লাগাম টানা হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫

লাগাম টানা হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ |
লাগাম টানা হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জের পাগলা ঘোড়ায়। জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করে ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকার এ খাতে ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। কেন্দ্র বসিয়ে রেখে টাকা ঢেলে পকেট ভরেছেন পছন্দের বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্রয়চুক্তির ট্যারিফ (বিদ্যুতের দাম) পর্যালোচনার জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শক্ত হাতে লাগাম টানতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটি ক্যাপাসিটি চার্জ বাতিলের সুপারিশ করতে পারে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় ৯১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়াই। গত

বছর এমন ৪১ শতাংশ কেন্দ্র খামোখা বসে ছিল। এসব কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তিতে শর্তই ছিল বিদ্যুৎ না কিনলেও তারা ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ অর্থ পাবে। গত বছর এ চার্জ বাবদ সরকারি ব্যয় ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ছিল প্রায় ১১ শতাংশ সিস্টেম লস। ১ শতাংশ সিস্টেম লসের জন্য জনগণকে গুনতে হয় ৭০০ কোটি টাকা। অঙ্কের হিসাবে ১১ ভাগ সিস্টেম লসে গেছে ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সব মিলে বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা সরকার বিনা কারণে খরচ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য বলেন, আমাদের মূল টার্গেট থাকবে ক্যাপাসিটি চার্জের দিকে। বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ১৫

বছরে বিনিয়োগের অনেক বেশি আয় করেছে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে। এবার এ খাতে লাগাম টানতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হাতিয়ে নিতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের কল্পিত চাহিদা দেখিয়ে মূলত লুটপাটের উদ্দেশ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে এ মুহূর্তে চাহিদার চেয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ শতাংশ বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৭ হাজার ৭৯০ মেগাওয়াট। দেশে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের চাহিদা থাকে গরমে এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে। বিদ্যুৎ বিভাগ গত বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ধরেছিল ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। এখন পর্যন্ত দৈনিক সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট। আগামী গরমে সর্বোচ্চ

চাহিদা যদি ১৮ হাজার মেগাওয়াট ধরা হয়, তাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার চেয়ে ৯ হাজার ৭৯০ মেগাওয়াট বেশি থাকবে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ শতাংশ বেশি হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের বিবেচনায় চাহিদার চেয়ে উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা বেশি থাকতে হয়। পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। যদিও এ সময় বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার হয়নি। কিছু কিছু কেন্দ্র বছরে সক্ষমতার ২-৩ শতাংশ উৎপাদন করেছে। অথচ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হবে-এমন শর্তেই চুক্তির সময় ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্রয়চুক্তির ট্যারিফ (বিদ্যুতের

দাম) পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য বলেন, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাতিলের সুপারিশ করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের লাভ উঠে গেছে। এখন হয় তাদের চুক্তি বাতিল করতে হবে, নতুবা ক্যাপাসিটি চার্জ বাতিল করতে হবে। পিডিবির তথ্যমতে, ১৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ আদায়ে শীর্ষে রয়েছে সামিট গ্রুপ। বর্তমানে গ্রুপটির ১ হাজার ৯৮১ মেগাওয়াটের আটটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে পিডিবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের এই ব্যবসায়ী গ্রুপ গত দেড় দশকে শুধু বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে আয় করেছে ১৪ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। দেশি এ ধরনের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে শত শত কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে পকেটে তুলেছে। একইভাবে

বিদেশি কোম্পানিও টাকা নিয়ে গেছে। ভারতের আদানি গ্রুপ দেড় বছরেই ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে ৫ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা তিন বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে ১২ হাজার ৪২ কোটি টাকা। চালুর পর বেশির ভাগ সময় বসে থাকা বাঁশখালীর এস আলম কেন্দ্রটি এ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে ৩ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য এবং বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, একটি চুক্তি বাতিল করতে চাইলে কিছু যৌক্তিক কারণ লাগে। কোনো পক্ষ যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বা চুক্তি

স্বাক্ষরে অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাহলে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা যাবে। ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে মুক্তি প্রসঙ্গে হাসিব চৌধুরী বলেন, চুক্তি পর্যালোচনা ছাড়াও পুরোনো ও অদক্ষ কেন্দ্র বাতিল, চুক্তির মেয়াদ নবায়ন না করা, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর নতুন কেন্দ্রের চুক্তি না করে রিজার্ভ মার্জিন কমিয়ে আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঠাকুরগাঁও বার নির্বাচনে আ’লীগ পন্থী প্রার্থীদের বড় চমক ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল: একাত্তরের এ দিনে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার চাঁদপুর ও মাদারীপুরে মিড ডে মিলের নিম্নমানের খাবারে প্রাথমিক শিশুরা অসুস্থ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাখামাখির ফল: বাংলাদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দেয়নি ইরান নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ অ্যাটলেটিকোর কাছে হারের পর উয়েফার কাছে বার্সেলোনার নালিশ গার্বেজ গিলে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের, এতে ইতিহাসের সত্য বদলায় না চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপে আন্তর্জাতিক জোটের উদ্বেগ-নিন্দা মানুষ সুখী নারীকে সহ্য করতে পারে না: হানিয়া ২ বিভাগে বৃষ্টির আভাস পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম অনলাইনে কিভাবে টিন সার্টিফিকেট করবেন শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে সমঝোতা না হলে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প বাঁধাকপির বস্তার নিচে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৬ টন মাদক জব্দ বিয়ে করছেন টেইলর সুইফট, অনুষ্ঠান হবে নিউইয়র্কে দেশে আজ সোনার ভরি কত