সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৬

সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৬ |
সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ফের বাড়তির দিকে ভোজ্যতেলের বাজার। সরকারকে বেকায়দায় ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ানোর অপচেষ্টায় নেমেছে একটি প্রভাবশালী মহল। তাদের মূল লক্ষ্য প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ছয় টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এ হীন উদ্দেশ্যে মিলগেট থেকেই এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিলারদের হাত ঘুরে খুচরা বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। পাড়ার মুদি দোকানেও এখন চাহিদামতো সয়াবিন তেল মিলছে না, যার কারণে ক্রেতারা পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েছেন এই চক্রের কাছে। এদিকে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও কারসাজির দায়ে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৯৫ টাকায়— যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে পুরো ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ,

নতুন করে সরকারি কোনো দাম বাড়ানোর ঘোষণা না এলেও অসাধু চক্রের পকেট ভরতে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে মূল্য বাড়িয়ে নেয়। গত কয়েক বছর একই পন্থায় ওই চক্র সরকারকে চাপে ফেলে মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে।

তবুও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর নয়াবাজারের ৬টি মুদি দোকানের ৪টিতে এক ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ দেখা যায়নি। পাশাপাশি জিনজিরা কাঁচাবাজারের ৮টি মুদি দোকান ঘুরে ৩টিতে এক লিটারের বোতল সয়াবিন পাওয়া গেছে। বাকি ২টিতে মিলেছে দুই লিটার তেল। তবে ওই সব দোকানে ৫ লিটারের তেলের সরবরাহ ছিল। জিনজিরা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাগর বলেন, আমাদের এক ও দুই লিটারের সয়াবিনের দৈনিক চাহিদা ২০ কার্টন দিলেও ডিলাররা ২-৪ কার্টন দেয়। কৌশলে তারা আগের মতো করে দাম বাড়াতে সরবরাহ কমাচ্ছে। এদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম

সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে ১১ জুলাই ভোজ্যতেল লিটারে ৮-১০ টাকা বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওই অবস্থায় তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও লিটারে ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। চিঠি দেওয়ার সপ্তাহ পর একদফা বৈঠকও হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। তবে

কোনো মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে দাবি মোতাবেক লিটারে ১০ টাকা না বাড়ায় ব্যবসায়ীরা ফের কারসাজি শুরু করেছেন। সরবরাহ কমিয়ে চাপে ফেলছেন সরকারকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের একটি সয়াবিন তেল ব্র্যান্ডের ডিলার জানান, ফের তেলের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো। এজন্য ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কম তেল পাওয়ায় খুচরা বাজারেও সরবরাহ কম করে দিতে পারছি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সরবরাহ যতক্ষণ থাকে আমরা খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করি। কোম্পানি তেল

না দিলে খুচরায় দিতে পারি না। এমন পরিস্থিতি গত কয়েকবার হয়েছে। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহণ খরচও। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসান হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহণ ব্যয়। এসব কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি (লিটারে ১০ টাকা) দাম বাড়ানোর। কিন্তু বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি

বিবেচনা করে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে নতুন করে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে কোম্পানিগুলো কোনো চিঠি দেয়নি। তারা যদি মূল্যবৃদ্ধি করতে সরবরাহ কমিয়ে দেয়, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
পডাডাড test আগুনে শেষ আনন্দভ্রমণ বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট সহজ শর্তে ঋণের ওপর গুরুত্ব আইএমএফের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, সরিয়ে নেওয়ায় হচ্ছে বাসিন্দাদের কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময় জানাল ইসি সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মূলহোতা আমিনী গ্রেফতার অস্ত্র হাতে মাদকের আস্তানায় অভিযান, যা বললেন ইশরাক জুলাই যোদ্ধা বানিয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা দিল্লি’তে হল্লা: “আমরা বাংলাদেশ বা নেপাল নই, ক্ষমতার পরিবর্তন হবে গণতান্ত্রিক পথেই; অসাংবিধানিক বা সহিংসতার মাধ্যমে না” – প্রকাশ রাজ আইনবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, টাকা চেয়ে বিভিন্ন মহলে চিঠি বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল নেতাদের সিন্ডিকেটের অধীনে চলছে মেঘনায় মা ইলিশ আহরণের মহোৎসব মারমা তরুণীকে ধর্ষণ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গ্রেপ্তার ফেনীতে অপহরণ করে ব্যবসায়ীকে রাতভর নির্যাতন, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার ১৩ ট্রাই-সিরিজের মধ্যে জয় মাত্র ১টিতে, পরিসংখ্যান যেমন বলছে টাইগারদের