ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ক্ষমতা ছাড়ার আগে ব্যাপক লুটপাট, ৬ মাসে সরকারের ঋণ ৬০ হাজার কোটি
ইউনূস-আমেরিকার পরিকল্পনায় ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত
যখন বাংলাদেশের আদালত নিজেই হয়ে ওঠে পুরুষতন্ত্রের নির্লজ্জ হাতিয়ার
ইউনূসকে সমর্থন দেওয়া জাতিসংঘই বলছে, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই
শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি-বিদ্যুৎ খাত ও মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
ভোটার দর্শক, রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নয়, ক্ষমতা ভাগাভাগির নগ্ন নাটক চলছে
শিক্ষার ছদ্মবেশে প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়, ঢাকায় পাকিস্তানের আগ্রাসী একাডেমিক তৎপরতা
বিজয় দিবসের দিন জামায়াত আমিরের অভিনব প্রতারণা
১৬ ডিসেম্বর—বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। রক্তে কেনা স্বাধীনতার এই দিনে জাতি স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব, ত্যাগ আর বিজয়ের গৌরব। অথচ এই পবিত্র দিনেই জামায়াত আমিরের বক্তৃতা যেন ইতিহাসকে নতুন করে বিকৃত করার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস—যেখানে কৌশলী শব্দচয়ন, অর্ধসত্য আর দায় এড়ানোর রাজনীতি মিলেমিশে এক অভিনব প্রতারণার রূপ নিয়েছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতার বক্তব্যে সবচেয়ে চোখে পড়েছে ‘ভুল বোঝাবুঝি’, ‘সময় ও পরিস্থিতি’—এই ধরনের ধোঁয়াশাপূর্ণ শব্দের আশ্রয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে তিনি ইতিহাসকে আপেক্ষিক করার চেষ্টা করেছেন। ১৯৭১–এর গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী নিধন ও দখলদার বাহিনীর সহযোগিতার দায় এড়িয়ে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়—এটি জাতির স্মৃতির ওপর আঘাত।
আরও উদ্বেগজনক হলো, বিজয় দিবসের মতো দিনে ‘ক্ষমা’
বা ‘অনুশোচনা’ শব্দের ছায়া দেখালেও দায় স্বীকারের জায়গায় তিনি পৌঁছাননি। ক্ষমা তখনই অর্থবহ, যখন অপরাধ স্বীকার স্পষ্ট হয়। এখানে দেখা গেল—অপরাধের দায় নেই, আছে কেবল ‘দুঃখ প্রকাশের ভান’। এই ভান আসলে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সিঁড়ি—যেখানে ইতিহাসের রক্তচিহ্ন মুছে দিয়ে ভোটের অঙ্ক কষা হয়। বক্তৃতার আরেকটি স্তর ছিল—মুক্তিযুদ্ধকে ‘সবার’ করে দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সবার হয় না, সবার ছিল না। যারা দখলদার বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিল, যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে অস্ত্র তুলেছিল—তারা ইতিহাসের ভুল পাশে ছিল। এই সত্যকে সমতল করে দেওয়া মানে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা। বিজয় দিবসে জাতি প্রত্যাশা করে স্পষ্টতা, দায় স্বীকার এবং ইতিহাসের প্রতি বিনয়। কিন্তু আমরা পেলাম কৌশলী অস্পষ্টতা। এটি নিছক বক্তব্য
নয়; এটি স্মৃতির রাজনীতি—যেখানে অপরাধকে নরম করে দেখিয়ে ভবিষ্যতের বৈধতা খোঁজা হয়। এই কারণেই জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে ‘অভিনব প্রতারণা’ বলা অত্যুক্তি নয়। কারণ, সত্যের সঙ্গে আপস করে কোনো পুনর্লিখনই টেকসই হয় না। ইতিহাস কথা বলে—এবং ১৬ ডিসেম্বর সেই কণ্ঠ সবচেয়ে জোরালো। এই কণ্ঠকে চাপা দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।
বা ‘অনুশোচনা’ শব্দের ছায়া দেখালেও দায় স্বীকারের জায়গায় তিনি পৌঁছাননি। ক্ষমা তখনই অর্থবহ, যখন অপরাধ স্বীকার স্পষ্ট হয়। এখানে দেখা গেল—অপরাধের দায় নেই, আছে কেবল ‘দুঃখ প্রকাশের ভান’। এই ভান আসলে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সিঁড়ি—যেখানে ইতিহাসের রক্তচিহ্ন মুছে দিয়ে ভোটের অঙ্ক কষা হয়। বক্তৃতার আরেকটি স্তর ছিল—মুক্তিযুদ্ধকে ‘সবার’ করে দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সবার হয় না, সবার ছিল না। যারা দখলদার বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিল, যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে অস্ত্র তুলেছিল—তারা ইতিহাসের ভুল পাশে ছিল। এই সত্যকে সমতল করে দেওয়া মানে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা। বিজয় দিবসে জাতি প্রত্যাশা করে স্পষ্টতা, দায় স্বীকার এবং ইতিহাসের প্রতি বিনয়। কিন্তু আমরা পেলাম কৌশলী অস্পষ্টতা। এটি নিছক বক্তব্য
নয়; এটি স্মৃতির রাজনীতি—যেখানে অপরাধকে নরম করে দেখিয়ে ভবিষ্যতের বৈধতা খোঁজা হয়। এই কারণেই জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে ‘অভিনব প্রতারণা’ বলা অত্যুক্তি নয়। কারণ, সত্যের সঙ্গে আপস করে কোনো পুনর্লিখনই টেকসই হয় না। ইতিহাস কথা বলে—এবং ১৬ ডিসেম্বর সেই কণ্ঠ সবচেয়ে জোরালো। এই কণ্ঠকে চাপা দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।



