ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সি.এফ এর প্রতিবেদন: সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে ৭.৫২ ভাগ
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ
বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে
আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম
দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু
বাংলাদেশের জন্য রুশ বাজারের নতুন দুয়ার, বাণিজ্য সম্প্রসারণে মস্কোর আগ্রহ
রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি, রুশ বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে মস্কো। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি, সার ও খাদ্যশস্য আমদানিনির্ভর বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এবার বাংলাদেশের রপ্তানি ও উৎপাদন খাতের জন্যও লাভজনক করে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা। বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেছেন, দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
সার, কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আমদানি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রাশিয়ায় ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রুশ আমদানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের তালিকা তৈরি এবং যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও বিপণনের ব্যবস্থা করা গেলে রপ্তানি সম্প্রসারণ সম্ভব।
প্রকাশ করেছে মস্কো। রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান এবং দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতা ইলিয়া শেস্তাকভ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এলএনজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণে রাশিয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন প্রকল্পেও অংশগ্রহণে আগ্রহী রাশিয়া। রাশিয়ার অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সহযোগিতার অন্যতম উদাহরণ। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইলিয়া শেস্তাকভ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি কার্যকর ও টেকসই অর্থ পরিশোধ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ ব্যাংকিং জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা, পণ্য পরিবহনের উচ্চ ব্যয় এবং বিমা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।
তৈরি পোশাক, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রুশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে রুশ কোম্পানিগুলোর যৌথ বিনিয়োগও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু গম, সার ও জ্বালানি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বিকল্প ও আইনসম্মত ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরাসরি বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বাণিজ্য বাধা দূর করতে সমঝোতা, বাংলাদেশের পণ্যের জন্য রুশ বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের (IGC) বৈঠকের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FBCCI) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে একটিসমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা। বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেছেন, দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য বড় বাজারের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ বর্তমানে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ওষুধ, টুপি, আসবাবপত্র এবং খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ প্রধানত গম,সার, কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আমদানি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রাশিয়ায় ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রুশ আমদানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের তালিকা তৈরি এবং যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও বিপণনের ব্যবস্থা করা গেলে রপ্তানি সম্প্রসারণ সম্ভব।
জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রস্তাব
বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণেও সহযোগিতার আগ্রহপ্রকাশ করেছে মস্কো। রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান এবং দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতা ইলিয়া শেস্তাকভ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এলএনজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণে রাশিয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন প্রকল্পেও অংশগ্রহণে আগ্রহী রাশিয়া। রাশিয়ার অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সহযোগিতার অন্যতম উদাহরণ। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং ও অর্থ পরিশোধে জটিলতা
তবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাথেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইলিয়া শেস্তাকভ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি কার্যকর ও টেকসই অর্থ পরিশোধ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ ব্যাংকিং জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা, পণ্য পরিবহনের উচ্চ ব্যয় এবং বিমা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।
নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার ক্ষেত্র
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, FBCCI এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল নিয়মিত ব্যবসায়িক সংলাপ, বাণিজ্য মেলা, প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করবে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করা হবে। বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়াশিল্প,তৈরি পোশাক, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রুশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে রুশ কোম্পানিগুলোর যৌথ বিনিয়োগও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু গম, সার ও জ্বালানি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বিকল্প ও আইনসম্মত ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরাসরি বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।





