‘টিন সেক্স’ নিয়ে নতুন বিতর্ক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ আগস্ট, ২০২৫
     ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

‘টিন সেক্স’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ আগস্ট, ২০২৫ | ৮:০৮ 117 ভিউ
ভারতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (কিশোর-কিশোরী) মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইন পরিবর্তনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জমা পড়েছে। প্রখ্যাত আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং-এর করা এই পিটিশনটি দেশজুড়ে ‘টিন সেক্স’ বা কিশোর-কিশোরীদের যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ভারতের বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ইন্দিরা জয়সিং তার আবেদনে যুক্তি দিয়েছেন, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে যদি সম্মতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক হয়, তাহলে তা শোষণমূলক বা আপত্তিকর হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, এই ধরনের

সম্পর্ককে ফৌজদারি বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। তবে ভারত সরকার এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন কোনো ব্যতিক্রম চালু করলে শিশুদের (১৮ বছরের কম বয়সীদের) সুরক্ষা ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে পাচার ও শোষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এই ইস্যুতে সমাজকর্মী ও অধিকার কর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, টিনএজারদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আইন পরিবর্তন করা জরুরি। অন্যদিকে, বিরোধীরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ মানব পাচার ও বাল্যবিবাহের মতো অপরাধকে উসকে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো কিশোর বা কিশোরী যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়,

তাহলে প্রমাণের ভার বহন করার সক্ষমতা তাদের কতটা আছে? ভারতে যৌন সম্মতির বয়স নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলছে। ১৮৬০ সালে দেশের প্রথম দণ্ডবিধি চালু হওয়ার সময় এই বয়স ছিল ১০ বছর। ১৯৪০ সালে তা বাড়িয়ে ১৬ করা হয়। এরপর ২০১২ সালে শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষার জন্য প্রণীত ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেনসেস অ্যাক্ট’ (পিওসিএসও) অনুসারে, যৌন সম্মতির বয়স ১৮ বছরে উন্নীত করা হয়। গত এক দশকে ভারতের বিভিন্ন আদালত ও শিশু অধিকার কর্মীরা আইনের এই বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এই আইনটি অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যকার সম্মতিমূলক সম্পর্ককেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। সমাজের নানা শ্রেণি ও ধর্মীয় বিভাজন

থাকায় আইনটি প্রায়শই ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। ২০২২ সালে কর্ণাটক হাইকোর্ট ভারতের আইন কমিশনকে এই বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করতে বলে। সেখানে আদালত বেশ কিছু মামলার উদাহরণ তুলে ধরে, যেখানে ১৬ বছরের বেশি বয়সী মেয়েরা প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে পালিয়ে যাওয়ার পর ছেলের বিরুদ্ধে পিওসিএসও আইনে ধর্ষণের অভিযোগ আনার মতো রয়েছে। আইন কমিশন ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে যৌন সম্মতির বয়স কমানোর বিরুদ্ধে মত দিলেও, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের সম্মতিমূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিচারকদের ‘গাইডে জুডিশিয়াল ডিসক্রিশন’ বা সীমিত বিচারিক বিবেচনা ব্যবহারের সুপারিশ করে। এর ফলে বিচারকেরা মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাজা কমানো, জামিন দেওয়া বা মামলা বাতিল করার

ক্ষমতা পাবেন। ইন্দিরা জয়সিং অবশ্য মনে করেন, শুধু বিচারকদের বিবেচনা যথেষ্ট নয়। কারণ, অভিযুক্তকে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এটাও একটা শাস্তি। ভারতের বিচার ব্যবস্থায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় সমস্যা। ২০২১ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, পিওসিএসও আইনে প্রায় আড়াই লাখ মামলা বিচারাধীন। ইন্দিরা তার আবেদনে পিওসিএসও আইনে একটি ‘ক্লোজ-ইন-এইজ এক্সেপশন’ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী সমবয়সীদের মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। শিশু অধিকার কর্মী ও আইনজীবী ভুবন রিবহু অবশ্য এই ধরনের কোনো ব্যতিক্রমের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, এর অপব্যবহার করে অপহরণ, মানব পাচার এবং বাল্যবিবাহের

মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ‘এইচএকিউ: সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এনাক্ষী গাঙ্গুলি ইন্দিরা জয়সিং-এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইনের অপব্যবহারের ভয়ে আমরা আইন পরিবর্তন করা থেকে পিছিয়ে আসতে পারি না। আইনকে সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, তবেই তা কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক থাকবে।’ সূত্র: বিবিসি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
“হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন একাত্তর থেকে আবার৭১ কেমন আছে বাংলাদেশ? নির্বাচন বৈধতা দিতে এক ব্যক্তির সাইনবোর্ডসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ‘পাশা’, একাই সাপ্লাই দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক! উপদেষ্টা আদিলুর ও শিক্ষা উপদেষ্টা আবরারের পারিবারিক বলয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক তালিকা গণভোট নয়, এটা সংবিধান ধ্বংসের আয়োজন হাজার হাজার প্রোফাইল ছবিতে একটাই কথা—“নো বোট, নো ভোট।” ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া আইনের শাসনের নির্লজ্জ চিত্র: ভুয়া মামলা ও আতঙ্কে বন্দী বাংলাদেশ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহবান জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূস সাহেব ঈদ করবেন কোথায়! Plebiscite or Refounding? The Constitutional Limits of the Referendum in Bangladesh Former Bangladeshi Minister Ramesh Chandra Sen Dies in Custody