অনিয়ম-অবহেলা দেখে নিশ্চুপ থাকা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩১ May, ২০২৬

অনিয়ম-অবহেলা দেখে নিশ্চুপ থাকা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩১ May, ২০২৬ |
সরকারি অফিসে অনিয়ম-অবহেলা দেখে নিশ্চুপ থাকাকে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মনির চৌধুরী। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্ট্যাটাসে মনির চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন এবং কিছু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাটি দেখে পুরোনো কিছু স্মৃতি নাড়া দিল। সরকারি অফিসে দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে ২০১৬ সালে একটি জাতীয় পত্রিকায় কলাম লিখেছিলাম। কেবিনেট ডিভিশন লেখাটি গুরুত্বের সঙ্গে সব সরকারি সংস্থা প্রধান ও ডিসিদের কাছে পাঠিয়েছিল; কিন্তু মুখ্য সচিব ভীষণ চটে গেলেন, ভীত হইনি। দায়িত্বে অবহেলা সরকারি দপ্তরে মরণব্যাধি ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন,

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি, মিল্ক ভিটা, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিপিডিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তর, বাখরাবাদ গ্যাস লিমিটেড, বিআইডব্লিউটিএ, বিএসটিআই, দুদক ও বিজ্ঞান জাদুঘরসহ বিভিন্ন সেক্টরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করেছি, ‘শুধু অবকাঠামোগত আধুনিকতা কিংবা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা দিয়ে সুশাসন আসবে না। অচল যন্ত্রপাতি সচল করা সহজ, কিন্তু অচল মানুষ সচল করা কঠিন! সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, সরকারি অফিসে নৈতিকতার প্রাথমিক অনুষঙ্গ, যথাসময়ে উপস্থিতি, অথচ অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেমও মানা হচ্ছে না। ঈদের ছুটির ঠিক আগের কর্মদিবসে এবং ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে দেখুন- কত সংখ্যক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি! কেবলমাত্র ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবা সেক্টরেই

শৃঙ্খলা দৃশ্যমান। ‘‘বেতন, বোনাস, ছুটি, পদোন্নতি পেয়েও দায়িত্ব অবহেলার জন্য আমাদের বিবেক দংশিত হয় না। শুধু ঘুস না খাওয়াই কি সততা? অনিয়ম-অবহেলা দেখে নিশ্চুপ থাকা ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি’। কর্তব্যে অবহেলার জন্য শুধু তিরস্কার, পদাবনতি বা বরখাস্তের শাস্তি প্রদান ‘গাড়ি ওভারহোলিং’ করার সমতুল্য’’। মনির চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) থাকাকালীন আমরা সরকারের কাছে একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম, দায়িত্বে অবহেলার কারণে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি কিংবা জনভোগান্তি প্রমাণিত হলে কর্মকর্তাদের জরিমানা করা হোক, কিন্তু কার্যকর হয়নি। তবে এর সফল প্রয়োগ করেছিলাম ‘মিল্ক ভিটায়’। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শুধু চাকরিচ্যুতই করা হয়নি বরং লাখ লাখ টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলাম।

দায়িত্ব পালনকালীন এক ঘটনার অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরে নদী দূষণের ঘটনা উদ্ঘাটন করতে কারখানাগুলোতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনাকালে দেখতাম, বর্জ্য পরিশোধনাগার বন্ধ রেখে কত বেপরোয়াভাবে নদীতে ও কৃষি জমিতে বিষাক্ত পানি ফেলা হচ্ছে! নদী দূষণ, পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ চুরি, খাদ্যে ভেজাল, তেল চুরি কিংবা গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে বিদেশি জাহাজের বর্জ্য ফেলার মতো white-collar criminality হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে। গভীর রাতে জনস্বাস্থ্য বিধ্বংসী এক ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা প্রসঙ্গে মনির চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রাত ২টায় এক গোডাউনে ১০ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ জমাট বাঁধা গুঁড়া দুধের এক বিশাল চালান আটক করেছিলাম, যা

গুঁড়ো করে ভালো দুধের সঙ্গে মেশানো হচ্ছিল। ‘গতানুগতিক কর্তব্য পালন’ এবং ‘কাজের প্রতি ভালোবাসা’— এক নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই সচিব। পরিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন মনির চৌধুরী বলেন, Inspection is a miracle. That miracle can bring revolutionary change in governance. But Inspection is not the sole responsibility of the Prime Minister alone, it’s symbolic. But message implies that it’s the sacred responsibility of the Ministers, Secretaries, Head of the Organisations/Offices and certainly indispensable responsibility of all the Public Officials. (পরিদর্শন এক অনন্য মহিমার নাম, যা সুশাসনে এক বিপ্লবী পরিবর্তন এনে দিতে পারে। তবে পরিদর্শন কেবল প্রধানমন্ত্রীর একার দায়িত্ব

নয়, এটি একটি প্রতীকী বার্তা। এই বার্তার মূল অন্তর্নিহিত অর্থ হলো—এটি মন্ত্রী, সচিব, সংস্থা বা দপ্তরের প্রধান এবং নিশ্চিতভাবেই সকল সরকারি কর্মকর্তার এক পবিত্র ও অপরিহার্য দায়িত্ব)।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য শ্রীলঙ্কার কোচের হুমকি, ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স কুমিল্লা ইলিশবাহী পিকআপে ডাকাতির পর ১৯ আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া নিয়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাবের উদ্বেগ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের