ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
টোল ও ত্রাণের টাকার হিসাব চাইলেন তারেক রহমান, উপদেষ্টাদের বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
আ. লীগকে বাদ দিয়ে ইনক্লুসিভ ইলেকশন হতে পারে না : বদিউর রহমান
গণভোটে সরকারি চাকুরিজীবীরা কি রাষ্ট্রসৃষ্ট ‘দণ্ডনীয় অপরাধের’ মুখে?
ঢাকায় বাসার ভেতরে পড়েছিল একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ
অবৈধ’ সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেন ৫০১ জন প্রকৌশলী
এপস্টেইন ফাইলে নাম ঋণখেলাপী বিএনপি নেতা মিন্টুর
ইউনূসের দুঃশাসন: সম্পদের হিসাব দেওয়ার নামে ঠকানো হলো জনগণকে
খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুদ
দেড় বছরেও বাড়েনি নতুন কোনো খাদ্য গুদাম বা সাইলোর সক্ষমতা
২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আগের কাঠামোর ওপরই নির্ভরতা
সামাজিক নিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে পুরোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
নতুন উদ্যোগ না থাকায় ভবিষ্যতে ঝুঁকির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের পর কেটে গেছে প্রায় আঠারো মাস। সরকার ও প্রশাসনের নানা স্তরে পরিবর্তনের ঢেউ লাগলেও দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে গড়ে তোলা মজুদ সক্ষমতা এবং সেই আমলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।
খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়,
গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান চাহিদা মেটানো হচ্ছে। মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’ খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে নেওয়া পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ থাকলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ খাদ্য সংকটে না পড়ে। বর্তমান সরকার মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুবিধাই ভোগ করছে। সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির ফল। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বড় প্রমাণ আমরা পাইনি।’ সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত কাঠামো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা
ভেঙে পড়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো খাদ্য সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সেই সময়ের দূরদর্শী ‘বাফার স্টক’ নীতি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার কৌশলটি ছিল কার্যকর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানেও ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা সেই কাঠামোরই ধারাবাহিকতা। নতুন উদ্যোগের ঘাটতি খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে খাদ্যশস্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা চাল ও গম দিয়েই মজুদ ঠিক
রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, খাদ্য গুদাম ও সাইলো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই চলমান আছে। নতুন করে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো মেগা প্রকল্প বা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করতে দেখা যায়নি। বরং গুদাম রক্ষণাবেক্ষণে আগের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সতর্কতা খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ১৮ মাস সময়টি কম নয়। পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন। মজুদ কমে
আসা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু গত দেড় বছরে বড় কোনো সংকট হয়নি, তাই পুরোনো ব্যবস্থাই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ভবন বা সাইলো কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না; কিন্তু এগুলো সাক্ষ্য দেয় রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার। বর্তমান প্রেক্ষাপট এটিই নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই এখনো পার হচ্ছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি।
গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান চাহিদা মেটানো হচ্ছে। মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’ খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে নেওয়া পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ থাকলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ খাদ্য সংকটে না পড়ে। বর্তমান সরকার মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুবিধাই ভোগ করছে। সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির ফল। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বড় প্রমাণ আমরা পাইনি।’ সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত কাঠামো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা
ভেঙে পড়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো খাদ্য সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সেই সময়ের দূরদর্শী ‘বাফার স্টক’ নীতি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার কৌশলটি ছিল কার্যকর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানেও ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা সেই কাঠামোরই ধারাবাহিকতা। নতুন উদ্যোগের ঘাটতি খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে খাদ্যশস্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা চাল ও গম দিয়েই মজুদ ঠিক
রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, খাদ্য গুদাম ও সাইলো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই চলমান আছে। নতুন করে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো মেগা প্রকল্প বা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করতে দেখা যায়নি। বরং গুদাম রক্ষণাবেক্ষণে আগের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সতর্কতা খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ১৮ মাস সময়টি কম নয়। পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন। মজুদ কমে
আসা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু গত দেড় বছরে বড় কোনো সংকট হয়নি, তাই পুরোনো ব্যবস্থাই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ভবন বা সাইলো কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না; কিন্তু এগুলো সাক্ষ্য দেয় রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার। বর্তমান প্রেক্ষাপট এটিই নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই এখনো পার হচ্ছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি।



