নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে জামাতময় বিজয় উৎসব! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
     ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে জামাতময় বিজয় উৎসব!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ৬:১২ 50 ভিউ
বলা হয়ে থাকে শয়তানের জন্য রমজান মাস আর রাজকারদের জন্য ডিসেম্বর! আর এবার নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে রাজাকাররাই নেতৃত্ব দিলো দেশ জুড়ে উদযাপিত বিজয় দিবসের। জামাতে ইসলামি এবার এতটা ঔদ্ধত্য ও আড়ম্বরপূর্ণ বিজয় উৎসব উদযাপন করেছে যা দেখে লজ্জা, ঘৃণা অপমানে চুপসে ছিল মুক্তযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আপমর জনতা। জামাত এবার জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই বিজয় উৎসব উদযাপন করেছে অভাবনীয় কৌশলে। জামাতের আমীরের নেতৃত্বে বিশাল বিজয় ম্যারাথন, সাইকেল শোভাযাত্রা সবার নজর কেড়েছে। যদিও অনেকে ট্রোল করেছে ৭১ এ তারা যেভাবে দৌড়ের উপর ছিল তারই স্মরণে এই বিজয় ম্যারাথন। কিন্তু তাদের এই বর্ণিল ম্যারাথন ইতিহাসের উল্টোচাকাকে আরও গতিশীল করেছে। জামাতের আমীর ডা. মাসুদ একটা

হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে এই ম্যারাথনের নেতৃত্ব দিয়েছে, সাথে ছিল হাজার হাজার লাল সবুজ ক্যাপ পড়া রাজাকার ও তাদের শাবকরা। শিবিরের উদ্যোগে সাইকেল শোভাযাত্রা হয়েছে রাজধানীতে। ঢাকা কলেজ ছাত্র শিবির এই সাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এবার জলপথেও তাদের সরব ও বর্ণিল আস্ফলন আমরা দেখলাম। যে বুড়িগঙ্গা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নীরব এক বহতা স্মারক। হাজার হাজার শহীদের রক্তস্রোত গিয়ে মিশেছিল এই বুড়িগঙ্গায়। কত লাশের সলিল সমাধি হয়েছে এই নদীতে তা আজও অজনা। এই বুড়িগঙ্গার বুকেই ৭১ এর ঘাতকদের উত্তর প্রজন্ম আজ সদর্পে আয়োজন করেছে নৌ শোভাযাত্রার। শিবির কেন্দ্রীয়ভাবে কয়েক ডজন নৌকায় লাল সবুজের পোশাক আর পতাকা উড়িয়ে বুড়িগঙ্গার বুকে উদযাপন করেছে এই নৌ

শোভাযাত্রার। তবে এবার সবচেয়ে অবাক করেছে সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ পথে বিজয় উদযাপন। আশিকে পাকিস্তান, বিডা চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদসহ সশস্ত্র বাহিনীর ৫৪ জন প্যারা ট্রুপার একযোগে আল্লাহু আকবর বলে জাতীয় পতাকা হাতে ফ্রি ফল জাম্পিং করে রেকর্ড করেছে। বিজয় দিবসে পতাকা হাতে ফ্রি ফল প্যারা ট্রুপিং করে রেকর্ড করা নিঃসন্দেহে গৌরবময়। কিন্তু জলে, স্থলে জামাত যেভাবে বিজয় শোভাযাত্রা করেছে আকাশে তো সেটা সম্ভব নয়, কেননা আয়োজন তো সশস্ত্র বাহিনীর। কিন্তু জামাতি কৌশল এখানেও সফল। যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেই জয় বাংলা স্লোগান মুছে দিয়ে জামাতিদের স্লোগান নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর বলেই ঝাঁপ দিয়েছে সকল প্যারা ট্রুপার। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জলে, স্থলে,

