বাণিজ্য যুদ্ধের মুখোমুখি বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। গত এক শতাব্দীর মধ্যে এত উচ্চ শুল্ক আরোপ করেনি ওয়াশিংটন। বুধবার গৃহীত এ সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রয়টার্স, বিবিসি, গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমস।
চীনের ওপর নতুনভাবে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ট্রাম্পের আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কসহ বেইজিংয়ের জন্য মোট ৫৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অস্ত্রের আঘাত থেকে নিরাপদ নয় দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্ররাও। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ ও জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ৪৬ শতাংশ,
তাইওয়ান ৩২ শতাংশ, ভারত ২৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়া ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়া ৪৯ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুর ১০ শতাংশ, ফিলিপাইন ১৭ শতাংশ, পাকিস্তান ২৯ শতাংশ, শ্রীলংকা ৪৪ শতাংশ, মিয়ানমার ৪৪ শতাংশ, লাওস ৪৮ শতাংশ, কসোভো ১০ শতাংশ, সুইজারল্যান্ড ৩১ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ, নরওয়ে ১৫ শতাংশ, ইউক্রেন ১০ শতাংশ, লিচেনস্টেইন ৩৭ শতাংশ, সার্বিয়া ৩৭ শতাংশ, চিলি ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ ও কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শুল্কের ভিত্তি হার (বেইজ রেট) আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আর উচ্চ পালটা শুল্ক কার্যকর হবে
আগামী ৯ এপ্রিল থেকে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম। তবে দেশগুলো কি আসলেই ট্রাম্পের শুল্ক খাঁড়া থেকে বাঁচতে পেরেছে? প্রতিবেশী দুই দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডার জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, সেগুলো এখনো নতুন শুল্কের আওতামুক্ত রয়েছে। তবে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও অন্য পণ্যের ওপর বৃহস্পতিবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় কেন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও বেলারুশের নাম নেই, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন
হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর আগে থেকেই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য খুবই সামান্য। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব দেশ আগে থেকেই অতি উচ্চশুল্কের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া দেশগুলোর ওপর আমরা আগেই যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছি, তাতে তাদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। মার্কিন অর্থনীতিবিদ ওলু সোনোলা বলেছেন, এই শুল্ক দীর্ঘদিন কার্যকর থাকলে, অর্থনৈতিক সব ভবিষ্যদ্বাণী জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিন। ১৯১০ সালের পর প্রথমবারের মতো এ রকম উচ্চ শুল্ক দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই ভোগান্তির
কারণ হতে পারে। অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ব্যাপক শুল্ক ব্যবস্থায় হতবাক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্ররা। কারণ তাদের অনেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ শুল্কের তালিকায় পড়ে গেছে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির চারপাশে নতুন বাণিজ্যিক বাধা তৈরি হবে, যা বিগত কয়েক দশকের বাণিজ্য উদারীকরণ নীতির বিপরীত। বাণিজ্য অংশীদাররা পালটা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যা সাইকেল থেকে শুরু করে ওয়াইন পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দাম উলেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেখা যাক, পরিস্থিতি কোথায় যায়, কারণ যদি আপনারা পালটা পদক্ষেপ নেন, তাহলে সংঘাত আরও বাড়বে।
তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। স্টক মার্কেটে নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসেন্টের সাফ উত্তর, এ নিয়ে আমি কিছু জানি না। বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। প্রায় সব ধরনের বাজারেই এর প্রভাব পড়েছে। স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের শেয়ারবাজার বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। যদিও ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন
কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। এতে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি ৭ শতাংশ। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্বনেতাদের সমালোচনা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিশ্বনেতারা। মেলোনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ একটা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত; আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ‘অযৌক্তিক’। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন তার কোম্পানি ও শ্রমিকদের রক্ষা করবে ও ‘উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অব্যাহত রাখবে।’ আয়ারল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী সিমন হ্যারিস বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করার জন্য প্রস্তুত; এটিকে ‘এগিয়ে যাওয়ার সেরা উপায়’ বলে দাবি করেছেন তিনি। অপরদিকে দেশটির নেতা মাইকেল মার্টিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ উলেখ করে এতে ‘কেউ লাভবান’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেছেন, ‘অযৌক্তিক শুল্কের জন্য আমেরিকানদেরই সবচেয়ে বড় মূল্য চুকাতে হবে।’ তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার সম্পূরক কোনো শুল্ক আরোপ করবে না বলে পরিষ্কার করেছেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ আত্মপরাজয়মূলক তর্জনে’ ও ‘অতিসরলীকৃত ইটের বদলে পাটকেল খেলায়’ পরিণত হয়েছে।
তাইওয়ান ৩২ শতাংশ, ভারত ২৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়া ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়া ৪৯ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুর ১০ শতাংশ, ফিলিপাইন ১৭ শতাংশ, পাকিস্তান ২৯ শতাংশ, শ্রীলংকা ৪৪ শতাংশ, মিয়ানমার ৪৪ শতাংশ, লাওস ৪৮ শতাংশ, কসোভো ১০ শতাংশ, সুইজারল্যান্ড ৩১ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ, নরওয়ে ১৫ শতাংশ, ইউক্রেন ১০ শতাংশ, লিচেনস্টেইন ৩৭ শতাংশ, সার্বিয়া ৩৭ শতাংশ, চিলি ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ ও কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শুল্কের ভিত্তি হার (বেইজ রেট) আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আর উচ্চ পালটা শুল্ক কার্যকর হবে
আগামী ৯ এপ্রিল থেকে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম। তবে দেশগুলো কি আসলেই ট্রাম্পের শুল্ক খাঁড়া থেকে বাঁচতে পেরেছে? প্রতিবেশী দুই দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডার জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, সেগুলো এখনো নতুন শুল্কের আওতামুক্ত রয়েছে। তবে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও অন্য পণ্যের ওপর বৃহস্পতিবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় কেন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও বেলারুশের নাম নেই, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন
হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর আগে থেকেই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য খুবই সামান্য। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব দেশ আগে থেকেই অতি উচ্চশুল্কের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া দেশগুলোর ওপর আমরা আগেই যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছি, তাতে তাদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। মার্কিন অর্থনীতিবিদ ওলু সোনোলা বলেছেন, এই শুল্ক দীর্ঘদিন কার্যকর থাকলে, অর্থনৈতিক সব ভবিষ্যদ্বাণী জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিন। ১৯১০ সালের পর প্রথমবারের মতো এ রকম উচ্চ শুল্ক দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই ভোগান্তির
কারণ হতে পারে। অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ব্যাপক শুল্ক ব্যবস্থায় হতবাক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্ররা। কারণ তাদের অনেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ শুল্কের তালিকায় পড়ে গেছে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির চারপাশে নতুন বাণিজ্যিক বাধা তৈরি হবে, যা বিগত কয়েক দশকের বাণিজ্য উদারীকরণ নীতির বিপরীত। বাণিজ্য অংশীদাররা পালটা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যা সাইকেল থেকে শুরু করে ওয়াইন পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দাম উলেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেখা যাক, পরিস্থিতি কোথায় যায়, কারণ যদি আপনারা পালটা পদক্ষেপ নেন, তাহলে সংঘাত আরও বাড়বে।
তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। স্টক মার্কেটে নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসেন্টের সাফ উত্তর, এ নিয়ে আমি কিছু জানি না। বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। প্রায় সব ধরনের বাজারেই এর প্রভাব পড়েছে। স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের শেয়ারবাজার বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। যদিও ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন
কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। এতে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি ৭ শতাংশ। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্বনেতাদের সমালোচনা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিশ্বনেতারা। মেলোনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ একটা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত; আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ‘অযৌক্তিক’। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন তার কোম্পানি ও শ্রমিকদের রক্ষা করবে ও ‘উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অব্যাহত রাখবে।’ আয়ারল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী সিমন হ্যারিস বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করার জন্য প্রস্তুত; এটিকে ‘এগিয়ে যাওয়ার সেরা উপায়’ বলে দাবি করেছেন তিনি। অপরদিকে দেশটির নেতা মাইকেল মার্টিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ উলেখ করে এতে ‘কেউ লাভবান’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেছেন, ‘অযৌক্তিক শুল্কের জন্য আমেরিকানদেরই সবচেয়ে বড় মূল্য চুকাতে হবে।’ তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার সম্পূরক কোনো শুল্ক আরোপ করবে না বলে পরিষ্কার করেছেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ আত্মপরাজয়মূলক তর্জনে’ ও ‘অতিসরলীকৃত ইটের বদলে পাটকেল খেলায়’ পরিণত হয়েছে।