আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ |
আদালতের নথিতে তিনি ‘জামিনপ্রাপ্ত’, কিন্তু বাস্তবতায় তিনি এখন ‘লাশ’। গত এক সপ্তাহে মেহেরপুরের রাজনীতির মাঠে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে নাটকীয়তা আর নিষ্ঠুরতার প্রদর্শনী চলেছে, তার চূড়ান্ত যবনিকা পতন হলো একটি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা (৬০) আর নেই। গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টায় খুলনা কয়েদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেবল ‘হৃদরোগ’ বা ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে মেনে নিতে নারাজ তার পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এটি স্পষ্টত ‘পরিকল্পিত অবহেলা ও কাঠামোগত হত্যা’। জামিন যখন মৃত্যুফাঁদ: জেলগেটের ‘কালো আইন’ অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম মোস্তফা গত সপ্তাহেই

আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ায় তার বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে জেলগেট থেকে তাকে আবারও নাশকতার ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনজীবীদের মতে, একজন অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিকে জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বর্তমানে বিরোধী মত দমনের একটি ‘মোক্ষম হাতিয়ার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৬০ বছর বয়সী একজন অসুস্থ মানুষ, যিনি জেল থেকে বের হওয়ার শক্তিটুকুও পাচ্ছিলেন না, তাকে ‘অগ্নিসন্ত্রাসী’ সাজিয়ে পুনরায় আটক করা কি শুধুই পুলিশি তৎপরতা, নাকি তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ওপর মহলের নির্দেশ? চিকিৎসা নাকি কালক্ষেপণ? রহস্যজনক ২১ ঘণ্টা গোলাম মোস্তফার অসুস্থতা ও মৃত্যুর সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার

চিত্র ফুটে ওঠে: ২৩ জানুয়ারি: মেহেরপুর জেলা কারাগারে তিনি তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন। প্রথমে তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবনতি ও স্থানান্তর: চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে খুলনায় রেফার করেন। মেহেরপুর থেকে খুলনার দীর্ঘ পথ একজন মুমূর্ষু হৃদরোগীর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি, রাত ১১টা: খুলনা কয়েদী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ২৫ জানুয়ারি, ভোররাত: পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। প্রশ্ন উঠছে, ২৪ তারিখ রাতে মারা যাওয়ার পর পরিবারকে জানাতে কেন ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো? এই দীর্ঘ সময় কি মৃত্যুর কারণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল? নাকি লাশের সুরতহাল নিয়ে কোনো জটিলতা ছিল? কারা কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা

সন্দেহের দানা বাঁধছে। ২০০ লাশের মিছিল ও ভয়ের সংস্কৃতি গোলাম মোস্তফার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সারাদেশে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী কারাগারে মারা গেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া, মানসিক নির্যাতন এবং জামিন অযোগ্য মামলা দিয়ে আটক রাখা—এগুলো ‘কাস্টোডিয়াল টর্চার’ বা হেফাজতে নির্যাতনের শামিল। গোলাম মোস্তফা সেই দীর্ঘ তালিকার সর্বশেষ শিকার। রাষ্ট্র কি তবে কারাগারগুলোকে ‘সংশোধনাগার’ থেকে ‘মৃত্যুপুরীতে’ রূপান্তর করেছে? পারিবারিক আর্তনাদ ও মহাজনপুরবাসীর ক্ষোভ শনিবার বিকেলে মহাজনপুরে যখন গোলাম মোস্তফার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন পুরো এলাকায় শোকের চেয়ে ক্ষোভের আগুন ছিল বেশি। নিহতের পিতা ছয়তুল্লাহ মন্ডলসহ স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের

পক্ষ থেকে বারবার একটি প্রশ্নই ফিরে আসছে: “এখন কি মোস্তফা ভাই জামিন পাবেন? নাকি এখনো সন্দেহ আছে মৃত মানুষ জীবিত হয়ে কোন অগ্নিসন্ত্রাস করবে?” রাষ্ট্রের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। আছে কেবল ক্ষমতার দম্ভ আর বিরোধী দমনের নিষ্ঠুর কৌশল। উপসংহার গোলাম মোস্তফার মৃত্যু আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নাগরিক অধিকার আজ কতটা বিপন্ন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একজন নাগরিককে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। এই মৃত্যুর দায় কি শুধুই কারা কর্তৃপক্ষের, নাকি সেই রাজনৈতিক প্রভুদের—যারা পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভিন্নমতকে কবরে পাঠাতে বদ্ধপরিকর? মহাজনপুরবাসীর দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যদিও তারা জানেন, বিচারহীনতার

এই সংস্কৃতিতে লাশের সংখ্যা বাড়লেও বিচারের বাণী নিভৃতেই কাঁদবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাকরি বাঁচাতে নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: তোপ দাগলেন ড. মোমেন প্রিজন ভ্যান থেকে সাবেক এমপি তুহিনের আকুতি: ‘অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, ন্যায়বিচার চাই’ বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ইফতার বিতরণ: শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যাবর্তনে দোয়া কামনা বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অদম্য প্রতিরোধের মুখে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াহিয়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাহাড়তলী: গণহত্যার কালো অধ্যায় সংস্কারের মুখোশে দমন: ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই যখন নিরাপদ না, তখন সাধারণ মানুষের কথা কে ভাববে? জ্বালানি সংকটে ভরসা রূপপুর: শেখ হাসিনার মেগা প্রজেক্টেই স্বস্তিতে দেশ শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ: শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ইনসাফের দোকানে ভেজাল মাল: নিমের মাজনে নিম নেই, জামায়াতের ইসলামে ইসলাম নেই পাঠ্যবই দুর্নীতি : ইউনুসের সংস্কার, সিন্ডিকেটের উৎসব জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন উত্তাল মার্চের স্মৃতিতে শিব্বীর আহমেদের পাঁচটি দেশাত্মবোধক গান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন