খুলনা বিভাগে বিএনপির বিপর্যয়ের নেপথ্যে চাঁদাবাজি-গ্রুপিং আর সাবেক মুসলিম লীগের ভোট দাঁড়িপাল্লায় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

খুলনা বিভাগে বিএনপির বিপর্যয়ের নেপথ্যে চাঁদাবাজি-গ্রুপিং আর সাবেক মুসলিম লীগের ভোট দাঁড়িপাল্লায়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১:৩৪ 8 ভিউ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় পর্যায়ে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও এই বিভাগে বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। বিভাগজুড়ে বিএনপির পরাজয়ের পেছনে দলীয় গ্রুপিং, মনোনয়ন–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিদ্রোহ, সমন্বয়হীনতা, চাঁদাবাজি ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিশ্লেষকেরা। একইসাথে বিএনপি’র এ অঞ্চলে বড় একটি ছিল মুসলিম লীগের ইসলামপন্থী ভোটারেরা এবার তারা নিজেদের মার্কা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছে। খুলনার প্রবীণ ও জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু হেরেছেন খুলনা-২ আসনে, যেখানে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি’র জয় এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু দল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগাঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাথে দূরত্বের

কারণে কপাল পুড়েছে তার। অন্যদিকে অভিযোগ আছে, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্রাবণ, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিদুল ইসলাম তৃপ্তি সহ জনপ্রিয় বিএনপি নেতাদের মননোয়ন বঞ্চিত করার পিছনেও হাত ছিল অমিতের। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অবস্থান নেয়। বিভাগীয় চিত্র খুলনা বিভাগের জেলাভিত্তিক আসনসংখ্যা হলো— বাগেরহাটে ৪ টি, যশোরে ৬ টি, ঝিনাইদহে ৪ টি, খুলনায় ৬ টি, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় ৪ টি করে, চুয়াডাঙ্গায় ২ টি, মাগুরাতে ২ টি, মেহেরপুর ও নড়াইল ২ টি করে আসন রয়েছে । জামায়াতের জয়ী হওয়া ২৫টি আসনের মধ্যে খুলনায় ২টি, বাগেরহাটে ৩টি, সাতক্ষীরায় ৪টি, যশোরে ৫টি, চুয়াডাঙ্গায় ২টি, মেহেরপুরে ২টি, কুষ্টিয়ায় ৩টি, ঝিনাইদহে ৩টি ও নড়াইলে

১টি। এরমধ্যে সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরের সবকটি আসনই জিতেছে জামায়াত। যশোর-১ (শার্শা) এই আসনে ২৫ হাজার ৫৫১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আজীজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। আজীজুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট। আসনটিতে গত ৩ নভেম্বর প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসানকে। এক মাস গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারে থাকার পর তাঁকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে। এতে মফিকুল হাসানের অনুসারীরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন। মফিকুল ও তাঁর অনুসারীরা নির্বাচনের মাঠে নুরুজ্জামানের পক্ষে তেমন সরব হননি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি

হাসান জহির ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামানও প্রার্থী নুরুজ্জামানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ততটা সরব ছিলেন না। বরং মফিকুলের অনুসারীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে গোপনে কাজ করেছেন—এমন অভিযোগও আছে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) এ আসনে খুলনা বিভাগে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে ৩৪ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। মোসলেহ উদ্দিন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ ভোট। পরাজয়ের কারণ বলতে গিয়ে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট ঝিকরগাছা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন-নবী বলেন, সাবিরা সুলতানার পক্ষে দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা নির্বাচনী মাঠে নামেননি। প্রচারের একেবারে শেষ সময়ের দিকে মনোনয়নবঞ্চিত তিন নেতা

দু–একটি পথসভা ও জনসভায় বক্তৃতা করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয়। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না ঘটা পরাজয়ের বড় কারণ। ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুব বেশি। জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারণার কারণে নারী ভোটারদের ভোট কম পাওয়া গেছে। এটি আরেকটি কারণ বলে তিনি মনে করেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে ১৩ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। অনিন্দ্য ইসলাম ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। শুরু থেকেই আসনটি বিএনপির জন্য নির্ভার হিসেবে ধরা হয়েছিল। নেতা-কর্মীরা মনে করেছিলেন, এই আসনে জামায়াতের

প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারবেন না। কারণ, অধিকাংশ ভোটার জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে চেনেন না। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির মধ্যে দৃশ্যমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল না। অনিন্দ্য ইসলামের বিপরীতে মনোনয়নপ্রত্যাশীও কেউ ছিলেন না। তারপরও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রসুল ৪৪ হাজার ৯৯৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফরাজীকে পরাজিত করেন। গোলাম রসুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট। নেতা-কর্মীরা বলেন, এই আসনে বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক টি এস আইয়ুব। কিন্তু ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর মনোনয়ন বাতিল

হয়। এ কারণে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মতিয়ার রহমানকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ টি এস আইয়ুবের সমর্থকেরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট না দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন। এতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হন। যশোর-৫ (মনিরামপুর) এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক ৪৭ হাজার ৮৩১ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৬, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন ৮৫ হাজার ৪৫ ও বিএনপির শরিক দল বাংলাদেশ জমিয়তে ইসলামের প্রার্থী রশিদ আহমাদ ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া ইকবাল হোসেনের ভোট এবং বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদের ভোট একত্রে হলে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২০ ভোট হয়। সে ক্ষেত্রে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেউ না থাকলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ীও হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় সুবিধা পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। এ আসনে বিএনপি প্রথমে শহীদ ইকবাল হোসেনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। তিনি নির্বাচনী জনসংযোগ চালিয়ে যান। এরপর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার সময় শরিক দলের প্রার্থী রশিদ আহমাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন শহীদ ইকবাল হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন ইকবাল হোসেন। এরপর শহীদ ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে নির্বাচনে কাজ করেন। এ কারণে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী লাভবান হয়েছেন। যশোর-৬ (কেশবপুর) এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. মুক্তার আলী ৯১ হাজার ১৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ৭৯ হাজার ৩২১ ভোট পান। নেতা-কর্মীরা জানান, এই আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে। এক মাস প্রচার-প্রচারণায় থাকার পর রওনকুলকে পরিবর্তন করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে। মনোনয়ন না পাওয়া রওনকুল এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। আরেকজন মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাসের অনুসারীরাও প্রচার প্রচারণার প্রথম দিকে আবুল হোসেনের পক্ষে ছিলেন না। একদম শেষ দিকে রওনকুল ও অমলেন্দু কয়েকটি সভায় বক্তব্য দেন। নেতা-কর্মীরা আরও জানান, কাজী রওনকুল স্থানীয় পর্যায়ে বেশ জনপ্রিয়। তাঁর বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম ও তাঁর চার ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভোট রওনকুলের বাক্সে পড়বে, এমন চিন্তা থেকে তিনি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কারণে সেই ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে চলে গেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিএনপির এমন ভূমিধস পরাজয়ের পেছনের কারণ জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সারা দেশে যেখানে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে, সেখানে যশোরে এমন পরাজয় কেন ঘটল, তা আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেননি। বরং অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন, এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। এ ছাড়া জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে নারী ভোটাররা জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মূলত এই দুটি কারণে পরাজয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমার মনে হচ্ছে।’ বাগেরহাট জেলা নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাগেরহাট-১, ২ ও ৪ এই তিনটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন। জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন: • বাগেরহাট-১: মাওলানা মশিউর রহমান খান • বাগেরহাট-২: শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ • বাগেরহাট-৪: মোঃ আব্দুল আলীম বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী: • বাগেরহাট-৩: শেখ ফরিদুল ইসলাম এবারই প্রথম বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেছেন। বাগেরহাট-১ ও ২ আসনে প্রথমবারের মতো জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তিনটি আসনে বিজয়ের কারণ হিসেবে বিএনপির নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীর বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-১ বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল এবং বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির সোমনাথ দে দলে যোগ দিয়েই মনোনয়ন পেয়েছেন। দুজনই আগে আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। তেমনি হিন্দু ধর্মালম্বী নেতাও ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ ছিল। এর ফলে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীরা তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। এমনকি দুই আসনে বিক্ষোভও হয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন জেলার রাজনীতিতে ২০২৪ সালের আগস্টের আগে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। মাঠ পর্যায়ে তার পরিচিতি অনেক কম। এছাড়া এই তিনটি আসনেই বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। বাগেরহাট-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম ও জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদ রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর পরাজয়ের পিছনে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও দায়ী করেছেন অনেকে। এছাড়া বাগেরহাট-২ আসনেও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এমএএইচ সেলিমের ছোট ভাই জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক সভাপতি এমএ সালাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমএএইচ সেলিমের নির্বাচন করা এবং ভোটের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে এমএ সালামের নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে বিএনপির পরাজয় হয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বিভিন্ন স্থানে তিনি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করেছেন। দলের মধ্যে শিপনের অনুসারীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জেলা জুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে মারধর, ঘের দখল এবং নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিরোধ চরম পর্যায়ে ছিল। এসব কারণে পুরো জেলা জুড়ে ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সাতক্ষীরা জেলা সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫ আগস্টের পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ছিল। যা বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া নিজ উপজেলা কলারোয়ায় দলীয় গ্রুপিংও প্রকট। কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুল ইসলামের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে। সবশেষে হাত মেলালেও তাকে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পক্ষে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রউফ স্থানীয় আলিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হলেও তিনি সাতক্ষীরার গডফাদার রউফ-সবুর পরিবারের অন্যতম অধিপতি। তিনি স্কুলে যাননি এবং লেখা-পড়া করতে পারেন না। মানুষের সঙ্গে তার আচরণ চরমভাবে দুর্ব্যবহারমূলক। এছাড়া তার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার হাজারো বিঘা খাসজমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও মনোনয়ন পান, যা স্থানীয় বিএনপিতে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে নির্বাচনের ফল দাঁড়িয়েছে — সাতক্ষীরা-১: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরা-৩: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সাতক্ষীরা-৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জি. এম. নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহ-১ আসনে (শৈলকুপা) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শৈলকুপার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করেছেন। এ ছাড়া, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে শৈলকুপার রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, গির্জা ও মুন্দিরসহ প্রায় ৩শ কোটি টাকার মতো কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি অশান্ত শৈলকুপাকে শান্ত করেছেন। এর ফলে শৈলকুপা উপজেলার মানুষ ভোট দিয়েছেন। ঝিনাইদহ-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। প্রায় বিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকরের কাছে হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী। বিএনপির পরাজয়ের পিছনে দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং অন্যতম কারণ। এছাড়া, এই আসনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ভোটের ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যার কারণে আব্দুল মজিদের পরাজয় হয়েছে। ঝিনাইদহ-৩ সীমান্তবর্তী এই আসনটি বরাবর জামায়াত অধ্যুষিত। তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মতিউর রহমান সহজেই জিতেছেন। ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ নারী ভোটার। ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে প্রায় ৬ হাজার নারী কর্মী রয়েছে জামায়াতের। এই ভোট ব্যাংক দিনশেষে ধানের শীষের সাথে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. মতিউর রহমান। ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন রাশেদ খান। মূলত এই আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী দুটি গ্রুপ ছিল। ভোটের মাঠেও সেই গ্রুপিংয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে ধানের শীষ ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাঝে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বিএনপির ভোট। আর এতেই জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব। কুষ্টিয়া জেলা কুষ্টিয়া-১: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ, কুষ্টিয়া-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে বিএনপি প্রার্থী রাগিব রউফ চৌধুরী হেরেছেন। নমিনেশন চূড়ান্ত হওয়ার পরও দলের কেন্দ্রীয় নেতা, বিশেষ করে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের প্রকাশ্য বিরোধিতা ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত আন্দোলনের কারণে। বিএনপির ভোট ব্যাংকগুলো শহিদুল ইসলামের মনোনয়ন না পাওয়ায় রাগিব চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। কেন্দ্রীয় চাপে মিল হলেও ভোটে বিএনপির পক্ষে ভোট পড়েনি। ৫ আগস্টের পরে মিরপুর ও ভেড়ামারায় শহিদুল ইসলামের কর্মীরা যে পরিমাণ চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করেছে, তার কারণে মানুষ ভোট দেননি। ভোটের ফলাফলের পরও বিএনপির গ্রুপিং এই আসনে প্রকাশ্যে চলমান ছিল। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জেলা কমিটি ও বিএনপির শহর কমিটি নিয়ে দ্বন্দে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়েছিল, যা নিরসন হয়নি। এই আসনে সোহরাব উদ্দিন মনোনয়ন না পাওয়ায় বড় একটি অংশ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জাকির সরকারের বিরোধিতা করেছে। দলীয় ইগোর কারণে সোহরাব গ্রুপ এবং অন্যান্য বিএনপির নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করতে মাঠে গোপনে নেমেছে। এছাড়া, বালুমহল, শহর নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রুপিং-ও এই আসনে পরাজয়ের কারণ। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সোহরাব উদ্দিন ও পদে থাকা বিএনপির নেতাদের অসহযোগিতা। কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া শেখ সাদি ও নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিক তাদের মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান করেছেন। ভোটের আগে পর্যন্ত তাদের সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয় দল। জামায়াত প্রার্থী এই আসনে ভোট কিনেছে লিফলেট বিতরণের সময় পোস্টারের সঙ্গে। এই আসনের বড় সমস্যা ছিল শেখ সাদির নিজস্ব কোম্পানির চাকুরীজীবিদের নিয়ে বিপক্ষে অবস্থান। সর্বপরি কুষ্টিয়ার তিনটি আসনেই মনোনয়ন ও কয়েকজন নেতার পদের আশা হারিয়েছে ধানের শীষ। অন্যদিকে, নির্বাচনের দিনও বিএনপির বিরোধিতা চলমান ছিল। এজন্য বিএনপির এই অবস্থা হয়েছে। এছাড়া, জামায়াতের পক্ষ থেকে নারীদের মোটিভ করা হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষে তেমন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট চাইনি কোনো নেতৃবৃন্দ। যেটুকু করেছেন, তা প্রার্থীকে দেখানোর জন্য। তবে তিনটি আসনেই যোগ্য ছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা এবারের নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছুঁতে পারেনি বিএনপি। দুটি আসনই গেছে জামায়াতের ঘরে। দলের মধ্যে অন্তর্কন্দোল, সমন্বয়হীনতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ভাসমান ভোটারদের টানতে না পারার ব্যর্থতায় ধানের শীষের পরাজয়ের কারণ বলছেন নেতাকর্মী ও সচেতন মানুষ। সেখানে দাঁড়িপাল্লা অনেকটা নীরব থাকলেও কৌশলে জয় ছিনিয়ে এনেছে। নির্বাচনের আগে মাঠে ব্যাপক সরব ছিল বিএনপি। তবে ভোটের ফলাফলে পরাজয় মানতে হয়েছে দলকে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের ভোট ব্যবধান ৫৭ হাজার। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে তা ৪৪ হাজার। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৪১টি। ধানের শীষের শরীফুজ্জামানের প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার ১১। ধানের শীষের মাহমুদ হাসান খান পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৭ ভোট। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তির কারণ অন্যতম। ভবিষ্যত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।” মেহেরপুর জেলা এবারের নির্বাচনে মেহেরপুর জেলার দুটি আসনের জামায়াত সমর্থিত ও জোটপ্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট। এ আসনে বিজয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬০৫ ভোটে। মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট। দু’জনের মধ্যে ভোট ব্যবধান ৮ হাজার ৪৭৯। মূলত জামায়াত ৫ আগস্টের পর থেকে সুসংগঠিতভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। সেই তুলনায় বিএনপি ছিল অনেকটা অগোছালো। নড়াইল জেলা নড়াইলের দুটি আসনের একটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছেন। নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কলস প্রতীকের মনিরুল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় এ জেলায় বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে সমান অবস্থান করেছে। মাগুরা জেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরার দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। মাগুরা-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং ধানের শীষের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন। মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। এ জেলায় ঐক্যবদ্ধ বিএনপি থাকায় জামায়াতের দুই প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
খুলনা বিভাগে বিএনপির বিপর্যয়ের নেপথ্যে চাঁদাবাজি-গ্রুপিং আর সাবেক মুসলিম লীগের ভোট দাঁড়িপাল্লায় ফয়েজ আহমেদ তৈয়বের সবার আগে দেশত্যাগ ও আইসিটি খাতে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিরোধ বাড়লে ‘নারীবিরোধী’ জামায়াত বড় সাফল্য পেতো: ব্রিটিশ এমপি রুপা হক অর্থ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ স্ক্রিনশট ফাঁস করে ‘প্রিয় তারেক রহমান’ সম্বোধনে ঢাবি শিক্ষক মোনামির আকুতিভরা পোস্ট ভাইরাল ধানমন্ডি ৩২ শে যাওয়া কি অপরাধ? “আমার মা কখনও কাউকে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেননি, শুধুমাত্র যারা পুলিশ বা অন্যদের ওপর হামলা করছিল, তাদের ক্ষেত্রে ছাড়া।” – সজীব ওয়াজেদ নিরঙ্কুশ জয়, এখনো সরকার গঠন হয়নি: এর আগেই ধানমন্ডিতে ঢাবি শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্ছিত, প্রশ্নবিদ্ধ ‘ভবিষৎ গণতন্ত্র’ ছয়বার জামিন পেয়েও মেলেনি মুক্তি, কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃত্যু গণতন্ত্রের নতুন সমীকরণ: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ ও বিএনপির ‘কৌশলী’ দাবার চাল শেখ কবির হোসেনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর শোক বাংলাদেশের নির্বাচন এবং আস্থার সংকট দেশব্যাপী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার রক্তক্ষয়ী রুপ গণভোট ২০২৬: সংখ্যার রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক কারচুপির নেপথ্যে গণভোট ২০২৬: নম্বরের উপর প্রশ্ন হাইকোর্ট থেকে ৬ বার জামিন হলেও বারবার গ্রেফতার হয়েছেন জেল গেটে – আজ মৃত্যু। এটা হত্যাকান্ড! ৬ মাস ধরে কারাগারে ছাত্রলীগ কর্মী ফাইজা: দলের ‘নিষ্ক্রিয়তায়’ হতাশ পরিবার ইউনূস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার করতে হবে’: মহসীন রশীদ নওগাঁয় আজব কাণ্ড: মোট ভোটারের চেয়ে ৮৩৬ ভোট বেশি! চাইলে অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম, ক্ষমতার লোভ নেই: সজীব ওয়াজেদ জয়