ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে : চরমোনাই পীর
ইবনে সিনায় শত কোটি টাকার ‘হরিলুট’: কাঠগড়ায় জামায়াত নেতা ডা. তাহের
হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—নাগরিকের আক্ষেপ
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান
খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুদ
টোল ও ত্রাণের টাকার হিসাব চাইলেন তারেক রহমান, উপদেষ্টাদের বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
আ. লীগকে বাদ দিয়ে ইনক্লুসিভ ইলেকশন হতে পারে না : বদিউর রহমান
রঙিন বিপ্লব’-এর পর বাংলাদেশ কি ইসলামি একনায়কতন্ত্রের পথে? নতুন বইয়ে সতর্কবার্তা
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে সংঘটিত ‘রঙিন বিপ্লব’ বা ‘কালার রেভল্যুশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে। বইটিতে সতর্ক করা হয়েছে, নোবেলজয়ী ব্যাংকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অপশাসন, গণতান্ত্রিক অবক্ষয় এবং ইসলামি মৌলবাদী শাসনের গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বইটির নাম ‘বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিংক, ব্লিডিং বাউন্ডারিজ’ (রক্তপাতের সীমানার সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ)। বইটির যৌথ রচয়িতা রবার্ট বি ল্যান্সিয়া, ক্রিস্টোফার ব্ল্যাকবার্ন ও প্রিয়জিত দেবসরকার। এতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে ভাঙন
বইটিতে লেখকরা দাবি করেছেন, দেড় বছর আগে রাজধানী
ঢাকার ক্ষমতা তথাকথিত ‘সংস্কারপন্থী’ শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার পর থেকে দেশে আইনের শাসন দ্রুত ভেঙে পড়েছে। লেখকদের অভিযোগ, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইটিতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি ভীতিজাগানিয়া চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, বুদ্ধিজীবী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। লেখকদের মতে, এসব ঘটনা দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইসলামি একনায়কতন্ত্রের আশঙ্কা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব বা ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে খিলাফত
বা শরিয়া আইনের কথা না বললেও, তাঁদের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। লেখকদের দাবি, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে অঘোষিত নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বাংলাদেশে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ইসলামি একনায়কতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বদলে দিতে পারে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণ বইটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। লেখকরা আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল এবং পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সেনাবাহিনীর আড়ালে সরকার পরিচালনার ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের
সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত কেন্দ্রে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা বা উগ্রবাদের উত্থান শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। লেখক পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট বইটির লেখকদের পরিচয় এর বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে। রবার্ট বি ল্যান্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। ক্রিস্টোফার ব্ল্যাকবার্ন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি বিশেষত জামায়াত-ই-ইসলামী ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, প্রিয়জিত দেবসরকার লন্ডনভিত্তিক একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বইটিতে ব্যবহৃত ‘কালার রেভল্যুশন’ পরিভাষাটি সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্রনীতির সমালোচকরা ব্যবহার করে থাকেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের এবং পশ্চিমা বিশ্বের একাংশের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা গেছে, এই বইটিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংকট উত্তরণে সুপারিশ বইটির উপসংহারে বাংলাদেশকে একটি ‘সংকটময় সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যাতে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত না হয়, সেজন্য লেখকরা দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: ১. সব গণতান্ত্রিক শক্তির অংশগ্রহণে অবিলম্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। ২. নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা। ৩. আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ৪. জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৫. নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা। লেখকরা হুঁশিয়ারি
দিয়ে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ উগ্রবাদী শাসনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়তে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে।
ঢাকার ক্ষমতা তথাকথিত ‘সংস্কারপন্থী’ শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার পর থেকে দেশে আইনের শাসন দ্রুত ভেঙে পড়েছে। লেখকদের অভিযোগ, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইটিতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি ভীতিজাগানিয়া চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, বুদ্ধিজীবী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। লেখকদের মতে, এসব ঘটনা দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইসলামি একনায়কতন্ত্রের আশঙ্কা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব বা ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে খিলাফত
বা শরিয়া আইনের কথা না বললেও, তাঁদের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। লেখকদের দাবি, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে অঘোষিত নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বাংলাদেশে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ইসলামি একনায়কতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বদলে দিতে পারে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণ বইটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। লেখকরা আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল এবং পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সেনাবাহিনীর আড়ালে সরকার পরিচালনার ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের
সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত কেন্দ্রে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা বা উগ্রবাদের উত্থান শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। লেখক পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট বইটির লেখকদের পরিচয় এর বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে। রবার্ট বি ল্যান্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। ক্রিস্টোফার ব্ল্যাকবার্ন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি বিশেষত জামায়াত-ই-ইসলামী ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, প্রিয়জিত দেবসরকার লন্ডনভিত্তিক একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বইটিতে ব্যবহৃত ‘কালার রেভল্যুশন’ পরিভাষাটি সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্রনীতির সমালোচকরা ব্যবহার করে থাকেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের এবং পশ্চিমা বিশ্বের একাংশের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা গেছে, এই বইটিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংকট উত্তরণে সুপারিশ বইটির উপসংহারে বাংলাদেশকে একটি ‘সংকটময় সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যাতে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত না হয়, সেজন্য লেখকরা দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: ১. সব গণতান্ত্রিক শক্তির অংশগ্রহণে অবিলম্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। ২. নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা। ৩. আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ৪. জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৫. নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা। লেখকরা হুঁশিয়ারি
দিয়ে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ উগ্রবাদী শাসনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়তে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে।



