দেশে থেমে গেছে বিনিয়োগ: সংকোচন, স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তার দুষ্টচক্রে অর্থনীতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দেশে থেমে গেছে বিনিয়োগ: সংকোচন, স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তার দুষ্টচক্রে অর্থনীতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |
নতুন কোনো শিল্প স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ-এসব কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে দেশে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে, বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক গভীর স্থবিরতার সংকেত বহন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণ স্থিতি কমেছে প্রায় ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) একে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন বলে আখ্যায়িত করেছে। ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকগুলোর রক্ষণশীল নীতিই এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসা

সম্প্রসারণ নয়, আমরা বিদ্যমান ব্যবসা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখব, সেটাই এখন মূল ভাবনার বিষয়।’ বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তাদের এই মনোভাবের পেছনে রয়েছে ব্যাংক ঋণের অপ্রাপ্যতা, সুদের উচ্চ হার এবং সরকারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের অভাব। উচ্চ সুদে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগকেই এখন অধিকাংশ ব্যাংক নিরাপদ ও লাভজনক মনে করছে। ফলে বেসরকারি খাতে নতুন ঋণ বিতরণ কার্যত বন্ধ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বেশিরভাগ ব্যাংক এখন সরকারি বন্ডেই বিনিয়োগ করছে। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে চাইছেন না।’ সরকারি উন্নয়ন ব্যয়েও দেখা যাচ্ছে উদ্বেগজনক স্থবিরতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২.৩৯%, যা আগের বছরের তুলনাতেও কম। কাঠামোগত সমস্যা ও কার্যকর তদারকি না

থাকায় সরকারি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কোনো নতুন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়নি। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ কম, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা স্থির, আর উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ বিনিয়োগও নগণ্য—গত এক বছরে মাত্র ১২টি কোম্পানি মোট ২,১১৩ কোটি টাকার সম্প্রসারণ বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত তিন অর্থবছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। নীতি সুদহার ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% পর্যন্ত উন্নীত করা হলেও, মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বরং এ নীতির প্রভাবে সুদহার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬%, যা বিনিয়োগের বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সুদহার স্থিতিশীলতা, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার, এবং সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গঠনমূলক

সংলাপের প্রয়োজন। তা না হলে, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবকিছুই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ফোনের ব্যাটারি বাঁচাতে গুগলের নতুন উদ্যোগ ‘হুথি জ্বরে’ কাঁপছে ইউরোপ ১১ জেলায় নতুন ডিসি ফের ৬ দিনের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির নেপথ্যের চক্র খুঁজে বের করার নির্দেশ এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার অডিশনের অজানা গল্প জানালেন সারা অর্জুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রতিমাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ অটোয় চড়ে স্কুলে যেতাম, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি: বরুণ ধাওয়ান দুই আসনে লড়ছেন সুপারস্টার বিজয় ট্রাক থেকে ১২ টন কিটক্যাট চুরি! যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করল ইরান খেলোয়াড়দের বকেয়া আদায়ে কঠোর হচ্ছে বিসিবি মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমলো ৬৫৯০ টাকা ভূমধ্যসাগরে ২২ জনের মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশি জীবিত উদ্ধার দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক ‘তেল নাই’ লেখা দুই পাম্পে মিললো ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল ভারতের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশ নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্রর শপথ গ্রহণ