও ফোন করেছিলাম। তখনও একই উত্তর পেয়েছি। কিন্তু গতকাল নিউজ দেখে জানতে পারলাম—

৫৭ জনকে Vice Chancellor’s Award দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা যারা আগে থেকেই মনোনীত ছিলাম, আমাদের কেউই জানলাম না। কেউ ফোন পেলাম না। কোনো SMS পেলাম না। কোনো নোটিশ পেলাম না। কোনো ব্যাখ্যাও পেলাম না। নিজেদের অর্জনের পুরস্কার পাওয়ার খবরও আমাদের জানতে হলো নিউজ দেখে! এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম— “আমি কেন বাদ পড়লাম?” উত্তর দেওয়া হলো— “আপনি বাদ পড়েননি। আবেদন করেন, এসে সার্টিফিকেট নিয়ে যাবেন।” আমি বললাম— “তাহলে অনুষ্ঠানে আমাদের কেন রাখা হলো না? ৫৭ জনকে কোন ভিত্তিতে নির্বাচন করা হলো? আগের তালিকায় থাকা আমাদের কী হলো?” উত্তর? “এত কেনর উত্তর আপনি পাবেন না।” একজন শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর কি এভাবেই দেওয়া

হয়? কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের আরও জানানো হয়েছে— গোল্ড মেডেল, ক্রেস্ট, প্রাইজ মানি কিছুই পাব না। শুধু সার্টিফিকেট গিয়ে নিয়ে আসতে হবে, তাও আবেদন করার পরে তারা দিবে। যাদের গত পরশু Vice Chancellor’s Award দেওয়া হয়েছে, তাদেরও কাউকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়নি। তাদের ২৫ হাজার টাকা করে প্রাইজ মানি দেওয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন, আমাদের গোল্ড মেডেলগুলো গেল কোথায়? আমাদের জানা তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী রেজিমে Vice Chancellor’s Award-এর জন্য ১১৮টি গোল্ড মেডেল প্রস্তুত ছিল। প্রতিটি মেডেলের ওজন প্রায় অর্ধভরি, অর্থাৎ ৮ আনা। ১১৮টি মেডেল মানে মোট প্রায় ৫৯ ভরি স্বর্ণ। ৫৯ ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য কত—আপনারাই হিসাব করে দেখুন। এছাড়াও ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য

আরও কিছু গোল্ড মেডেল প্রস্তুত ছিলো। সেগুলোর হিসেবেও তো করতে হয়! কিন্তু টাকার অঙ্কের থেকেও বড় প্রশ্ন— এই ১১৮টি গোল্ড মেডেল কোথায় গেল? দুই বছর ধরে অনুষ্ঠান হয়নি। তারপর নতুন করে অনুষ্ঠান হলো। ৫৭ জনকে পুরস্কার দেওয়া হলো। কিন্তু গোল্ড মেডেল নেই। তাহলে আগের সেই ১১৮টি গোল্ড মেডেলের কী হলো? কে সংরক্ষণ করেছিল? কোথায় রাখা হয়েছিল?কতগুলো মেডেল ছিল? কতগুলো এখন আছে?কতগুলো নেই? কোনো হিসাব আছে? কোনো অডিট হয়েছে? আর যদি সত্যিই মেডেলগুলো আর না থাকে— তাহলে এর দায় কার? একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আজ নিজেকে ভীষণ প্রতারিত মনে হচ্ছে। ঠিক কার কাছে গেলে এই বিচার পাব? যে গোল্ড মেডেল আমার বছরের পর বছর পরিশ্রমের স্বীকৃতি

হওয়ার কথা ছিল, আজ সেই গোল্ড মেডেলেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। আমাদের জন্য রেখে যাওয়া গোল্ড মেডেলগুলো যদি সত্যিই গায়েব হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসবেই—কারা এগুলো আত্মসাৎ করল? কারণ এতগুলো গোল্ড মেডেল বাইরের কোনো চোর এসে চুরি করে নিয়ে যায়নি। এগুলো যে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল, সেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের দায়িত্বশীল মানুষদের কাছেই তো এর হিসাব থাকার কথা। তাহলে ১১৮টি গোল্ড মেডেল কোথায় গেল? কে নিল? কখন নিল? কীভাবে নিল? কোথায় গেল? একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাওয়াটা কি আমার অপরাধ? তাদের প্রশ্ন করায় তারা আমাকে উত্তরে বললো এখন কিছুই করার নেই। কি করবেন আপনি? আমি কাল বিষয়টা শোনার পর থেকে কেঁদেছি। কেঁদেছি শুধু

একটা গোল্ড মেডেল হারানোর জন্য নয়। কেঁদেছি এই ভেবে যে—এই দেশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও যদি একজন শিক্ষার্থীর অর্জনকে নিরাপদ রাখতে না পারে, তাহলে আমরা যাব কোথায়? আমরা পড়াশোনা করি, পরিশ্রম করি, নিজে স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করি। আর যখন সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ার সময় আসে, তখন যদি দেখি আমাদের অর্জনের জিনিসটাই গায়েব হয়ে গেছে—এর চেয়ে বড় প্রতারণা একজন শিক্ষার্থীর জন্য আর কী হতে পারে? সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আমরা কোনো দয়া চাইনি। আমরা আমাদের প্রাপ্যটা চেয়েছি। আর আজ সেই প্রাপ্য নিয়েই প্রশ্ন করতে হচ্ছে। যারা এই গোল্ড মেডেলগুলোর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন— আমাদের গোল্ড মেডেল কোথায়? আর যদি সত্যিই কোনো দুর্নীতি বা আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তাহলে শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে এই প্রশ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। দায়ীদের জবাব দিতে হবে। গোল্ড মেডেলের হিসাব দিতে হবে। কোথায় কীভাবে হারিয়েছে, তার তদন্ত করতে হবে। কারণ এটা শুধু ৫৯ ভরি স্বর্ণের হিসাব নয়। এটা ১১৮ জন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের হিসাব। ১১৮টি পরিবারের গর্বের হিসাব। ১১৮ জন শিক্ষার্থীর বছরের পর বছর পরিশ্রমের হিসাব। যারা বলে জুলাই আমাদের নতুন বাংলাদেশ দিয়েছে, তাদেরকে নতুন বাংলাদেশের শুভেচ্ছা। আর আমার মতো একজন শিক্ষার্থীর অর্জন যদি এই নতুন বাংলাদেশেও নিরাপদ না থাকে, যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই আমাদের অর্জন হারিয়ে যায়— তাহলে সেই নতুন বাংলাদেশের কাছে আমার অভিশাপ রইল। কারণ যে দেশে একজন শিক্ষার্থী নিজের অর্জনের বিচার চাইতে গিয়ে অসহায় হয়ে কাঁদে— সেই দেশে শুধু নতুন দিনের কথা বললেই নতুন বাংলাদেশ হয় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড-এনসিটি চুক্তির অর্থ কী? চিঠির আবেগ থেকে ডিজিটাল বার্তা: আজ বিশ্ব ডাক দিবস ভারতে ক্যানসার ওষুধের দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ ইরানে ফের মার্কিন হামলার শঙ্কায় বেড়েছে তেলের দাম লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট, জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র জলপরী দেখতে চলল পুজো-অর্চনা, জালে মিলল সিলভার কার্প মাছ এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায় নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন অক্টোবরে দিনে আক্রান্ত ২০৯৯, মৃত্যু ৭ জন ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় সতর্ক পুলিশ জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি আসন্ন নির্বাচনে যেসব কারণে হেরে যেতে পারেন নেতানিয়াহু সংকটে রাশিয়া, কপাল খুলছে ইরানের মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি! মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে শ্রীলংকান যুবক মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের বিআইডিএস-এর প্রতিবেদন: বিদেশি অনুদানে টান পড়ায় ধুঁকছে ছোট ও মাঝারি এনজিও