ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া খাবার খাওয়া নিয়ে যা বললেন আজহারী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ অক্টোবর, ২০২৪
     ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া খাবার খাওয়া নিয়ে যা বললেন আজহারী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ অক্টোবর, ২০২৪ | ১০:৩৭ 231 ভিউ
বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা মুসলমানদের খাবার বা গিফট দেয়। তাদের দেওয়া এসব খাবার বা উপহার মুসলমানরা গ্রহণ করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। আজহারী বলেন, অনেক সময় অমুসলিমরা আমাদেরকে খাবার বা গিফট দেন। তারা কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার, ফলমূল বা মাছ-মাংস দিলে খেতে পারব কিনা সে বিষয়ে আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.) ও সাহাবীদের জীবন থেকে জানতে পারি। এ প্রসঙ্গে এই বক্তা বলেন, আল্লাহর রাসুল ৬ষ্ঠ হিজরিতে মুশরিকদের সঙ্গে ১০ বছরের জন্য হুদাইবিয়ার সন্ধি করেন, তখন পরিস্থিতি শান্ত ছিল, কোনো যুদ্ধ ছিল না। ওই সময় রাসুল (সা.) ভাবলেন এখনই সময়

বিশ্বব্যাপী ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়ার। এরপর তিনি ওই সময়ের সুপার পাওয়ার দেশগুলোর শাসকদের চিঠি পাঠান। রোম সাম্রাজ্যের সম্রাট হিরাক্লিয়াস, পারস্যের সম্রাট কিসরা, মিশরের সম্রাট মুক্বাওক্বিসকে চিঠি পাঠান। অর্থাৎ বড় বড় সুপার পাওয়ার দেশগুলোর শাসকদের সবার কাছে দাওয়াতি চিঠি দেওয়া শুরু করেন তিনি। যেসব সম্রাটের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কেউ কেউ করেননি। তবে প্রত্যেকে রাসুলকে (সা.) উপহার পাঠিয়েছেন। আজহারী বলেন, ওই সময় মিশরের বাদশাহ ছিলেন মুক্বাওক্বিস। তিনি ছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। তার কাছে রাসুল (সা.) এর চিঠি পাঠানো হলে, তিনি চিঠি পড়ে মুগ্ধ হন। তিনি বুঝতে পারলেন ইনি তো নবী। রাসুলের পক্ষ থেকে যিনি চিঠি

নিয়ে গিয়েছিলেন, তার কাছে রাসুল (সা.) এর জন্য অনেক উপহার পাঠিয়েছিলেন মুক্বাওক্বিস। এর মধ্যে ছিল এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা, দুজন খ্রিষ্টান নারী দাসী (তখন দাসপ্রথা প্রচলন ছিল)। এদের মধ্যে একজনের নাম ছিল মারিয়া, আরেকজন শিরিন। মারিয়াকে রাসুল (সা.) নিজের স্ত্রী হিসেবে রেখেছিলেন। আর শিরিনকে তার সভাকবি হাসসান বিন সাবিতকে (র.) দিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, একজন পুরুষ কর্মচারী পাঠিয়েছিলেন মিশরের সম্রাট। এছাড়া ২০ পিস থান কাপড় পাঠিয়েছিলেন। একটা গাধা ও একটা খচ্চরও পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহর রাসুল মুক্বাওক্বিসের পাঠানো সব উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তার মানে অন্য ধর্মের কেউ উপহার দিলে আপনি নিতে পারবেন। আলী (রা.) বর্ণিত এক হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আজহারী বলেন, কিসরা,

কায়সারসহ যত রাজা-বাদশাহ রাসুলকে (সা.) উপহার দিয়েছেন তিনি সব গ্রহণ করেছেন। এসব শাসকের মধ্যে সবাই খ্রিষ্টান ছিলেন না, কেউ ছিলেন ইহুদি। যেমন- কিসরা ছিলেন অগ্নি উপাসক। কিন্তু তাদের দেওয়া উপহার সামগ্রী রাসুল গ্রহণ করেছেন। এরপর আলী (রা.) নিজে যখন খলিফা ছিলেন, তখন অগ্নি উপাসকদের একটি উৎসব হতো; যার নাম ছিল ‘নাইরুজ’। বাংলায় একে বলা হয় ‘নওরোজ’ বা নববর্ষ। এই উৎসব উপলক্ষে তারা আলীকে উপহার দিতেন। আলীও উপহার গ্রহণ করতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইফের একটি হাদিস উল্লেখ করে জনপ্রিয় এই ইসলামি বক্তা বলেন, আয়েশার (রা.) কাছে এক নারী এসে বললেন, ‘আম্মাজান, অগ্নি উপাসকরা তাদের নওরোজ উৎসবের সময় আমাদেরকে ভুনা পাখি

উপহার হিসেবে পাঠায়, আমরা কি খেতে পারব? তখন আয়েশা বললেন, ওইদিন তাদের উৎসবে জবাই করা কোনো জিনিস খেতে পারবে না। বরং তাদের গাছের ফলমূল, শাকসবজি বা মিষ্টান্ন জাতীয় কিছু দিলে খেতে পারবে’। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্য ধর্মের কেউ তাদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মিষ্টি বা চকলেট জাতীয় কিছু দিলে খেতে পারবেন। এমনকি জামাকাপড় বা অন্য কোনো গিফট দিলেও নিতে পারবেন। অর্থাৎ সব কিছুই নিতে পারেন, তবে তারা জবাই করেছে এমন কোনো প্রাণীর মাংস দিলে যেমন- হিন্দুরা তাদের দীপাবলি প্রোগ্রামে মুরগি ও গরু জবাই দেয়, ওইটা দিয়ে আপনি খেতে পারবেন না। বৌদ্ধরা জবাই করেছে এরকম কোনো প্রাণীর মাংস দিলে খেতে

পারবেন না। কারণ ইসলামের বিধান হলো- কোনো প্রাণীকে জবাই করলে আল্লাহর নাম নিতে হয়, কিন্তু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর নাম মুখে নেয় না। এজন্য আমরা তাদের দেওয়া কোনো প্রাণীর মাংস খেতে পারি না। তবে আহলে কিতাবদের কথা ভিন্ন। প্রকৃত আহলে কিতাব যারা তারা আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করে। ফলে তাদের দেওয়া মাংস খেতে পারবেন। কিন্তু অন্য কোনো ধর্মের মানুষ জবাই করা প্রাণীর মাংস দিলে আপনি খেতে পারবেন না। আবার এমন তো না, তারা শুধু আপনাকে মাংসটাই খেতে দেবে, হয়তো মাছ দিতে পারে, ডিম দিতে পারে, শাকসবজি বা ফলমূল দিতে পারে, সবই আপনি খেতে পারবেন শুধু মাংস ছাড়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঙালীর দ্রোহের ভাষা, প্রতিবাদী হুঙ্কার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর শিষ্টাচারের কি কুৎসিত অবনতি! জেলায় জেলায় বাড়ছে আ.লীগের কর্মসূচি, নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা শব্দ ও বয়ানের রাজনীতি: বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোম বহুমুখী সংকটের মুখে বাংলাদেশের পোশাক খাত: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ৩৪.১% শুল্ক থেকে কি মিলবে স্বস্তি? অনিশ্চয়তায় অর্ডার সংকট ও রপ্তানি খাত আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় মেট্রোরেলের নতুন দুই রুটে, প্রশ্নবিদ্ধ দরপত্র প্রক্রিয়া সারা দেশে শহীদ দিবসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮ ড. খলিলুর রহমান: পর্দার আড়ালের এক ভয়ঙ্কর ‘কিংমেকার’ ১৯৭১ শেষ হয়নি, ডালিম-ফারুকের রিলে রেস থামেনি, শুধু দৌড়বিদ বদলেছে টানা ১৮ মাস ধরে তালাবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয় লাশের মিছিল থামছেই না — আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নৃশংস খুন অব্যাহত.. ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন বিশটা লাশের বিনিময়ে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাবেন টুকু কানসাটের কসাই মন্ত্রী, তারেকের গণতন্ত্রে স্বাগতম! Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Election আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান বিজয়গাথা: বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের “অসম চুক্তি” কার স্বার্থে ‘সেভেন সিস্টার্সে’ হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক অপরাধ, ছাত্রদের দিয়ে কিংস পার্টি করালেন: ঢাবি শিক্ষক একুশের বিশ্বজয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি ও শেখ হাসিনার ভূমিকা যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক : যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না