ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে আরও কড়া অবস্থানে ইইউ
৩০ কোটির চুক্তিতে ১৬ কোটিই পানিতে: প্রেস সচিবের ভাইয়ের ভুয়া কাগজে নিঃস্ব ডা. শাহরিয়ার
গৃহকর্মী নির্যাতন ‘নাটক’ ৩৭ হাজার কোটির বোয়িং ডিল: ‘পথের কাঁটা’ সরাতেই এমডি গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে দিল্লিও নিরাপদ নয়: দক্ষিণ এশিয়ার সামনে এক ভয়ংকর সতর্কঘণ্টা
বিএনপি এখন মার্কিন দূতাবাসের ‘পুতুল’, তারেক রহমান তাদের হাতে জিম্মি: সজীব ওয়াজেদ
১৭ মাসে মাজারে ৯৭ হামলা, ৬১% ধর্মীয় মতবিরোধে
গণপরিষদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে
ভারত থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ছক কষছে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা
বাংলাদেশে তারা এখন অপরাধী ও পলাতক হিসেবে চিহ্নিত—যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অথচ ভারতের কলকাতার শপিং মলের ভিড়ভাট্টা ফুড কোর্টে, কালো কফি আর ফাস্টফুডের টেবিলে বসেই আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা আঁকছেন।
১৬ মাসেরও বেশি আগে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। পেছনে রেখে যাওয়া রাস্তাগুলো ছিল রক্তাক্ত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের সেই অভ্যুত্থান দমনে হাসিনার শেষ দমন-পীড়নে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়।
এরপর তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীও পালিয়ে যান—অনেকে
জনতার সহিংসতার শিকার হন, আবার অনেকের বিরুদ্ধে শাসনামলের অপরাধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। তাদের মধ্যে ৬০০–এর বেশি আওয়ামী লীগ নেতা আশ্রয় নেন কলকাতায়, যেখানে তারা তখন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারত তাদের জন্য হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়—যা শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন। গত বছরের শেষ দিকে
একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবু রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে রাজি নন হাসিনা। তিনি ওই রায়কে “মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়ে ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করে চলেছেন। এমনকি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে সংগঠিত করার চেষ্টাও করছেন। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক গোপন, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত অবস্থান থেকে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও ফোনালাপ চালাচ্ছেন। তার রাজনৈতিক তৎপরতা ভারতের সরকারের নজরদারির মধ্যেই চলছে—যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে। গত এক বছরে সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ অনেক শীর্ষ নেতা কলকাতা থেকে দিল্লিতে গিয়ে হাসিনার সঙ্গে
দলীয় কৌশল নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদের একজন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকা আমাদের কর্মী, নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।” অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করেছে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, “কখনো কখনো তিনি দিনে ১৫–১৬ ঘণ্টা বৈঠক ও ফোনে থাকেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবেন—এবার নায়ক হিসেবে।” হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত শেষ দুটি নির্বাচন ছিল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এবারের নির্বাচন হবে এক
দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ভেঙে পড়ে। তারা ইউনূসকে “প্রতিহিংসাপরায়ণ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করছেন—যা ইউনূস প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি—এই ভাঁওতা প্রক্রিয়ায় কেউ অংশ নেবে না। নির্বাচন বর্জন করতে হবে।” বাংলাদেশে যারা গত ১৫ বছরের স্বৈরতন্ত্র ও লুটেরা শাসনের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের নথিতে বহু বছর ধরেই উঠে এসেছে—হাসিনার শাসনামলে ভিন্নমত দমন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত
হত্যাকাণ্ড ছিল নিয়মিত ঘটনা। বহু গোপন বন্দিশালা থেকে মানুষ বেরিয়ে আসে তার পতনের পর। বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম ছিল কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত। তবে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে—সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার, সাংবাদিকদের দমন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি। হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালও আন্তর্জাতিক মান না মানার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। হাসিনার পতনের পর প্রতিশোধের নামে দেশে এক দফা গণপিটুনি ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের দাবি—তাদের শত শত কর্মী নিহত, নির্যাতিত বা জামিন ছাড়াই কারাবন্দি। অনেকেই আত্মগোপনে। “আমরা কলকাতায় থাকছি জেলভয়ে নয়,” বলেন হোসেন। “আমরা জানি দেশে ফিরলে আমাদের মেরে ফেলা হবে।” ভূরাজনৈতিক অস্বস্তি কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্যও অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করেছে—একটি
নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড ভারতের মাটি থেকে চলতে দেওয়া এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক পলাতকদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। গত সপ্তাহে এই উত্তেজনা চূড়ায় ওঠে, যখন দিল্লিতে এক সমাবেশে হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। অডিও বার্তায় তিনি নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ইউনূসকে “জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের” অভিযোগ করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “ভারতের রাজধানীতে গণহত্যাকারী হাসিনাকে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি চরম অবমাননা।” ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কলকাতায় অবস্থানরত অনেক নেতা নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে “ষড়যন্ত্র” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাবেক এমপি এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, “এটা কোনো গণঅভ্যুত্থান নয়, এটা ছিল সন্ত্রাসী দখল।” তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হেসে বলেন, “সবই ভুয়া।” এখন পর্যন্ত নির্বাসিত নেতাদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তারা বিশ্বাস করেন—এই নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে। সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় স্বীকার করেন, “আমরা সাধু ছিলাম না। আমরা কর্তৃত্ববাদী ছিলাম। ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু ছিল না।” তবে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “অনিয়ম হয়েছিল, তবে ২০০ বিলিয়ন ডলার লুটের দাবি অতিরঞ্জিত।” শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাস, এই অন্ধকার সময় দীর্ঘস্থায়ী হবে না। “ফিরলে জেল হবে জানি,” বলেন তিনি, “তবু আমি আশা হারাইনি।”
জনতার সহিংসতার শিকার হন, আবার অনেকের বিরুদ্ধে শাসনামলের অপরাধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। তাদের মধ্যে ৬০০–এর বেশি আওয়ামী লীগ নেতা আশ্রয় নেন কলকাতায়, যেখানে তারা তখন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারত তাদের জন্য হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়—যা শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন। গত বছরের শেষ দিকে
একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবু রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে রাজি নন হাসিনা। তিনি ওই রায়কে “মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়ে ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করে চলেছেন। এমনকি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে সংগঠিত করার চেষ্টাও করছেন। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক গোপন, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত অবস্থান থেকে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও ফোনালাপ চালাচ্ছেন। তার রাজনৈতিক তৎপরতা ভারতের সরকারের নজরদারির মধ্যেই চলছে—যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে। গত এক বছরে সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ অনেক শীর্ষ নেতা কলকাতা থেকে দিল্লিতে গিয়ে হাসিনার সঙ্গে
দলীয় কৌশল নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদের একজন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকা আমাদের কর্মী, নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।” অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করেছে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, “কখনো কখনো তিনি দিনে ১৫–১৬ ঘণ্টা বৈঠক ও ফোনে থাকেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবেন—এবার নায়ক হিসেবে।” হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত শেষ দুটি নির্বাচন ছিল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এবারের নির্বাচন হবে এক
দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ভেঙে পড়ে। তারা ইউনূসকে “প্রতিহিংসাপরায়ণ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করছেন—যা ইউনূস প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি—এই ভাঁওতা প্রক্রিয়ায় কেউ অংশ নেবে না। নির্বাচন বর্জন করতে হবে।” বাংলাদেশে যারা গত ১৫ বছরের স্বৈরতন্ত্র ও লুটেরা শাসনের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের নথিতে বহু বছর ধরেই উঠে এসেছে—হাসিনার শাসনামলে ভিন্নমত দমন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত
হত্যাকাণ্ড ছিল নিয়মিত ঘটনা। বহু গোপন বন্দিশালা থেকে মানুষ বেরিয়ে আসে তার পতনের পর। বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম ছিল কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত। তবে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে—সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার, সাংবাদিকদের দমন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি। হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালও আন্তর্জাতিক মান না মানার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। হাসিনার পতনের পর প্রতিশোধের নামে দেশে এক দফা গণপিটুনি ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের দাবি—তাদের শত শত কর্মী নিহত, নির্যাতিত বা জামিন ছাড়াই কারাবন্দি। অনেকেই আত্মগোপনে। “আমরা কলকাতায় থাকছি জেলভয়ে নয়,” বলেন হোসেন। “আমরা জানি দেশে ফিরলে আমাদের মেরে ফেলা হবে।” ভূরাজনৈতিক অস্বস্তি কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্যও অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করেছে—একটি
নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড ভারতের মাটি থেকে চলতে দেওয়া এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক পলাতকদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। গত সপ্তাহে এই উত্তেজনা চূড়ায় ওঠে, যখন দিল্লিতে এক সমাবেশে হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। অডিও বার্তায় তিনি নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ইউনূসকে “জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের” অভিযোগ করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “ভারতের রাজধানীতে গণহত্যাকারী হাসিনাকে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি চরম অবমাননা।” ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কলকাতায় অবস্থানরত অনেক নেতা নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে “ষড়যন্ত্র” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাবেক এমপি এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, “এটা কোনো গণঅভ্যুত্থান নয়, এটা ছিল সন্ত্রাসী দখল।” তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হেসে বলেন, “সবই ভুয়া।” এখন পর্যন্ত নির্বাসিত নেতাদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তারা বিশ্বাস করেন—এই নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে। সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় স্বীকার করেন, “আমরা সাধু ছিলাম না। আমরা কর্তৃত্ববাদী ছিলাম। ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু ছিল না।” তবে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “অনিয়ম হয়েছিল, তবে ২০০ বিলিয়ন ডলার লুটের দাবি অতিরঞ্জিত।” শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাস, এই অন্ধকার সময় দীর্ঘস্থায়ী হবে না। “ফিরলে জেল হবে জানি,” বলেন তিনি, “তবু আমি আশা হারাইনি।”



