যুদ্ধক্ষেত্রে ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার, প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় নিহত ১৭ বাংলাদেশি: এসআরবি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬

যুদ্ধক্ষেত্রে ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার, প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় নিহত ১৭ বাংলাদেশি: এসআরবি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬ |
রাশিয়ায় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার কথা ছিল ৩০ বাংলাদেশির। তবে দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তুলে দেওয়া হয় রুশ সেনাবাহিনীর হাতে। মাত্র ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পাঠানো হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে। সেখানে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে তাদের ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এভাবে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। ‎বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম দুই সদস্য জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর

রহমান (৫৫) ও আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের প্রতিশ্রুত কাজে নিয়োগ না দিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়। ‎সংবাদ সম্মেলনে মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাদের নেওয়া হয়েছিল, তাদের যুদ্ধ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ কিংবা কৌশলগত প্রস্তুতি ছিল না। এত অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পেছনে

অন্য উদ্দেশ্য ছিল বলে ধারণা করছে এসআরবি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে বাংলাদেশিদের একধরনের ‘শিকার’ হিসেবে সামনে পাঠানো হতো। তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হলে সেই হামলার সূত্র ধরে প্রতিপক্ষের অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব হতো। ‎এসআরবি জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রথম ভাগ, মধ্যভাগ ও শেষভাগ—এই তিন অংশে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি। জীবিতদের বিষয়ে এসআরবির তথ্য, দুজন আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। তাদের একজন রাজন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে

ড্রোনের আঘাতে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, এই মানব পাচারে বাংলাদেশি চক্রের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি এবং কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারী জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযান চলছে। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ‎এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একই কৌশলে যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকেও গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুরের বাসিন্দারা গেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ‎তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের কেউ কেউ ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এখন পরিবারের সদস্যরা স্বজনের মৃত্যুর খবর পেলেও অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ দেখতে পারছেন না, এমনকি দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগও পাচ্ছেন না। বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে এবং যাত্রার পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেতার বাসাসহ রাজধানীর তিন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ছাত্রকে ধর্ষণের পর গোসল ছাড়াই ফজর নামাজের ইমামতি করেন হেফাজত-খেলাফত মজলিস নেতা ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল: জামায়াত আমিরকে বেদম পিটুনি, অণ্ডকোষ জখম এলাকার নারীদের অজান্তে ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল: স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক হাতেনাতে ধরা, গণপিটুনি হেফাজত আমির: জামায়াতের দীন-ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়, মওদুদীবাদ ভ্রান্তির পথ বাংলাদেশের জন্য রুশ বাজারের নতুন দুয়ার, বাণিজ্য সম্প্রসারণে মস্কোর আগ্রহ হবিগঞ্জে পুড়ল জুলাই স্তম্ভ সি.এফ এর প্রতিবেদন: সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে ৭.৫২ ভাগ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতিতে বুড়িগঙ্গায় ব্যানার টাঙিয়ে ছাত্রলীগের ‘নৌকা মিছিল’ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গুপ্ত পরিষেবা: পরীক্ষা না দিলেও মেলে ফল, ফেল করেও ফলাফল জিপিএ-৫ স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতার আহ্বান মামুনুল হকের আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডে স্বতন্ত্র শপিং অ্যাপ আনল টিকটক বৃষ্টির সময় পড়ার দোয়া ও এর ফজিলত অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রিতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা ও ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৪ সুরের মূর্ছনায় মুখর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ইসলামাবাদে পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, রাত ১০টায় মঞ্চে জেমস ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য ফাঁসে রাশিয়ার দিকে সন্দেহের আঙুল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান: শুভেন্দু অধিকারী