খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুদ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুদ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
দেড় বছরেও বাড়েনি নতুন কোনো খাদ্য গুদাম বা সাইলোর সক্ষমতা ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আগের কাঠামোর ওপরই নির্ভরতা সামাজিক নিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে পুরোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নতুন উদ্যোগ না থাকায় ভবিষ্যতে ঝুঁকির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের পর কেটে গেছে প্রায় আঠারো মাস। সরকার ও প্রশাসনের নানা স্তরে পরিবর্তনের ঢেউ লাগলেও দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে গড়ে তোলা মজুদ সক্ষমতা এবং সেই আমলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়,

গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান চাহিদা মেটানো হচ্ছে। মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’ খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে নেওয়া পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত

করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ থাকলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ খাদ্য সংকটে না পড়ে। বর্তমান সরকার মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুবিধাই ভোগ করছে। সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির ফল। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বড় প্রমাণ আমরা পাইনি।’ সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত কাঠামো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা

ভেঙে পড়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো খাদ্য সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সেই সময়ের দূরদর্শী ‘বাফার স্টক’ নীতি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার কৌশলটি ছিল কার্যকর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানেও ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা সেই কাঠামোরই ধারাবাহিকতা। নতুন উদ্যোগের ঘাটতি খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে খাদ্যশস্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা চাল ও গম দিয়েই মজুদ ঠিক

রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, খাদ্য গুদাম ও সাইলো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই চলমান আছে। নতুন করে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো মেগা প্রকল্প বা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করতে দেখা যায়নি। বরং গুদাম রক্ষণাবেক্ষণে আগের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সতর্কতা খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ১৮ মাস সময়টি কম নয়। পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন। মজুদ কমে

আসা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু গত দেড় বছরে বড় কোনো সংকট হয়নি, তাই পুরোনো ব্যবস্থাই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ভবন বা সাইলো কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না; কিন্তু এগুলো সাক্ষ্য দেয় রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার। বর্তমান প্রেক্ষাপট এটিই নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই এখনো পার হচ্ছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সন্দেহভাজন ২ তরুণের পরিকল্পনা নিয়ে আরও যা জানা গেল রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর ইরানে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের অ্যামেরিকার সঙ্গে কিউবার বৈঠক সম্পন্ন: প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল নিউ জার্সিতে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, দুই কিশোরসহ আহত ৩ সাবওয়ে স্টেশন থেকে ১জনের মরদেহ উদ্ধার, হামলার শঙ্কা ট্রাম্পের গঠিত রিলিজিয়াস ফ্রিডম কমিশনের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্যর পদত্যাগ চাকরি বাঁচাতে নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: তোপ দাগলেন ড. মোমেন প্রিজন ভ্যান থেকে সাবেক এমপি তুহিনের আকুতি: ‘অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, ন্যায়বিচার চাই’ বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ইফতার বিতরণ: শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যাবর্তনে দোয়া কামনা বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অদম্য প্রতিরোধের মুখে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াহিয়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায় সংস্কারের মুখোশে দমন: ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই যখন নিরাপদ না, তখন সাধারণ মানুষের কথা কে ভাববে? জ্বালানি সংকটে ভরসা রূপপুর: শেখ হাসিনার মেগা প্রজেক্টেই স্বস্তিতে দেশ শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ: শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ইনসাফের দোকানে ভেজাল মাল: নিমের মাজনে নিম নেই, জামায়াতের ইসলামে ইসলাম নেই পাঠ্যবই দুর্নীতি : ইউনুসের সংস্কার, সিন্ডিকেটের উৎসব জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন উত্তাল মার্চের স্মৃতিতে শিব্বীর আহমেদের পাঁচটি দেশাত্মবোধক গান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