বজ্রপাতে নিরাপদ নয় ছাতা-রাবারের জুতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ May, ২০২৫

বজ্রপাতে নিরাপদ নয় ছাতা-রাবারের জুতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ May, ২০২৫ |
সারা দেশে সাম্প্রতিক বজ্রপাতে দৈনিক গড়ে ১৫-১৬ জন মারা গেছেন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে প্রতিবছর ৩ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও হঠাৎ এ সংখ্যা নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সচেতনতা ও সাবধানতাই বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর অন্যতম পন্থা। মে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি বজ্রপ্রবণ মাস। এই সময়ে গড়ে ১৩ দিন বজ ঝড় হয়। আরও থাকে দমকা বাতাস ও শিলাবৃষ্টি। এ সময়ে আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বজ্রপাতের বিষয়ে কিছু ভুল ধারণারও পরিবর্তন দরকার। বজ্রপাতের সময় ছাতা ব্যবহার বা রাবারের জুতা পরলে রক্ষা পাওয়া সম্ভব-এমন ধারণা সঠিক নয়। এ সময় কংক্রিটের মেঝেতে শুয়ে থাকা বা দেওয়ালে হেলান দেওয়াও অনিরাপদ। দেশে মার্চ-মে পর্যন্ত ৩৮

শতাংশ বজ ঝড় হয়ে থাকে। অন্যদিকে জুন-সেপ্টেম্বর সময়ে ৫১ শতাংশ বজ ঝড় হয়। তবে তাণ্ডব, ধ্বংস এবং বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর হারের দিক থেকে মার্চ-মে সবচেয়ে ভয়াবহ। তখন স্বল্প সময়ে ভারি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে; থাকে দমকা বাতাস ও ঝড়ো হাওয়া। পাশাপাশি কখনো কখনো থাকে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই দেশে বজ ঝড় হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে জলীয় বাষ্প সংবলিত বাতাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে এইসব বাতাস পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে উপরে উঠে যায়। তাতে তাপমাত্রা কমে যায়। আর পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে যে বাতাস আসে তা উষ্ণ ও আর্দ্র। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে উপরে শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসের

মিশ্রণ ঘটে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ঢাঙ্গাইল, পাবনা, রংপুর, রাজশাহী এসব এলাকায় ব্যাপক বজ মেঘ তৈরি হয় এবং বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বাংলাদেশে বায়ুর দূষণও বেশি। বাতাসে সালফেট কণা বা দূষিত কণা বেড়ে গেলে তা বজ মেঘ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে পরিবেশ দূষণ, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বাষ্পায়নের হার বৃদ্ধি, পূবালি বাতাসের ঊর্ধ্বগমন এবং পশ্চিম-উত্তর থেকে আসা ঠান্ডা ও উষ্ণ বাতাসের সম্মিলিত প্রয়াসে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে তাণ্ডব চালায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ১ এপ্রিল থেকে বজ্রপাতের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করেছে। এতে কোনো কোনো এলাকায় বজ ঝড় সংঘটিত হবে বা হতে পারে সেই জেলা বা এলাকাগুলোর নাম দেওয়া হচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ

কত থাকবে এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হবে কি হবে না ইত্যাদি তথ্যও থাকছে এতে। বজ ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বাতাসের গতিবেগ ও বজ্রপাত সংবলিত এসব তথ্য তাদের ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে দিয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে একটি স্লোগান-‘বজ ধ্বনি শুনবেন যখনই ঘরে যাবেন তখনই।’ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বজ ধ্বনি শোনার মানেই হলো, আপনি বজ্রপাতের এলাকার আওতায় আছেন। তাই অতি দ্রুত ঘরে চলে যেতে হবে। এটি সবচেয়ে বড় মন্ত্র হতে পারে বজ ঝড় থেকে নিজেকে রক্ষার। খোলা মাঠ, গাছের নিচে, জলাধারের মধ্যে থাকা যাবে না। ঘুড়ি উড়ানো যাবে না। শিলাবৃষ্টি হলেও ঘরে থাকতে হবে। জানালা ও দরজা

বন্ধ রাখতে হবে। খোলা মাঠে থাকাকালে টিনের চালাযুক্ত ঘরও নিরাপদ নয়। ঘরের কাচের জানালা বা রড ধরা যাবে না। বৈদ্যুতিক ডিভাইসগুলোর প্লাগ খুলে রাখতে হবে। কংক্রিটের মেঝেতে শোয়া যাবে না এবং কংক্রিটের দেওয়ালে হেলান দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ পরিবাহক বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, বজ্রপাতের সময় ছাতাও নিরাপদ নয়, রাবারের জুতাও নয়। বজ্রপাতে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় বলে এইসব নিরোধক কোনো কাজেই আসবে না। জনসচেতনতা এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বজ ধ্বনি শুরু হওয়ার পর ঘরে ফিরে আধা ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা অবস্থান করতে হবে। তাহলেই বজ্রপাতে মৃত্যু হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর