বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের মৃত্যু: যিনি রাজাকার, দেশদ্রোহী, বেঈমানদের ছাড় দেননি – ইউ এস বাংলা নিউজ




বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের মৃত্যু: যিনি রাজাকার, দেশদ্রোহী, বেঈমানদের ছাড় দেননি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জুন, ২০২৫ |
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঁচজন রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন, যা তাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের কাছে দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সখিনা বেগমের বীরত্বগাথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৭১ সালে, দেশদ্রোহী রাজাকারদের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক প্রতিরোধ তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তাকে “মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক” হিসেবে আখ্যায়িত করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সখিনা বেগম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের উত্তরসুরি, যারা রাজাকারদের কখনো ছাড় দেননি।” কিশোরগঞ্জের হাওর-অধ্যুষিত নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন

সখিনা বেগম। তার বাবার নাম সোনাফর মিয়া এবং মায়ের নাম দুঃখী বিবি। সখিনা নিঃসন্তান। মুক্তিযুদ্ধের আগেই মারা যান তার স্বামী কিতাব আলী। এই নারী মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বয়সে দেখাশোনা করতেন তার ভাগনি ফাইরুন্নেছা আক্তার। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিকেলে আসরের নামাজ শেষে নিকলী উপজেলার গুরুই মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে গুরুই এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কয়েকটি বই থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে সখিনা বেগমের ভাগনে মতিউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে হানাদার পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে শহিদ হন। ভাগনের অকালমৃত্যু সখিনাকে প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। ওই সময় সখিনা বেগম গুরুই এলাকায় ‘বসু বাহিনীর’ নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রাঁধুনির কাজ করতেন।

কাজের ফাঁকে রাজাকারদের গতিবিধির বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জানাতেন। একপর্যায়ে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। আসার সময় সেখান থেকে তিনি একটি ধারালো দা নিয়ে আসেন। পরে সেই দা দিয়ে নিকলীর পাঁচ রাজাকারকে কুপিয়ে মারেন। সেই দা বর্তমানে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে এবং নামফলকে সখিনা বেগমের নাম উল্লেখ আছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “সখিনা বেগমের সাহস ও ত্যাগ আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ সরকারের জনবান্ধব কমিউনিটি ক্লিনিক: ওষুধ সংকটে সেবা বঞ্চিত তৃণমূলের দরিদ্র মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ভুল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী এবার জ্বালানি সংকটে কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ১৫ বছর বয়সে বিয়ে, প্রশংসায় ভাসছেন সেই লুবাবা মোদির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আনেন যিনি এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ মীর জাফরের বংশধররা যুক্তরাষ্ট্র স্থল আগ্রাসন চালালে ইরানের পক্ষে লড়বে রাশিয়ার চেচেন আর্মি ইরানে আগ্রাসন বন্ধের সময়সীমা নিযে যা বললেন ট্রাম্প ইরানের রহস্যময়ী ‘মাহান এয়ার’ কেন ইউরোপ-আমেরিকায় নিষিদ্ধ অভিনেতা আলী জাফরের মানহানি, গায়িকাকে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পদ জব্দের আদেশ চবিতে ফের ভুয়া শিক্ষার্থী আটক ২৬ দিনে উদ্ধার ২ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আকাশসীমা বন্ধের অভিযোগ ট্রাম্পের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস পাঁচ টাকার জন্য খুন, আসামিকে মৃত্যুদণ্ড মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান ঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ইতালির সপরিবারে আরেক জেনারেল নিহত, জানাল ইরান তুরস্কে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মুখ খুলল ইরান