‘স্বাধীনভাবে খেলতে চাওয়া’ই কাল হলো ১০ বছরের কিশোরীর? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ September, ২০২৪

‘স্বাধীনভাবে খেলতে চাওয়া’ই কাল হলো ১০ বছরের কিশোরীর?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ September, ২০২৪ |
অবরুদ্ধ গাজায় সম্প্রতি ইসরাইলি বিমান হামলায় ১০ বছরের এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে। তলা নামে কিশোরীটি রোলার-স্কেটিং খুব ভালোবাসত। তার পরিবারের মতে, শিশুটি সব সময় খেলাধুলা করতে চেয়েছিল এবং স্বাধীনভাবে বাইরে খেলতে পছন্দ করত। তলার বাবা হুসাম আবু আজওয়া প্রথমে তাকে বাইরে খেলতে যেতে বাধা দেন। তবে তলার ক্রমাগত অনুরোধে অবশেষে তিনি রাজি হন। কিন্তু মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলি হামলার বিস্ফোরণ হয়। আর সেই হামলায় নিহত হয় তলা। হুসাম জানান, তার মেয়ে তাকে বারবার বলেছিল, ‘বাবা, দয়া করে আমাকে বাইরে যেতে দাও’। তিনি বলেন, ‘আমি তার এমন অনুরোধে দুঃখিত বোধ করেছিলাম। কারণ সে অন্য মেয়েদের সঙ্গে খেলতে চেয়েছিল। তবে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই

আমি দ্রুত বাইরে ছুটে যাই। যখন আমি বোমাবর্ষিত ফ্ল্যাটের কাছে পৌঁছালাম, আমি তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকতে দেখি। তার রোলার স্কেট দেখে আমি তাকে চিনতে পারি’। গাজায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ নেই তলার মৃত্যু ইসরাইলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজার হাজার হাজার শিশুর করুণ অবস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ, আগ্রাসন, বোমা হামলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কারণে গাজা উপত্যকায় শিশুদের জন্য খেলাধুলা এবং বিনোদনের সুযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা UNRWA-এর প্রধান জানিয়েছেন, ৭০ শতাংশ স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মায়ের কথা উম্মে তলা বলেন, তার মেয়ে সবসময়ই বলত, ‘আমরা কেনো বিশ্বের অন্য শিশুদের মতো শান্তিতে বাঁচতে পারি না? আমরা আর

যুদ্ধ চাই না, মা’। ১০ বছরের তলার মৃত্যুতে তার মা, বাবা এবং ভাইদের শোক কোনোভাবেই কাটছে না। তলার মা বলেন, সে সবসময় বলত, ‘আমি পার্কে যেতে চাই, খেলতে চাই’। এখন তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা গাজার শিশুদের দুর্বিষহ অবস্থাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। যেখানে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ এবং ধ্বংসের মাঝে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। গাজার পরিস্থিতি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে নির্মূলের লক্ষ্যে অবরুদ্ধ গাজায় চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনে এমন বহু সংখ্যক বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, বিশেষত শিশুরা। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ইতোমধ্যেই হাজারো শিশু প্রাণ হারিয়েছে। উপত্যকাজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪১ হাজার ফিলিস্তিনি

নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার চিকিৎসা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, উপত্যকায় শিশুদের মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। কারণ হামলার লক্ষ্যবস্তু প্রায়ই বেসামরিক এলাকা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এ হত্যাকাণ্ডের পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের