কালো পতাকায় কালেমা: বিপজ্জনক প্রবণতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ October, ২০২৪

কালো পতাকায় কালেমা: বিপজ্জনক প্রবণতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ October, ২০২৪ |
শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া। গত দেড় দশকে যেসব রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের কন্ঠরোধ করা হয়েছিলো তারা আবার স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে। শেখ হাসিনার শাসনে ধর্মীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসব সংগঠন এখন নানা ধরনের কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা দেখছি রাজধানীর বড় শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরাও ধর্মীয় নানা ইস্যুতে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কথা বলার যে স্বাধীনতা হরন করা হয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরাই যেনো বেশি সরব। ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য এগুলো ইতিবাচক উদ্যেগ হিসাবে দেখা উচিত। গত কয়েক

সপ্তাহ থেকে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে সীরাত বিষয়ে নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। ভারতে রাসুল সা. এর অবমাননার প্রতিবাদে হয়েছে মিছিল ও সমাবেশ। এ ধরনের সমাবেশ ও মিছিল অতীতেও বাংলাদেশে হয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে আমরা কিছু সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করছি। দেখা যাচ্ছে বেশি কিছু মিছিল ও সমাবেশে কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে অনেক তরুণ মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। এ ধরনের পতাকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন দায়েশ ব্যবহার করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া গেছে, মিছিল শুরু হওয়ার পর কিছু লোক এসে হঠাৎ ছাত্রদের হাতে এসব পতাকা ধরে দিচ্ছে। আবার অনলাইনে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু সংগঠন এ ধরনের পতাকা নিয়ে মিছিল সমাবেশে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ

করছে বলে খবর এসেছে। ধর্মীয় সমাবেশ ও আলোচনায় কালেমা খচিত পতাকার ব্যবহার নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেই প্রতীক যখন উগ্রপন্থী বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায় তখন তাতে সন্দেহ করার মতো উপাদান যোগ হয়। বাংলাদেশে কালেমা খচিত পতাকার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। প্রতি ঈদে রাজধানী প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো কালেমা খচিত পতাকায় সজ্জিত করা হয়। ফলে কালেমার পতাকা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। বহু মুসলিম দেশের বিভিন্ন সংগঠন কালেমা খচিত পতাকা ব্যবহার করে থাকে। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় কালেমা খচিত রয়েছে। আবার লেবাননের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল্লাহ তাদের সভা সমাবেশে লালের মধ্যে কালো লেখা

কালেমা খচিত পতাকা ব্যবহার করে থাকে। সাধারনভাবে মুসলমানরা ব্র্যান্ড কালার হিসাবে সবুজ ব্যবহার করে থাকে। মসজিদে নববীতে রাসুল সা. এর রওজা মোবারক গম্বুজ সবুজ রংয়ে সজ্জিত। এছাড়া যুগ যুগ ধরে মুসলিমদের আরেকটি প্রতীক হচ্ছে ক্রিসেন্ট বা চাঁদ- তারার ব্যবহার। অপরদিকে কালো কাপড়ে কালেমা খচিত পতাকা ব্যবহার আমরা দেখছি ২০১৩ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশের উত্থানের পর থেকে। বাংলাদেশে যে কোনো মিছিল সমাবেশে এ ধরনের পতাকার ব্যবহার আর্ন্তজাতিক বিশ্বে ভুল বার্তা দিতে পারে। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারনায় মেতে উঠেছে। তারা শুরু থেকে এই অভ্যুত্থানকে দেখাতে চাইছে ইসলামপন্থীদের উত্থান হিসাবে। অথচ এই অভ্যুত্থান ছিলো বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক

অধিকার হরনের বিরুদ্ধে একটি গণজাগরন। যেখানে সব রাজনৈতিক দল ও মত- পথের লোকের অংশগ্রহণ ছিলো। এই আন্দোলনে অবশ্যই ইসলামপন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিলো। তারা এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলো ফ্যাসিস্ট শাসন অবসানের জন্য। দায়েশের মতো ধ্বংসাত্মক কোনো রাষ্ট্র গঠনের ধারনা থেকে নয়। ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে যে বড় সাফল্য দেখিয়েছে- তা হলো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পথ অনুসরন করা। পশ্চিমা বিশ্বের জোরালো সমর্থন ছাড়াও তিনি মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন। আমরা এর বেশ কিছু উদহারন দেখছি। মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম প্রথম কোনো সরকার প্রধান হিসাবে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। জাতিসংঘে সাধারন অধিবেশনে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ

শরীফের সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের বৈঠক হয়েছে। আরব আমিরাতে গণআন্দোলনের পক্ষে অংশ নিয়ে কারাবন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এসব তৎপরতা থেকে আমরা বুঝতে পারি, ভারত নির্ভর পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে মুসলিম বিশ্বের সাথে সর্ম্পকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আবার পশ্চিমা বিশ্বের সর্ম্পক নতুন উচ্চতায় পৌছেছে। জাতিসংঘ সাধারন অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে বৈঠক হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই স্বাধীন ও ভারসাম্যমুলক অবস্থান ভারতের পছন্দ হওয়ার কোনো কারন নেই। ফলে ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশে বিরোধী অবস্থান তীব্র করছে। ভারতের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নূন্যতম সম্মান ও মর্যাদা না দেখিয়ে তাদেরকে উল্টো ঝুলিয়ে মারার কথা বলছে। খোদ মোদিও ঝাড়খন্ডে বাংলাদেশ নিয়ে সর্তকতা উচ্চারন করছেন। এ ধরনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান এখনও ভারত মেনে নিতে পারেনি। আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ভারত চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসাবে উপসাস্থাপন করতে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভারত ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যক্তিদের যথেষ্ট প্রভাব আছে। ইতোমধ্যে ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী পশ্চিমা গণমাধ্যমে বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থানের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রচারনা বাংলাদেশের সরকারের ওপর আগামী দিনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভারত ও তার অনুগত বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টরা দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। যেখানে দেখানো সম্ভব হবে বাংলাদেশে উগ্রপন্থীরা রাষ্ট্রপরিচালনায় ভূমিকা রাখছে। ছাত্র গণ অভূত্থানের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভুয়া খবর প্রচার করে বাংলাদেশের এমন চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিলো। এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিলো দেশের সব রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থীদের সক্রিয় ভূমিকার কারনে। মাদ্রাসা ছাত্রদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নানা উদ্যেগ আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশে দায়েশের সংশ্লিষ্টতা দেখানের যে কোনো গোপন তৎপরতার বিরুদ্ধে ইসলামপন্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সন্ত্রাসবাদী কোনো সংগঠনের প্রতীক ব্যবহার না করেন সে ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা দরকার। মনে রাখতে হবে এ ধরনের তৎপরতা শুধু বাংলাদেশ বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা উসকে দেবে না, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাফের ‘প্লে অন পিরিয়ড’ প্রকল্পের পার্টনার সেনোরা চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের দেশত্যাগ, নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানালেন চিফ প্রসিকিউটর সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐকমত্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল