ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক; ইউএন ও ভলকার তুর্ক নীরব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ October, ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক; ইউএন ও ভলকার তুর্ক নীরব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ October, ২০২৬ |
ফ্রান্সজুড়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে রাস্তায় ও স্কুলে আগুন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানের ব্যবহার দেখা গেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভের জন্য “ইসলাম” ও “নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন”কে দায়ী করে বিতর্ক ছড়িয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফোলকার টুর্ক বা তাঁর দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) এ নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য আমি খুঁজে পাইনি। বিক্ষোভের সূচনা ও পরিসর বিক্ষোভ শুরু হয় ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের এক শহরতলির উচ্চ বিদ্যালয়ে, শিক্ষক-সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এএফপির বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৬০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ বা ব্যাহত হয়েছে এবং ২০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, অন্তত ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র ও বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর প্রায় ৬,১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগ কিশোর। পুলিশ বলছে, ৭০০-র বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সরকারি হিসাবে আড়াই লাখের বেশি মানুষ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দেশজুড়ে সমাবেশে যোগ দেন। প্যারিস ও মার্সেইয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, রেনে শহরে জলকামান ব্যবহার করে। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরান ও পুলিশের দিকে বস্তু ছোড়েন। অনেক জায়গায় সমাবেশ শান্তিপূর্ণও ছিল। সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে ১৫ বছরের এক কিশোর হাত হারিয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্র লা ভোয়া দু নর জানিয়েছে, সে পুলিশের একটি স্টান গ্রেনেড

তুলে নিলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নাবালকদের ওপর লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের “অসংগত” বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের অবিবেচক ব্যবহারে গুরুতর আঘাত লেগেছে। সরকারের মুখপাত্র মো ব্রেজঁ বলেছেন, তাদের অগ্রাধিকার “শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা”। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন স্বীকার করেছেন, আন্দোলনের কোনো জাতীয় দাবি নেই, সবই স্থানীয় দাবি থেকে শুরু। আগামী বছরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাত মাস আগে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা “নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন”, এটি স্কুলের বিষয় নয়, বরং ইসলামের একটি “একসময়ের মহান দেশ” দখলে নেওয়ার চেষ্টা। এএফপি

বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডানপন্থী বয়ান জোরদার করার অংশ হিসেবে তিনি এ কথা বলেছেন। ট্রাম্পের সমর্থকগোষ্ঠী ‘মাগা’র ভাষ্যকাররাও ফ্রান্সের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে দ্য হিল জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবিতে অভিবাসন বা ধর্মের কোনো উল্লেখ নেই, তারা চাইছে আরও শিক্ষক ও ভালো শিক্ষা-অবকাঠামো। ফ্রান্সের বামপন্থী দল লা ফ্রঁস আঁসুমিসের নেতা জঁ-লুক মেলাঁশ ট্রাম্পকে মারিন ল্য পেনের বয়ান অনুসরণের অভিযোগে সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘের অবস্থান জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফোলকার টুর্ক বা ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্রের ফ্রান্সের বর্তমান বিক্ষোভ বা ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কোনো বিবৃতি আসেনি ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও। সাম্প্রতিক দিনে টুর্ককে জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে ইউক্রেন নিয়ে বক্তব্য দিতে

এবং নারী ও শান্তির বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। তবে ফ্রান্স নিয়ে ওএইচসিএইচআর আগেও মন্তব্য করেছে। ২০২৩ সালে নান্তেরে পুলিশের গুলিতে ১৭ বছরের নাহেলের মৃত্যুর পর দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি ফ্রান্সকে পুলিশি ব্যবস্থায় বর্ণবাদের “গভীর সমস্যা” মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফ্রান্স তখন তা “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করে। ২০২৪ সালে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও টুর্ক উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। জুলাই ২০২৪-এ ভলকার তুর্ক ৭ দিনের মাথায় প্রতিক্রিয়া জানান ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে টুর্ক ২৫ জুলাই প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে “ভয়াবহ সহিংসতা”র নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। তখন ১৭০-র বেশি মানুষ নিহত ও অন্তত এক হাজার আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওএইচসিএইচআরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে

১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হওয়ার আনুমানিক হিসাব দেওয়া হয়, যাঁদের ১২-১৩ শতাংশ শিশু বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। টুর্ক ওই দমনকে “পরিকল্পিত ও সমন্বিত” বলেছিলেন। এই তদন্ত হয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চিঠির আবেগ থেকে ডিজিটাল বার্তা: আজ বিশ্ব ডাক দিবস ভারতে ক্যানসার ওষুধের দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ ইরানে ফের মার্কিন হামলার শঙ্কায় বেড়েছে তেলের দাম লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট, জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র জলপরী দেখতে চলল পুজো-অর্চনা, জালে মিলল সিলভার কার্প মাছ এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায় নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন অক্টোবরে দিনে আক্রান্ত ২০৯৯, মৃত্যু ৭ জন ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় সতর্ক পুলিশ জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি আসন্ন নির্বাচনে যেসব কারণে হেরে যেতে পারেন নেতানিয়াহু সংকটে রাশিয়া, কপাল খুলছে ইরানের মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি! মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে শ্রীলংকান যুবক মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের বিআইডিএস-এর প্রতিবেদন: বিদেশি অনুদানে টান পড়ায় ধুঁকছে ছোট ও মাঝারি এনজিও মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার