ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রাজনীতির নামে পশুত্ব! বৃদ্ধা মায়ের রক্ত ঝরিয়ে কাপুরুষতার উৎসব
কারাগারকে হত্যা কারখানায় পরিণত করা হয়েছে অবৈধ ইন্টারিম থেকে বিএনপি…
যশোরে পৈশাচিকতা: ছাত্রলীগ নেতা জাহিদের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের পায়ের রগ কাটল দুর্বৃত্তরা
জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সিলেটে সরকারি রাস্তার বিপুল পরিমাণ ইট লুটপাট: ৬ জন আটক
শাহজালালের মাজারে এনসিপির রাজনৈতিক মব, ফুঁসছে সিলেটবাসী
বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তেলেসমাতি শুরু, যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যান!
বিএনপি ক্ষমতায় বসার পর সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মহোৎসব
২০২১ সালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনকারী বিএনপির কাছে এখন ‘মব’ ও ‘নিষিদ্ধ’
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালে বিএনপি যখন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করেছিল, সেই অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা শেখ মুজিবুর রহমান–এর ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্বও স্বীকার করেছিলেন।
তখন অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
কিন্তু পাঁচ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় ৭ মার্চ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা।
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অপরাধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ঢাবি’র শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।বিনিয়োগ সুযোগ অপর দুই আসামি হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ সৈকত ও আব্দুল আল মামুন। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আশাদুল ইসলাম তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে হয়। এর আগে শনিবার রাতে এ ঘটনায় রবিবার পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল, যা নিষিদ্ধ—এমন অভিযোগে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আটক দুজনের বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওসির কাছে
গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, ৭ই মার্চের ভাষণ কি নিষিদ্ধ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মনিরুজ্জামান ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হয়ে এমন উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছেন কেন আপনারা?’ ২০২১ সালে প্রথমবার ৭ মার্চ পালন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালের মার্চ মাসজুড়ে ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করে। সেদিন বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেন—দলীয় কার্যক্রম “১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক এবং জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল। সেই সময়ের অবিসংবাদিত নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা ছিল, আমরা তা অস্বীকার করি না।” এ সময় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি ইঙ্গিত হতে পারে বিএনপির এই উদ্যোগ। ৭ মার্চ: ইতিহাসের অনিবার্য অধ্যায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চকে বাদ দিয়ে বাঙালির ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়—এ বিষয়ে প্রায় সর্বসম্মত মত রয়েছে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। সেদিন ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কো Memory of the World Register–এ অন্তর্ভুক্ত করে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ভাষণহীন প্রতিবেদন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন–এ প্রচারিত ৭ মার্চবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কোনো
অংশ ব্যবহার করা হয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বরং প্রতিবেদনে শেখ মুজিবুর রহমানের কেবল একটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে এর উদ্দেশ্য ও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৬ সালে ভিন্ন বাস্তবতা ২০২১ সালে যে দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ৭ মার্চ পালন করেছিল, সেই বিএনপিই এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ও মব হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক গোলাম মওলা রনি মনে করেন, দেশে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার পেছনে মূলত জামায়াত-শিবিরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে।বিনিয়োগ সুযোগ তার মতে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও যদি
এ ধরনের ঘটনায় নীরব থাকে, তাহলে দুটি প্রশ্ন সামনে আসে—তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না যে রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের হাতে, অথবা তারা নিজেদের কাজ ‘মবের’ ওপর ছেড়ে দিয়েছে। গোলাম মওলা রনির ভাষায়, “তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে রাষ্ট্রটি তারা চালাচ্ছে এবং তাদের নির্দেশেই সবকিছু চলবে।”
ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।বিনিয়োগ সুযোগ অপর দুই আসামি হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ সৈকত ও আব্দুল আল মামুন। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আশাদুল ইসলাম তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে হয়। এর আগে শনিবার রাতে এ ঘটনায় রবিবার পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল, যা নিষিদ্ধ—এমন অভিযোগে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আটক দুজনের বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওসির কাছে
গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, ৭ই মার্চের ভাষণ কি নিষিদ্ধ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মনিরুজ্জামান ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হয়ে এমন উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছেন কেন আপনারা?’ ২০২১ সালে প্রথমবার ৭ মার্চ পালন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালের মার্চ মাসজুড়ে ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করে। সেদিন বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেন—দলীয় কার্যক্রম “১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক এবং জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল। সেই সময়ের অবিসংবাদিত নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা ছিল, আমরা তা অস্বীকার করি না।” এ সময় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি ইঙ্গিত হতে পারে বিএনপির এই উদ্যোগ। ৭ মার্চ: ইতিহাসের অনিবার্য অধ্যায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চকে বাদ দিয়ে বাঙালির ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়—এ বিষয়ে প্রায় সর্বসম্মত মত রয়েছে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। সেদিন ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কো Memory of the World Register–এ অন্তর্ভুক্ত করে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ভাষণহীন প্রতিবেদন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন–এ প্রচারিত ৭ মার্চবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কোনো
অংশ ব্যবহার করা হয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বরং প্রতিবেদনে শেখ মুজিবুর রহমানের কেবল একটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে এর উদ্দেশ্য ও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৬ সালে ভিন্ন বাস্তবতা ২০২১ সালে যে দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ৭ মার্চ পালন করেছিল, সেই বিএনপিই এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ও মব হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক গোলাম মওলা রনি মনে করেন, দেশে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার পেছনে মূলত জামায়াত-শিবিরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে।বিনিয়োগ সুযোগ তার মতে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও যদি
এ ধরনের ঘটনায় নীরব থাকে, তাহলে দুটি প্রশ্ন সামনে আসে—তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না যে রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের হাতে, অথবা তারা নিজেদের কাজ ‘মবের’ ওপর ছেড়ে দিয়েছে। গোলাম মওলা রনির ভাষায়, “তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে রাষ্ট্রটি তারা চালাচ্ছে এবং তাদের নির্দেশেই সবকিছু চলবে।”



