ইউনূস-নূরজাহানের বিরুদ্ধে সেই অসহায় পিতার মামলার আবেদন খারিজ, নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ জুলাই, ২০২৬

ইউনূস-নূরজাহানের বিরুদ্ধে সেই অসহায় পিতার মামলার আবেদন খারিজ, নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ জুলাই, ২০২৬ |
হামে মেয়ের অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে এক অসহায় বাবার করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আজ ১২ই জুলাই, রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক বলেন, “মামলা গ্রহণ করার ‘উপাদান’ না থাকায় তা খারিজের আদেশ দিয়েছে আদালত।” গত ৫ই জুলাই সকালে আদালতে এ আবেদন করেছিলেন হামে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সি সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। বিকালে জানানো হয়, ১২ই জুলাই আদেশ দেবে আদালত। ইউনূস ও নূরজাহান ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.

মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে এ মামলায় আসামি করার আর্জি জানানো হয়েছিল। মামলার আর্জিতে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক ও মার্চের শুরুর সময়ে শরীয়তপুর সদরের নয় মাস বয়সি সাউদা মুসকান হঠাৎ মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় চিকিৎসায় ফল না দেওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে হামের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে শিশুটিকে ২২শে মার্চ মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অসহযোগিতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে আবেদনে বলা হয়, বাদীর স্ত্রীর হাতে ২৬শে মার্চ অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে বাচ্চার মুখে তা লাগাতে বলা হয়।

তবে শিশুর মা ব্যর্থ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুইপারকে দিয়ে শিশুর মুখে তা লাগিয়ে দেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পরে শিশুটি মারা যায়। মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়েছিল, শিশুদের টিকার যোগান সময়মতো না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা কেনা ও তা দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মারাত্মক খামখেয়ালিপনা’ ও অবহেলাজনিত কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম। এসব মৃত্যুর দায় বিবাদীরা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার পরও হামজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি; অবহেলাজনিত দায়ভারের জন্য তারা একইভাবে দায়ী এবং প্রচলিত আইনে শাস্তি পাওয়ার

যোগ্য। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মুহাম্মদ ইউনূস, নূরজাহান বেগমদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন খারিজ হয়েছে। যা নিয়ে হচ্ছে তুমুল সমালোচনা। ইতিমধ্যে সরকারি হিসেবে ৭৫০-এর বেশি শিশু হামে মারা গেছে; যাদের মৃত্যুর পেছনে ড. ইউনূসের সরকারের টিকা ক্রয় না করার কারণকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা। এই অসহায় পরিবারগুলো বিচারের দাবিতে মাথা কুটে মরছে দ্বারে দ্বারে, কিন্তু মিলছে না কোনো প্রতিকার। হামের টিকাদানের পরেও তৈরি হয়নি অ্যান্টিবডি, টিকার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হামের টিকা গ্রহণের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু টিকাদান শুরুর ৯ সপ্তাহ পরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সংক্রমণ তখনও পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে

টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের বারবার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশব্যাপী হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৫ই এপ্রিল উচ্চ সংক্রমিত উপজেলাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দফায় ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় টিকা দেওয়া হয়। দুই সপ্তাহ পর ২০ এপ্রিল শুরু হয় দেশব্যাপী কার্যক্রম। সরকার ছয় থেকে নয় মাস বয়সি ১ কোটি ৯০ লাখ পাঁচ হাজার ৯৫০ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ই মে শতভাগ কাভারেজ অর্জিত হয়। ২০শে মে পর্যন্ত

চলা এই কার্যক্রমে মোট ২ কোটি ২৪ হাজার ১১৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। তবে এত বেশি কাভারেজের পরও সংক্রমণ কমেনি। টিকার মান ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন লক্ষ্যমাত্রার বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমায় টিকার কার্যকারিতা ও সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকার কার্যকারিতা নির্ভর করে শিশুর বয়স, পুষ্টি ও মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর। বয়স যত কম, টিকার কার্যকারিতা তত কম। সরকারের ইপিআই ও আইসিডিডিআর,বিতে দীর্ঘদিন কাজ করা টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘টিকাদানের দুই মাস হয়ে গেল, এখনও উচ্চ সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে জরুরি হলো

বয়সভিত্তিক ছয় থেকে নয় মাস, নয় মাসের পর থেকে দুই বছর এবং পাঁচ বছরের নিচের টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যে, আসলে হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না।’ ‘একই সঙ্গে কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও সেটি রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার পর্যায়ে রয়েছে কি না, তা-ও দেখতে হবে। কিন্তু সরকার সে ব্যাপারে কোনো পরামর্শই কানে তুলছে না’, বলেন তিনি। বয়সভেদে টিকার কার্যকারিতার হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাধারণত ছয় থেকে নয় মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে টিকার কার্যকারিতার হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। নয় মাস থেকে দেড় বছরের মধ্যে ৮৫ শতাংশ এবং চার থেকে ছয় বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে কার্যকারিতার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ। কাজেই টিকার সঙ্গে বয়সের একটা বিরাট সম্পর্ক রয়েছে।’ কার্যকারিতা যাচাইয়ের দাবি টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে (এনসিএল) টিকা পরীক্ষা করা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘পরিবহনে কোথাও কোল্ড চেইনে সমস্যা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে আইইডিসিআরকে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে টিকার মান যাচাইয়ে পরীক্ষার কিট দিতে বলতে হবে। কিন্তু সরকার এগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে এখনও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এখনও প্রতিনিয়ত সংক্রমণ হচ্ছে। অথচ টিকাদানের ৯ সপ্তাহ হয়ে গেছে। কাজেই আদৌ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা দেখা দরকার।’ আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আহমেদ নওশের আলম বলেন, ‘টিকার কাভারেজ শতভাগ হলেও হয়তো দেখা যাবে কোনো একটা জনগোষ্ঠী বাদ গেছে। সেখান থেকে ছড়াতে পারে। এখন টিকার কার্যকারিতা আদৌ রয়েছে কি না তা পরীক্ষা না করলে বোঝা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আলোচনা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ভেবে দেখা যেতে পারে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. হালিমুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি ভাবনায় আছে। কিন্তু এখনও কিছু করা যায়নি। সংক্রমণ কমে আসবে এটাই চিন্তা ছিল। যেহেতু তা হয়নি, তাই বিষয়টি নিয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলব।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের গুপ্ত কর্মশালা, ধাওয়া দিয়ে তাড়ালেন স্থানীয়রা ইউনূস-নূরজাহানের বিরুদ্ধে সেই অসহায় পিতার মামলার আবেদন খারিজ, নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে দিয়ে ভুয়া গুম-খুনের মামলা, আত্মগোপনে ২ বছরে বিয়ে-সংসার! ১২ জুলাই, বহদ্দারহাট: ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন শিবিরের কিলাররা চিফ প্রসিকিউটর: শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই ঢামেক ও অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার আবারও বন্যা, আবারও ঢাবিতে ত্রাণের অর্থ উত্তোলনের হিড়িক: তীব্র ক্ষোভ সাধারণ মানুষের ‘লাল কার্ডের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না’, ম্যাচ হেরে বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড টানা ৫ দিন বৃষ্টি হতে পারে যেসব জেলায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা ভিয়েতনামে নৌকা উল্টে ১৫ ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু স্বস্তির জয় বাংলাদেশের বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রেম করছেন শেহনাজ গিল বৃষ্টির প্রভাব বাজারে: সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত