ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে
প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে দেওয়া বগুড়ার আসনে উপনির্বাচনে জয়ের আশা বিএনপির
নির্বাচনে ৫১ দলের ৩০টিতেই নেই নারী প্রার্থী
মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে প্রথম দিনে ইসিতে ৪২টি আপিল
মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
ঢাকার ভোটে কারচুপির ভয়ানক নীলনকশা: ২০ আসনে ২০ লাখ ভুয়া ভোটার সংযোজনের অভিযোগ
পোস্টাল ব্যালটে থাকছে না ৪ দলের প্রতীক
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা’র প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অপতথ্য প্রচার দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর কূটনৈতিক কর্মকর্তার
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) পদে দায়িত্ব পালনরত মো. সাইদুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তথ্যের যথার্থতা ও কূটনৈতিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ঘোষণা এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বিপরীতে তাঁর পোস্টকে রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বলে সমালোচনা করা হচ্ছে।
৫ নভেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাইদুর রহমান লিখেছেন,
width="737" height="526" aria-describedby="caption-attachment-62503" />
অথচ এর ঠিক সেদিনই, ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ও ডয়েচেভেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসেই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানিয়েছেনঃ
কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে না। বরং বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই; দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তিই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার অবস্থান প্রকাশ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যখন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে
আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রকাশ করছেন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনা নিজেও ডিসেম্বর মাসে ফেরার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছেন, তখন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ডিসেম্বরে চলাচলের অক্ষমতার ইঙ্গিত দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনীতি ও নির্বাচনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এক বছরের চুক্তিতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন সাংবাদিক হিসেবে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে দায়িত্বের পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বক্তব্যে তথ্যের নির্ভুলতা, পেশাদারিত্ব ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক—সবকিছুই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া অসুস্থতার দাবি তুলে ধরে ডিসেম্বর মাসে তাঁর
চলাচলের অক্ষমতার ইঙ্গিত দেওয়া জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ তৈরি করে।
“সরি। উনি এতোটাই অসুস্থ যে ডিসেম্বরে মুভ করার মতো পরিস্থিতিতে নাই।”পোস্টটিতে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি তাঁকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
width="737" height="526" aria-describedby="caption-attachment-62503" />
দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার সাইদুর রহমানের ফেইসবুক পোস্ট। প্রকাশের তারিখঃ ৫ নভেম্বর, ২০২৬।
দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে তাঁর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এমনকি দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাস, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অবস্থান
এদিকে একই দিন ৫ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হূমায়ুনকবির সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে না। বরং বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই; দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তিই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার অবস্থান প্রকাশ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যখন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে
আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রকাশ করছেন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনা নিজেও ডিসেম্বর মাসে ফেরার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছেন, তখন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ডিসেম্বরে চলাচলের অক্ষমতার ইঙ্গিত দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান
বিশেষ করে সাইদুর রহমানের পোস্টে শেখ হাসিনার অসুস্থতার দাবির পক্ষে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য, নির্ভরযোগ্য সূত্র কিংবা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর এই বক্তব্যের তথ্যগত ভিত্তি কী, তিনি কোন সূত্রের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করেছেন এবং একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য কতটা প্রত্যাশিত—সেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, মো. সাইদুর রহমান এর আগে দৈনিক ইত্তেফাকেররাজনীতি ও নির্বাচনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এক বছরের চুক্তিতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন সাংবাদিক হিসেবে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে দায়িত্বের পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বক্তব্যে তথ্যের নির্ভুলতা, পেশাদারিত্ব ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক—সবকিছুই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া অসুস্থতার দাবি তুলে ধরে ডিসেম্বর মাসে তাঁর
চলাচলের অক্ষমতার ইঙ্গিত দেওয়া জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ তৈরি করে।






