ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
তোফায়েল আহমেদ: ইতিহাসের এক অবিনাশী অধ্যায়
দূষণের মাত্রা বেড়েছে ঢাকার বাতাসে
শিশু হত্যা ও ধর্ষণ: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নাকি সমাজের অবক্ষয়?
স্বাধীনতোত্তর রাজনৈতিক সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদ
‘মে মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতন ৩২৬, ধর্ষণ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ’
হামে মৃত্যু ছাড়াল ৫৮৩ — থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল
‘ভ্যানিটি ব্যাগে পদত্যাগপত্র’ — মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি সত্য হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধ?
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী আজ দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগে তিন পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে গেছেন। এই দাবি কেবল রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, সরাসরি একটি সাংবিধানিক সংকটের দিকে আঙুল তুলেছে — কারণ পদত্যাগপত্রের অস্তিত্ব ও অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরু থেকেই।
যে বিতর্ক চলছিল শুরু থেকেই
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পরই শুরু হয় পদত্যাগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মানবজমিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ
করেছেন, কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, “আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।” অর্থাৎ, যে পদত্যাগপত্রের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন হলো, সেই দলিলের অস্তিত্ব সম্পর্কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি সংবিধানের ৫৭ ধারা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগ জমা দেওয়া। রাষ্ট্রপতির ঘোষণা অনুযায়ী তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছিল এবং এরপরের দিন দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় এবং
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করতে এবং নির্বাহী বিভাগ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে — এমন মতামত সর্বোচ্চ আদালত থেকেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই পুরো কাঠামোর ভিত্তিমূলে রয়েছে একটি প্রশ্ন: পদত্যাগপত্রটি আসলে কোথায়? বিস্ফোরক প্রশ্ন: পদত্যাগপত্র ব্যাগে গেলে সরকার কি অবৈধ? মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র যদি সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে থাকার কথা। কিন্তু তার আজকের দাবি হলো, সেই পদত্যাগপত্র শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে নিয়ে গেছেন। এই দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে যে প্রশ্নটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে তা হলো — যে পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি
পদশূন্যতা ঘোষণা করলেন এবং সংসদ ভাঙলেন, সেই দলিল যদি আদতে কখনো রাষ্ট্রপতির হাতে না পৌঁছেই থাকে — তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি কি সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে? এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগেই বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ছাড়া যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: সেই ভ্যানিটি ব্যাগ এখানে এসে ইতিহাস যেন আশ্চর্যজনকভাবে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড বহন করে সভাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই দাবি পরবর্তী তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল। দুই দশক পর এবার সেই একই ভ্যানিটি
ব্যাগে ঢোকানো হলো পদত্যাগপত্র। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ব্যাগটি যেন এক অলৌকিক পাত্র — প্রয়োজনমতো যেকোনো কিছু তাতে রাখা যায়, বের করা যায়। আসল প্রশ্ন যেটি এড়ানো যাচ্ছে না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্যানিটি ব্যাগের গল্প সত্য হোক বা না হোক, মূল সংকটটি থেকেই যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নিজে স্বীকার করেছেন পদত্যাগপত্রের দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। ইউনূস সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল পদত্যাগপত্র সংরক্ষিত আছে। এখন মতিউর রহমান চৌধুরী দাবি করছেন সেটি ভ্যানিটি ব্যাগে। তিনটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এই বিরোধের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্নটি।
করেছেন, কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, “আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।” অর্থাৎ, যে পদত্যাগপত্রের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন হলো, সেই দলিলের অস্তিত্ব সম্পর্কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি সংবিধানের ৫৭ ধারা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগ জমা দেওয়া। রাষ্ট্রপতির ঘোষণা অনুযায়ী তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছিল এবং এরপরের দিন দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় এবং
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করতে এবং নির্বাহী বিভাগ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে — এমন মতামত সর্বোচ্চ আদালত থেকেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই পুরো কাঠামোর ভিত্তিমূলে রয়েছে একটি প্রশ্ন: পদত্যাগপত্রটি আসলে কোথায়? বিস্ফোরক প্রশ্ন: পদত্যাগপত্র ব্যাগে গেলে সরকার কি অবৈধ? মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র যদি সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে থাকার কথা। কিন্তু তার আজকের দাবি হলো, সেই পদত্যাগপত্র শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে নিয়ে গেছেন। এই দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে যে প্রশ্নটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে তা হলো — যে পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি
পদশূন্যতা ঘোষণা করলেন এবং সংসদ ভাঙলেন, সেই দলিল যদি আদতে কখনো রাষ্ট্রপতির হাতে না পৌঁছেই থাকে — তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি কি সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে? এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগেই বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ছাড়া যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: সেই ভ্যানিটি ব্যাগ এখানে এসে ইতিহাস যেন আশ্চর্যজনকভাবে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড বহন করে সভাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই দাবি পরবর্তী তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল। দুই দশক পর এবার সেই একই ভ্যানিটি
ব্যাগে ঢোকানো হলো পদত্যাগপত্র। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ব্যাগটি যেন এক অলৌকিক পাত্র — প্রয়োজনমতো যেকোনো কিছু তাতে রাখা যায়, বের করা যায়। আসল প্রশ্ন যেটি এড়ানো যাচ্ছে না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্যানিটি ব্যাগের গল্প সত্য হোক বা না হোক, মূল সংকটটি থেকেই যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নিজে স্বীকার করেছেন পদত্যাগপত্রের দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। ইউনূস সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল পদত্যাগপত্র সংরক্ষিত আছে। এখন মতিউর রহমান চৌধুরী দাবি করছেন সেটি ভ্যানিটি ব্যাগে। তিনটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এই বিরোধের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্নটি।



