পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট, বিক্রির চাপে ক্রেতা কম – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ September, ২০২৬

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট, বিক্রির চাপে ক্রেতা কম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ September, ২০২৬ |
দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ, কোম্পানির ব্যবসা ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নানা গুজবে অস্থির হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীদের অনেকে। নেতিবাচক কোনো খবর বা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেই যাচাই না করে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। বিপরীতে নতুন করে শেয়ার কেনার আগ্রহ কম। ফলে বাজারে একদিকে বিক্রির চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেতার সংকট তৈরি হচ্ছে। এরই প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। চলতি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র এক দিন সূচক বেড়েছে। বাকি চার দিনই দরপতন হয়েছে। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৪৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট। এতে সূচকটি তিন মাসের

মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বাজারের আকার ও লেনদেন। এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। দৈনিক গড় লেনদেনও নেমে এসেছে ৫৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের এই দুর্বলতার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ভালো কোম্পানির নতুন শেয়ারের ঘাটতি—সব মিলিয়ে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা গুজব। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এখন কোম্পানির মৌলিক অবস্থার চেয়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়া কথাবার্তার ওপর

বেশি নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, এই পরিস্থিতিতে শুধু দরপতন ঠেকানোই যথেষ্ট নয়, বিনিয়োগকারীদের ভয় ও বিভ্রান্তি দূর করাও জরুরি। আস্থা ফিরলে ক্রেতা ফিরবেন, আর ক্রেতা ফিরলে লেনদেন ও বাজারের প্রাণচাঞ্চল্যও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। বাজারের দুর্বলতার চিত্র পাওয়া যায় বিভিন্ন খাতের শেয়ারের দরেও। গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির শেয়ারের দর কমেছে। প্রকৌশল খাতের ৪২টির মধ্যে ৩৭টির এবং সাধারণ বিমা খাতের ৪৩টির মধ্যে ৩৮টির দর কমেছে। শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায়

তার প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বাজারে রয়েছে। তবে বাজারে উদ্বেগের কারণ শুধু কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নয়। বাজারের নিয়মকানুন ও বিভিন্ন কোম্পানিকে নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ডিবিএ ও ডিএসই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নজরদারিতে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়েনি। ফলে বাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত অনেকটা ‘শুনলাম’ নির্ভর হয়ে পড়েছে। কোনো কোম্পানিকে নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়ালে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।

আবার ইতিবাচক গুঞ্জন ছড়ালে কেউ কেউ যাচাই ছাড়াই শেয়ার কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-জোগানের বদলে গুজবও শেয়ারদরের ওঠানামায় প্রভাব ফেলছে। ব্রেডথের তথ্যেও বাজারের এই একমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। অর্থাৎ দর বেড়েছে এমন কোম্পানির তুলনায় দর কমেছে এমন কোম্পানির সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ এবং ক্রেতার দুর্বল উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দরপতনের পাশাপাশি লেনদেন কমে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপরও। লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল কমিশন আয় কমে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মালিক বলেন, দরপতনের চেয়েও বড় সমস্যা এখন আস্থার সংকট। বিনিয়োগকারীরা টাকা নিয়ে বসে থাকলে ভালো কোম্পানির শেয়ারও ক্রেতা

হারাবে। এতে লেনদেন কমার পাশাপাশি ব্রোকারদের আয়ও কমবে। বাজারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি বলছে, সমস্যাটি শুধু সূচকের পতনে সীমাবদ্ধ নেই। বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে অর্থ না আনলে এবং বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ অব্যাহত রাখলে লেনদেন ও বাজারের গভীরতা আরও কমতে পারে। তাই এখন বাজার স্থিতিশীল করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানো এবং আস্থা পুনর্গঠনই বড় চ্যালেঞ্জ। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, গুজব বন্ধ করতে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ জরুরি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে শেয়ারদর প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নেত্রকোনায় বাড়িতে একা পেয়ে ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পলাতক টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের মার্কিন চুক্তির খপ্পরে দেশের ওষুধশিল্প: ২০ টাকার ওষুধ হবে ৫০০, কাঁচামাল আমদানিতেও খড়গ মৌখিক তিরস্কার অপরাধ নয়, মব সৃষ্টি-প্রশ্রয় দিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণতা, রিসেট বাটন চেপে সব ধ্বংস করা অপরাধ: হ্যাঁ ইউনূস, আপনি অপরাধী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে চিকিৎসাধীন যুবককে গণধোলাই দিয়ে হত্যা ইন্ডিয়া টুডে-কে শেখ হাসিনা: “ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের যোগ না দেয়া ‘অপরিণত’ সিন্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা” হুথি হামলার পর সৌদি লিগের তিন ম্যাচ স্থগিত কোটার বিরোধিতা করে নেতা হওয়া ফারুক এবার উপসচিব মর্যাদায় বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক পদে সারের ডিলার নিয়োগে দল-স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন: ১৭ বছর ‘বঞ্চিত’ থাকায় সরকারের বিশেষ নির্দেশনা এলপিজির দাম আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি বিইআরসির বিশ্বের যে প্রান্তেই যাবে ইউনূস, নিজের কুকর্মের জন্য অপমানিত হবে: ওবায়দুল কাদের বাড়তি ৬০,৪৩২ কোটি টাকা দেবে ফিফা, বাংলাদেশ কত পাবে শিক্ষাসহ ৩ সচিবকে সিনিয়র পদমর্যাদা দিল সরকার কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, ভাঙচুর দিল্লিতে আবারও জড়ো হওয়ার আহ্বান অভিজিৎ দীপকের গঙ্গা চুক্তি নবায়নে সিদ্ধান্ত হয়নি, ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা হরমুজে ২ হাজার ৫০০ কনটেইনারসহ জাহাজডুবি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দিন শুরু যেভাবে— নাশতা বানান, বাসনও মাজেন ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী