কোরবানীর পর্যাপ্ত পশু থাকলেও কেনার সক্ষমতা নেই অধিকাংশ মানুষের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ May, ২০২৬

কোরবানীর পর্যাপ্ত পশু থাকলেও কেনার সক্ষমতা নেই অধিকাংশ মানুষের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ May, ২০২৬ |
মোহাম্মদপুর টাউন হলের মুদি দোকানদার আমানত উল্লাহ গত এক দশক ধরে কোরবানীকে কেন্দ্র করে ঈদে ছাগল কোরবানী করছেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে আসন্ন কোরবানী ঈদে এবার কোন পশু ক্রয় করবেন না। একই পরিস্থিতে রয়েছেন উত্তরার আজমপুরের টেইলর ব্যবসায়ী উত্তরার আমেনা বেগম। তিনি এবার গরুর পরিবর্তে ছাগল কোরবানীর কথা ভাবছেন। শুধু এ দুজন নয়, আর্থিক সংকটের কারণে বিপুল পরিমাণ মানুষ এবার কোনবানীর পশু কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই—সরকারি হিসাবেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং জীবনযাত্রার

ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের কোরবানি সক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। সংখ্যার দিক থেকে স্বস্তি থাকলেও বাজার বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখা গেছে, খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু প্রস্তুত করলেও ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কোরবানি নিয়ে দোটানায় পড়েছে। অনেকেই এবার একক কোরবানি থেকে সরে গিয়ে শরিকানায় যাওয়ার কথা ভাবছেন, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কোরবানি

না করার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। মোহাম্মদপুর টাউন হলের মুদি দোকানদার আমানত উল্লাহ বলেন, গত এক দশক ধরে প্রতি বছর ছাগল কোরবানী করে আসছি। এবারের মত সংকটে আগে কখনো পড়িনি। এবার কোরবানী করার মত কোন সমার্থ নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসারে এমন অভাব আগে কখনো ফেস করিনি। এবার আর কোরবানী করার অর্থ জমা করতে পারি নি। ফলে গত এক দশকে প্রথম বারের মত পশু কোরবানী করতে পারছি না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি গত এক বছরে পরিবারের ব্যয়ের বড় অংশ গ্রাস করেছে। চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয়ের

সুযোগ কমেছে। ফলে কোরবানির মতো বড় ব্যয় বহন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কোরবানির পশুর সরবরাহ বাড়লেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজারে চাহিদা বাড়ায় না। কারণ চাহিদা নির্ভর করে মানুষের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত আয়ের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। উত্তরার আজমপুরের টেইলর ব্যবসায়ী উত্তরার আমেনা বেগম জানান, দেশে নানা ধরণের সংকটের প্রভাব আমার ব্যবসাতেও পড়েছে। সংকটের কারণে এবার গরু পরিবর্তে ছাগল কোরবানীর বিষয়ে ভাবছি। মাঝারি সাইজের ছাগল দিয়ে এবারের কোরবানি সারতে হবে। সমার্থ না থাকলে কিছু করার থাকে না। খামারিরাও একই চাপে রয়েছেন। পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় অনেক খামারি উচ্চমূল্য প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারে যদি ক্রেতার সক্ষমতা কম থাকে, তাহলে সেই দামে পশু বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত কয়েক বছরে ঈদের পর অবিক্রীত পশুর সংখ্যা বাড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা খামারিদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোরবানিকেন্দ্রিক যে অর্থচক্র তৈরি হয়, সেটিও এবার কিছুটা মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত কোরবানির সময় শহর থেকে গ্রামে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহিত হয়, যা খামারি, পরিবহন, হাট ব্যবস্থাপনা ও চামড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলে। কিন্তু মানুষের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা বাড়লে এই অর্থপ্রবাহও কমে যেতে পারে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

নিতে হবে। একদিকে পশুখাদ্য ও চিকিৎসা খরচ নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতিতে ভারসাম্য আনতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরবানি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি দেশের একটি বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রমও। কিন্তু যখন অর্থনীতির বড় অংশের মানুষই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না, তখন তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। এবারের ঈদুল আজহা সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি হতে যাচ্ছে—পশুর অভাব নেই, কিন্তু ক্রেতার সক্ষমতাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে বলেন, বলেন, দেশের

অর্থনীতিতে কোরবানির বড় অবদান রয়েছে। ঈদকে টার্গেট করে অনেক কৃষক ও খামারি গরু-ছাগল পালন করে থাকেন। আমরা পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কোরবানির জন্য এখন আর পশু আমদানি করতে হয় না। এটি অর্থনীতির জন্য ভালো দিক। তবে বিগত কয়েক বছর কোরবানির পশু পালনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তারা অনেকে লোকসান গুনেছেন। এর কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় মাংস ও পশুর দাম বাড়ছে। এতে উৎপাদিত গরু-ছাগলের একটা অংশ ঈদে অবিক্রীত থাকছে। এজন্য তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ জায়গায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুখাদ্য ও পশুর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প lপিরোজপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামায়াত আমিরের জামায়াত-শিবিরকে নিয়মিত ধুয়ে দেওয়া রাশেদ ছিলেন শিবিরের শপথবদ্ধ সাথী, গোমর ফাঁস শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে টোকিওতে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি তুমি কে, আমি কে? বাঙালি… বাঙালি… – শেকড়, সংগ্রাম ও প্রত্যয়: বাঙালি জাতীয়তাবাদের অপরাজেয় অভিযাত্রা জয় বাংলা—রণাঙ্গনের গর্জন থেকে চেতনার মহাকাব্য অভিষেকের ৩৫ বলের সেঞ্চুরি, পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে গোপনে দেশত্যাগ ওয়াশিংটনের প্রার্থী ফ্লাভিও’র; পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন জাপান-বাংলাদেশ ইপিএঃ চার বছর পরিশ্রমের ফসল; রপ্তানিতে নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ ২০২৩ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অঙ্গীকার, ২০২৬ সালে বিনিয়োগে আগ্রহ ও সহযোগিতাঃ জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ২৩’এর বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির অনুরোধ, ২৬’এ বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ জাপানের ইউনূসের জাপান সফরের ১৭ মাসঃ পাঁচ বছরে জাপানে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর চুক্তির অগ্রগতি কতোটা? ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগকে নিয়েই অবাধ নির্বাচন ও পুনর্মিলনের আহ্বান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় লঙ্কানদের রেকর্ড জয় মানুষের পেটে ভাত নেই, ৭০% ছাড় দিয়েও বিক্রি হচ্ছে না জামা-কাপড়: ব্যবসা নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা (স্ট্যাগফ্লেশন) এবং মহা অস্বীকৃতি কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগ নেত্রী ডালিয়াকে জবাই করে হত্যা