অন্তরীক্ষে বিনা বাঁধায় সদম্ভে উদযাপন করেছে এবারের বিজয় দিবস। স্থলে তারা দেশ জুড়ে একক নেতৃত্বে ইতিহাসের উল্টোধারায় উদযাপন করেছে বিজয় উৎসব। প্রায় সকল জেলা-উপজেলা প্রশাসন বিজয়ের যে আয়োজন করেছে তাতে একাত্তরের পরাজিত শক্তির একক কর্তৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে ভুলন্ঠিত করেছে সর্বত্র। খুব সামান্যই প্রতিবাদ হয়েছে দেশ জুড়ে। রামগতিতে ‘একাত্তরের রাজাকার দ্বারা ধর্ষিতা নারীর অভিনয়’ প্রদর্শণকালে জামাতের নেতৃবৃন্দের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নারী ইউএনও কে। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে গোলাম আজম, নিজামীকে স্বাধীনতার সূর্যসন্তান হিসেবে স্মরণ করতে গেলে উপস্থিত দর্শকরা অনুষ্ঠান পন্ড করে। জগন্নাথ হলে রাস্তায় রাজাকারদের ছবি আঁকলে প্রক্টরিয়াল টিম তা মুছে দেয়। তবে ঘৃণা স্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ

হয়েছে কিছুক্ষণ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে পাকিস্তানী পতককা আঁকায় বাঁধা দেয় শিবির ও প্রক্টোরিয়াল টিম। কাদেরিয়া বাহিনীর বিজয় দিবস উদযাপন ও আরও দু’এক জায়গায় খুবই ক্ষীণও স্বরে উচ্চারিত হয়েছে জয় বাংলা ও বঙ্গবন্ধুর নাম। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন খুবই সতকর্তায় কিন্তু সাহসিকতার সাথে কিছু জায়গায় বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। কিন্তু দেশময় বিজয় দিবস উদযাপনের মূল ধারায় মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু নাম ও জয় বাংলা স্লোগান ছিল নিষিদ্ধ। নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী স্লোগান ‘জয় বাংলা’র স্থলে প্রতিস্থাপিত হযেছে ইনকেলাব-জিন্দাবাদ আর নারায়ে তাকবীর। বিজয় মাসের শুরুতেই ইলিয়াসের ‘বালের বিজয় দিবস’; মাওলানা ইব্রাহীমের ‘মুক্তিযোদ্ধারা সবচেয়ে কুলাঙ্গার প্রজন্ম’; জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি

জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ’; চবি উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিনের ‘পাকিস্তানী বাহিনী দ্বারা বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়টি অবান্তর’…. এমনতর অজস্র বয়ান- বিজয়ের ৫৪ বছর পর, নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের উল্টো ইতিহাস প্রতিষ্ঠার স্পর্ধিত আস্ফলন। এই আস্ফলনই এক গভীর অন্ধকারের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে। এই অন্ধকার যাত্রা প্রতিরোধে আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নয়া লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে দেশবাসীকে নির্বাচন বয়কটের ডাক ১৬৭৫ জন বিশিষ্টজনের, সঙ্গে ১২ দাবি কাকে ভোট দিতে যাবেন? জাতির সঙ্গে বেঈমানি ও প্রতারণাপূর্ণ নির্বাচন বর্জনের জন্য দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক সর্বোপরি দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহ্বান Bangladesh’s February Vote Faces Growing Scrutiny Democracy at a Crossroads বাংলাদেশ ভোটের নামে যা হচ্ছে – ক্ষমতা না পেলে বোমা, বন্দুকই বিএনপির ভোটের রাজনীতি চলমান সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত জাতীয় নির্বাচন জাতির কাছে কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না! কথা বলতে চাওয়া সাবেক এমপি তুহিনের মুখ ‘চেপে’ ধরলো পুলিশ সিএমপির ওসির বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহ ও বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ডাক আওয়ামী লীগের ১৫ বছর কী স্বার্থে কেন চুপ ছিলেন?’—ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে খোলা চিঠিতে প্রশ্ন ভোট ব্যাংক দখলে জামায়াতের ভয়ংকর নীলনকশা: ৯ আসনে সাড়ে ৪ লাখ ‘বহিরাগত’ ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ না ভোটের ডাক দিয়ে আসিফ মাহতাবের সতর্কবার্তা ‘জুলাই সনদের আড়ালে এলজিবিটি ও পশ্চিমা এজেন্ডা? ঝুঁকিতে আছে ৪০ শতাংশ অ্যানড্রয়েড ফোন হকারকে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গে যা বললেন শাহরিয়ার কবির বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই দ.আফ্রিকার রেকর্ড বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অ্যান্টোনিও সেগুরোর জয় লেবাননে ভবন ধসে ১৪ জন নিহত বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দামে উত্থান