ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ September, ২০২৬

ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ September, ২০২৬ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী ডাকসু ভবনের প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার ভেতরে এ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এর আগে জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় লাগানোর বিষয়ে বলেছিলেন, তার ইচ্ছা হয়েছে বলেই তিনি ছবি লাগিয়েছেন। শিক্ষার্থীদেরও ইচ্ছা হয়েছে এবং সেই কারণেই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখেছেন। ইতিহাস

বিভাগের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কোনো উদযাপনের চরিত্র নন; ইতিহাসে তার ভূমিকা আমাদের ভাষা ও জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে বিরোধপূর্ণ। আমরা ভুলে যাইনি, ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। সেই জিন্নাহ’র ছবি যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডাকসুর সংগ্রহশালার দেয়ালে লাগিয়েছে, সেই জিন্নাহকে আমরা বাংলাদেশপন্থীরা তীব্র ঘৃর্ণার সঙ্গে মাটিতে লাগিয়ে দিলাম। একই সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আস শামস বলেন, ভাষা আন্দোলন ,৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সব গৌরবময় অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ,ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ,আব্দুল মালেকের ছবি কখনোই কাম্য নয়। বর্তমান

শিবির প্যানেলের নির্বাচিত ডাকসু বরাবরই দেশবিরোধী শক্তিদের সামনে নিয়ে আসার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে গতকাল সোমবারের ঘটনার পর ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক নামে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সদস্যরা ডাকসুর ভেতরে ‘মব’ করে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। ব্রিফিংয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। কেউ যদি অন্যায় করে তার বিচার করবে প্রশাসন। কিন্তু মব করে ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুর করাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিন ছবি সংস্কারের পর গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা আবার চালু করা

হয়। সেখানে নতুন করে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি রাখা হয়। এর একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহর দেওয়া বক্তব্যের সময়ের ছবি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সম্মেলনসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পাশাপাশি ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। এর আগে সেখানে তার এমন ছবি

ছিল। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। পরে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের