ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অপ্রতিরোধ্য এক দেয়ালের অবসান ঘটল
GSOMIA এবং ACSA চুক্তি সরাসরি নাকচ, ফলে আমেরিকার সাথে পূর্ণ দ্বৈরথ শেখ হাসিনার!
এশিয়ার রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে ভারতই যখন ‘কিংমেকার’
‘দেশমাতা’র মুখোশ বনাম দেশবিরোধিতার দালিলিক প্রমাণ: একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ
বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা, সেই পুরনো স্ক্রিপ্ট
চিফ প্রসিকিউটরের হুমকি: ন্যায়বিচারের সামনে ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা
বাংলার রাজনৈতিক আকাশে মুজিব তনয়া এখনো সমান অপরিহার্য
অহিংস রাজনীতির প্রতীক মানবিক রাজনীতির ধ্রুবতারা সজীব ওয়াজেদ জয়
শাহজাদা মহিউদ্দিন
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে এক রক্তক্ষয়ী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ আবর্তে বন্দী। এখানে ক্ষমতার পালাবদল মানেই কেবল শাসকের পরিবর্তন নয়, বরং পরাজিত শক্তির ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় নির্যাতন, নিপীড়ন এবং অস্তিত্ব বিনাশের এক মহোৎসব। ‘চোখের বদলে চোখ’ কিংবা ‘দাঁতের বদলে দাঁত’—এই সনাতন রাজনৈতিক দর্শনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে দেশের গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক চরম ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই এক ভিন্নধারার নেতৃত্বের উন্মেষ ঘটল। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি প্রতিহিংসার হুঙ্কার না দিয়ে শোনালেন সহনশীলতার বাণী, তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন
সময়ে তিনি যে ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছেন, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত পরিপক্কতাকেই নির্দেশ করে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আধুনিক ও মানবিক অধ্যায়ের সূচনাকেও ইঙ্গিত করে। মেধা ও মননের সংমিশ্রণ: নেতৃত্বের ভিত্তি বংশপরম্পরায় রাজনীতির রক্ত শরীরে বহন করলেও সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর নেতৃত্বের ধরন ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হলে তাঁর শিক্ষাজীবন ও বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। ভারতের নৈনিতাল ও তামিলনাড়ুর পাঠ চুকিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ‘ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন’ থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে লোকপ্রশাসনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। একজন প্রকৌশলীর নিখুঁত লজিক
বা যুক্তি এবং হার্ভার্ডের সুশাসনের পাঠ—এই দুইয়ের এক অপূর্ব রাসায়নিক সংমিশ্রণ ঘটেছে তাঁর চরিত্রে। বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিতে যেখানে আবেগ ও উত্তেজনাই প্রধান চালিকাশক্তি, সেখানে জয় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ইঞ্জিনিয়ারিং তাঁকে শিখিয়েছে সমস্যার মূলে গিয়ে ধাপে ধাপে সমাধানের পথ বের করতে, আর লোকপ্রশাসন তাঁকে শিখিয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তেও তিনি বিচলিত না হয়ে যুক্তির পথেই হেঁটেছেন। তাঁর এই ‘ইস্পাতকঠিন মানসিকতা’ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জ্ঞানসাধনা ও বিশ্বমানের শিক্ষার ফসল। সংকটকালে রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়টি ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাকর্মীদের ওপর
হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নজিরবিহীন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা যখন দিশেহারা, তখন তাঁদের প্রত্যাশা ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো ‘কঠোর নির্দেশ’ বা ‘দাঁতভাঙা জবাব’-এর। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় এখানেই নিজেকে প্রমাণ করলেন একজন প্রথাগত নেতার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে—একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, এই মুহূর্তে আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিরোধের ডাক দেওয়া মানেই দেশকে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া। একটি ভুল সিদ্ধান্ত হাজারো মায়ের কোল খালি করতে পারে, দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে ধুলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালাননি। বরং তিনি কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছেন, নিজেদের জীবন রক্ষা করতে বলেছেন
এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ধারক হিসেবে তিনি দলের সাময়িক আবেগের চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই যে চরম উস্কানির মুখেও সহিংসতা বর্জন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন—এটি বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। অস্ত্রের বদলে যুক্তি: আধুনিক প্রতিরোধের কৌশল সজীব ওয়াজেদ জয় বিশ্বাস করেন, একবিংশ শতাব্দীতে পেশিশক্তি দিয়ে সাময়িক বিজয় অর্জন করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদী সত্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই তিনি প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁর নিজের হাতে গড়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর শক্তি এবং ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি’কে। রাজপথে লাঠিসোঁটা নিয়ে নামার বদলে তিনি লড়াই করেছেন তথ্যের ময়দানে। বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরার মতো
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র। তিনি লড়েছেন ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ানের লড়াইয়ে। তাঁর এই কৌশল প্রমাণ করে যে, তিনি আধুনিক বিশ্বের ভাষা বোঝেন। তিনি জানেন, আজকের দিনে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া অসম্ভব, যদি সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায়। মিথ্যার কোলাহলের বিপরীতে সত্যের এই নীরব ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা যে কত বেশি শক্তিশালী হতে পারে, তা তিনি হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়েছেন। এটি কেবল আওয়ামী লীগের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়—রাজনীতি মানেই সংঘাত নয়, রাজনীতি হলো মেধা ও যুক্তির খেলা। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অনন্য নজির বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনৈতিক শিষ্টাচার।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার শব্দটি যেন এক বিলুপ্তপ্রায় ধারণা। এখানে এক দল আরেক দলের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া কামনা করে, প্রতিপক্ষের মৃত্যু বা অসুস্থতায় উল্লাস প্রকাশ করার মতো ন্যাক্কারজনক সংস্কৃতিও এখানে বিদ্যমান। এই বিষাক্ত সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে জয় দেখিয়েছেন অসামান্য উদারতা। প্রদত্ত প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি যে গভীর শোক ও শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতির পঙ্কিলতা থেকে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও অতীত বৈরিতাকে ভুলে তিনি খালেদা জিয়ার অবদান স্বীকার করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুকে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই আচরণ প্রমাণ করে যে, তিনি ‘জিরো সাম গেম’ বা ‘শত্রুতা সর্বস্ব’ রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তিনি বিশ্বাস করেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দিনশেষে সবাই এই দেশেরই সন্তান। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন দুর্বলতা নয়, বরং তা একজন নেতার আত্মবিশ্বাস ও উদার মানসিকতারই পরিচায়ক। এই একটি ঘটনা বাংলাদেশের বিভক্ত সমাজকে জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করেছে। একজন নেতার প্রকৃত পরীক্ষা ক্ষমতার মসনদে বসে হয় না, হয় রাজপথের সংকটে এবং বিপর্যয়ের মুহূর্তে। সজীব ওয়াজেদ জয় সেই পরীক্ষায় সগৌরবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা’ নন, তিনি এক মানবিক ও সহনশীল বাংলাদেশেরও স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি এমন এক রাজনীতির প্রবর্তন করতে চাইছেন, যেখানে ক্ষমতা দখলের চেয়ে মানুষের কল্যাণ বড়, প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমা মহান এবং উস্কানির চেয়ে ধৈর্য শক্তিশালী। নির্যাতনের মুখেও সংবিধান ও আইনের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা এবং চরম সংকটকালেও সহিংসতা বর্জনের নীতি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক ‘টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হয়ে থাকবে। তিনি শিখিয়ে দিলেন—সাময়িক আবেগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব বড়, আর মিথ্যার কোলাহলের চেয়ে সত্যের সাধনা অনেক বেশি টেকসই। আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় কেবল আওয়ামী লীগের হাল ধরেননি, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই সহনশীলতা, মেধা এবং প্রজ্ঞা যদি বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে চর্চা করা হয়, তবেই হয়তো আমরা একটি সংঘাতমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পারি। বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে সজীব ওয়াজেদ জয় তাই কেবল একটি নাম নয়; বরং মেধা, ধৈর্য, অহিংসা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক মূর্ত প্রতীক ও ধ্রুবতারা। সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ।
সময়ে তিনি যে ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছেন, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত পরিপক্কতাকেই নির্দেশ করে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আধুনিক ও মানবিক অধ্যায়ের সূচনাকেও ইঙ্গিত করে। মেধা ও মননের সংমিশ্রণ: নেতৃত্বের ভিত্তি বংশপরম্পরায় রাজনীতির রক্ত শরীরে বহন করলেও সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর নেতৃত্বের ধরন ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হলে তাঁর শিক্ষাজীবন ও বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। ভারতের নৈনিতাল ও তামিলনাড়ুর পাঠ চুকিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ‘ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন’ থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে লোকপ্রশাসনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। একজন প্রকৌশলীর নিখুঁত লজিক
বা যুক্তি এবং হার্ভার্ডের সুশাসনের পাঠ—এই দুইয়ের এক অপূর্ব রাসায়নিক সংমিশ্রণ ঘটেছে তাঁর চরিত্রে। বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিতে যেখানে আবেগ ও উত্তেজনাই প্রধান চালিকাশক্তি, সেখানে জয় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ইঞ্জিনিয়ারিং তাঁকে শিখিয়েছে সমস্যার মূলে গিয়ে ধাপে ধাপে সমাধানের পথ বের করতে, আর লোকপ্রশাসন তাঁকে শিখিয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তেও তিনি বিচলিত না হয়ে যুক্তির পথেই হেঁটেছেন। তাঁর এই ‘ইস্পাতকঠিন মানসিকতা’ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জ্ঞানসাধনা ও বিশ্বমানের শিক্ষার ফসল। সংকটকালে রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়টি ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাকর্মীদের ওপর
হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নজিরবিহীন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা যখন দিশেহারা, তখন তাঁদের প্রত্যাশা ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো ‘কঠোর নির্দেশ’ বা ‘দাঁতভাঙা জবাব’-এর। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় এখানেই নিজেকে প্রমাণ করলেন একজন প্রথাগত নেতার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে—একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, এই মুহূর্তে আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিরোধের ডাক দেওয়া মানেই দেশকে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া। একটি ভুল সিদ্ধান্ত হাজারো মায়ের কোল খালি করতে পারে, দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে ধুলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালাননি। বরং তিনি কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছেন, নিজেদের জীবন রক্ষা করতে বলেছেন
এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ধারক হিসেবে তিনি দলের সাময়িক আবেগের চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই যে চরম উস্কানির মুখেও সহিংসতা বর্জন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন—এটি বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। অস্ত্রের বদলে যুক্তি: আধুনিক প্রতিরোধের কৌশল সজীব ওয়াজেদ জয় বিশ্বাস করেন, একবিংশ শতাব্দীতে পেশিশক্তি দিয়ে সাময়িক বিজয় অর্জন করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদী সত্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই তিনি প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁর নিজের হাতে গড়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর শক্তি এবং ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি’কে। রাজপথে লাঠিসোঁটা নিয়ে নামার বদলে তিনি লড়াই করেছেন তথ্যের ময়দানে। বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরার মতো
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র। তিনি লড়েছেন ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ানের লড়াইয়ে। তাঁর এই কৌশল প্রমাণ করে যে, তিনি আধুনিক বিশ্বের ভাষা বোঝেন। তিনি জানেন, আজকের দিনে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া অসম্ভব, যদি সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায়। মিথ্যার কোলাহলের বিপরীতে সত্যের এই নীরব ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা যে কত বেশি শক্তিশালী হতে পারে, তা তিনি হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়েছেন। এটি কেবল আওয়ামী লীগের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়—রাজনীতি মানেই সংঘাত নয়, রাজনীতি হলো মেধা ও যুক্তির খেলা। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অনন্য নজির বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনৈতিক শিষ্টাচার।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার শব্দটি যেন এক বিলুপ্তপ্রায় ধারণা। এখানে এক দল আরেক দলের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া কামনা করে, প্রতিপক্ষের মৃত্যু বা অসুস্থতায় উল্লাস প্রকাশ করার মতো ন্যাক্কারজনক সংস্কৃতিও এখানে বিদ্যমান। এই বিষাক্ত সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে জয় দেখিয়েছেন অসামান্য উদারতা। প্রদত্ত প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি যে গভীর শোক ও শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতির পঙ্কিলতা থেকে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও অতীত বৈরিতাকে ভুলে তিনি খালেদা জিয়ার অবদান স্বীকার করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুকে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই আচরণ প্রমাণ করে যে, তিনি ‘জিরো সাম গেম’ বা ‘শত্রুতা সর্বস্ব’ রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তিনি বিশ্বাস করেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দিনশেষে সবাই এই দেশেরই সন্তান। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন দুর্বলতা নয়, বরং তা একজন নেতার আত্মবিশ্বাস ও উদার মানসিকতারই পরিচায়ক। এই একটি ঘটনা বাংলাদেশের বিভক্ত সমাজকে জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করেছে। একজন নেতার প্রকৃত পরীক্ষা ক্ষমতার মসনদে বসে হয় না, হয় রাজপথের সংকটে এবং বিপর্যয়ের মুহূর্তে। সজীব ওয়াজেদ জয় সেই পরীক্ষায় সগৌরবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা’ নন, তিনি এক মানবিক ও সহনশীল বাংলাদেশেরও স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি এমন এক রাজনীতির প্রবর্তন করতে চাইছেন, যেখানে ক্ষমতা দখলের চেয়ে মানুষের কল্যাণ বড়, প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমা মহান এবং উস্কানির চেয়ে ধৈর্য শক্তিশালী। নির্যাতনের মুখেও সংবিধান ও আইনের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা এবং চরম সংকটকালেও সহিংসতা বর্জনের নীতি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক ‘টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হয়ে থাকবে। তিনি শিখিয়ে দিলেন—সাময়িক আবেগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব বড়, আর মিথ্যার কোলাহলের চেয়ে সত্যের সাধনা অনেক বেশি টেকসই। আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় কেবল আওয়ামী লীগের হাল ধরেননি, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই সহনশীলতা, মেধা এবং প্রজ্ঞা যদি বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে চর্চা করা হয়, তবেই হয়তো আমরা একটি সংঘাতমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পারি। বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে সজীব ওয়াজেদ জয় তাই কেবল একটি নাম নয়; বরং মেধা, ধৈর্য, অহিংসা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক মূর্ত প্রতীক ও ধ্রুবতারা। সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ।



