ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধিতে হবে গণশুনানি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধিতে হবে গণশুনানি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ এপ্রিল, ২০২৫ | ৯:১৬ 6 ভিউ
বিগত সময়গুলোতে জ¦ালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হতো নির্বাহী আদেশে। আর কিছু জ¦ালানি তেলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজেই। তবে অন্তর্বর্তী সরকার জ¦ালানি তেলের দাম নির্ধারণে গণশুনানির প্রক্রিয়ায় যেতে নির্দেশ দিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, এলপিজির পর জ¦ালানি তেলের দাম নির্ধারণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের পর এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দামের ওপর গণশুনানি করতে হবে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষে এই শুনানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আবেদন পাওয়ার পর বিপণন কোম্পানিগুলোকে (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি) তাদের

প্রস্তাব দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। কোম্পানিগুলোর পরিবহন ও বিপণন চার্জের প্রস্তাব পাওয়া গেলেই শুনানি করা হবে। এর আগে গত ২৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি গ্রহণ করেছে বিইআরসি। আগামী সপ্তাহে জেট ফুয়েলের দাম ঘোষণা করবে সংস্থাটি। বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিপিসির প্রস্তাব পাওয়ার পর বিপণন কোম্পানিগুলোকে (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি) প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। তাদের পরিবহন ও বিপণন চার্জের প্রস্তাব পাওয়ার পর শুনানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিইআরসির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ফার্নেস অয়েল নিয়ে বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে পাওয়া যাবে। প্রস্তাব পাওয়ার

পর বিইআরসির টেকনিক্যাল কমিটি পর্যালোচনা শেষে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গণশুনানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন জেট ফুয়েলের দাম ঘোষণা করা হবে। গত ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি গ্রহণ করেছে বিইআরসি। এতদিন বিপিসি নির্ধারণ করে আসছিল এই পণ্যটির দাম। একইভাবে ফার্নেস অয়েলের দামও নির্ধারণ করত বিপিসি। তারা গত ২০ জানুয়ারি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব বিইআরসিতে প্রেরণ করেছে। চাহিদার দিক থেকে ডিজেলের পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার। দেশে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ফার্নেস তেলের। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ টন বিক্রয় হয়েছে। এর

মধ্যে ইআরএল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অবশিষ্ট ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সব ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করে। তারপর থেকে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছিল আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠানটি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দিয়েছে। এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির কাছে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে আগের মতোই এখনও নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। যে প্রবিধানমালার দোহাই দিয়ে এতদিন নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেগুলো এখনও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ঝুলে থাকা প্রবিধানমালা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিকে নাড়াচাড়া শুরু হলেও এখন আবার থেমে গেছে। আগের সরকারের আমলাদের মতোই বর্তমান আমলারাও বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার পথেই হাঁটছেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রবিধানমালা ঝুলিয়ে রাখবে, এটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর। আগের সরকারের মতোই আমলাদের কাছে

নতিস্বীকার করেছে। এখানে বিইআরসিরও ব্যর্থতা রয়েছে; প্রবিধান না থাকার পর যদি এলপিজি, জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে অন্যগুলো কেন নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা জ্বালানি তেল ইস্যুতে সরকারের ভূমিকায় অনেকটা হতাশ। মনে হয় আবার আদালতে যেতে হবে। যেভাবে আদালতের মাধ্যমে এলপিজির দর নির্ধারণে বিইআরসিকে বাধ্য করা হয়েছে। তারা কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্যাব। নির্বাহী আদেশ ও বিইআরসির মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে শামসুল আলম বলেন, নির্বাহী আদেশে যা খুশি তাই দাম নির্ধারণ করা যায়। বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা, তারাই আবার দাম নির্ধারণ করে। এতে জবাবদিহিতা থাকে না, ভোক্তাদের অংশগ্রহণ থাকে না। বিইআরসিতে এলে যুক্তিতর্কের

মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে চলে আসে। এতে ভোক্তার স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হয়। গত ২৩ মার্চ বিইআরসির গণশুনানিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা জ্বালানি তেলের প্রবিধানমালা নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা খাতে সংকট: বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ইয়াঙ্কিস ও মেটস আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে: এরিক ‌‌অ‍্যাডামস্ ট্রাম্পের গাড়ির উপর শুল্ক: আমেরিকায় কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনে ছাঁটাই, নতুন শুল্ক আরোপ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ মেয়র এরিক অ্যাডামসের দুর্নীতি মামলা স্থায়ীভাবে বাতিল ঈদ আনন্দে প্রবাসীদের পাশে ছিল না ফ্রান্স দূতাবাস ৫৫ সদস্যের বাংলাদেশ উদ্ধার ও চিকিৎসা দল নেপিদোতে পৌঁছেছে এনডোবার সিটিতে ঈদের আনন্দ প্রবীণদের নিয়ে সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের ঈদ উদযাপন হোমকেয়ারে অস্থিরতা ‘ফুটবলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ভিএআর’ ৯ মাসে সাত সিরিজ, ব্যস্ত সূচিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করল আদালত, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন তীব্র হলো বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্তকে কান ধরিয়ে ওঠবস ও সমাজচ্যুতে মীমাংসা আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর মার্কিন শুল্কে রপ্তানি খাতে উদ্বেগ অবশেষে লবণবাহী ট্রাক ধরে মামলা দিল পুলিশ ঈদেও নিষ্ক্রিয় সেই সব ‘কিংস পার্টি’