স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে ঢুকতে পারবেন না দর্শকরা, ফিফার নতুন নিয়মে বিতর্ক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ June, ২০২৬

স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে ঢুকতে পারবেন না দর্শকরা, ফিফার নতুন নিয়মে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ June, ২০২৬ |
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই স্টেডিয়ামে প্রবেশের নিয়মকানুন নিয়ে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। এবার খেলা দেখতে আসার সময় দর্শকরা স্টেডিয়ামের ভেতরে কোনো ধরনের পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। ফিফার শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কারণে তৃষ্ণার্ত সমর্থকদের এখন স্টেডিয়ামের ভেতর থেকেই চড়া দামে বোতলজাত পানি কিনে খেতে হবে। বুধবার আমেরিকার প্রভাবশালী ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অথচ গত মাসেও ফিফার অফিশিয়াল আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা ছিল, দর্শকরা চাইলে সর্বোচ্চ ১ লিটার ধারণক্ষমতার যেকোনো খালি ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বোতল নিজেদের সঙ্গে স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতে পারবেন।

কিন্তু বুধবার ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানায়, আগের সেই নিয়ম পুরোপুরি বদলে দিয়ে পানির বোতল বহনের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিফা। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ধরনের পানির বোতলই স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’ এই বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের বেশ কিছু ভেন্যুতে আগে থেকেই বোতল নিয়ে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবী এবং স্টাফসহ সবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ধরনের ঝুঁকি বা দুর্ঘটনা এড়াতেই বোতল নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত। বেশ কিছু স্টেডিয়ামে আগে থেকেই নিরাপত্তার

কারণে বাইরের বোতল নেওয়া নিষেধ, ফিফা কেবল সেই নিয়মটিই এবার টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামের জন্য কার্যকর করছে।’ অবশ্য ফিফা আরও জানিয়েছে, স্টেডিয়াম চত্বরে দর্শকদের জন্য পানির স্প্রে, ফ্যান, হাইড্রেশন স্টেশন এবং কুলিং টেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের ভেতরে যে বোতলজাত পানি বিক্রি করা হবে, তার দাম অন্যান্য সাধারণ অনুষ্ঠানের মতোই রাখা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছে। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। এই সময়ে তীব্র গরমের মধ্যে খোলা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে এসে দর্শকরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তারা সতর্ক করেছেন। গত মাসে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ নামের একটি গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে

বলা হয়েছিল, এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে থাকবে। এর আগে গত বছর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও তীব্র গরমে দর্শকরা প্রচণ্ড ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেখানেও স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে ঢোকার ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার মূল বিশ্বকাপেও একই নিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটায় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের