রোডম্যাপসহ নানা দাবি উত্তপ্ত হবে রাজপথ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ এপ্রিল, ২০২৫
     ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

রোডম্যাপসহ নানা দাবি উত্তপ্ত হবে রাজপথ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ এপ্রিল, ২০২৫ | ৯:১২ 123 ভিউ
এ বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দিক থেকে বেশ কয়েকবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর নির্বাচনী দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসবে, ততই রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে- এমনই জানিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। বিএনপি নেতারা বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সরকারের কিছু লোক নির্বাচন না করে আরও কিছু দিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিছু উপদেষ্টার বক্তব্যেও নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট মনে করছেন বিএনপি নেতারা। এ অবস্থায় নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানতে খুব শিগগির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি নির্বাচনী রোডম্যাপের

দাবিতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে দলটি। এ ছাড়া রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে সভা-সমাবেশ করতে পারে। তার আগে বিএনপি ও তাদের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিত্র দলগুলোর নেতারাও মনে করেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ নিয়ে শিগগির বৈঠক করে তারা কর্মপন্থা ঠিক করে রাজপথে নামবেন। অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ এবং শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার হবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে বসে নেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে সরকারের ঘোষণাকে রোডম্যাপ মনে করছে দলটি।

এর প্রতি সমর্থন আছে জামায়াতের। এই দলটিও নানা দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনী রোডম্যাপসহ অন্যান্য দাবিতে চলতি মাস থেকেই ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে রাজপথ। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, তারা যখন যে কর্মসূচিই নেন না কেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক অথবা অন্তর্বর্তী সরকার বেকায়দায় পড়–ক-- এমন কোনো কার্যক্রম করবেন না তারা। এ ব্যাপারে সতর্ক আছে দলগুলো। দলগুলোর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকা- বা রাজনৈতিক দলগুলো কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, বিএনপির প্রত্যাশামতো ডিসেম্বরে

নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে গড়ায় এমন কোনো কর্মসূচির দিকে হয়তো তারা যেতে চাইবে না। এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে থাকব। দেশের মানুষ গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের এখন একটাই চাওয়া, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে। সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, এ বছর ডিসেম্বর

থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। যদিও গত ডিসেম্বর থেকেই বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা ও অস্পষ্টতার অভিযোগ তুলে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এবার এ দাবিতে আরও সক্রিয় হতে চায় দলটি। আনুষ্ঠানিকভাবে তাগাদা দিতে চায় সরকারকে। বিএনপি নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবিতে সক্রিয় হওয়ার কথা বললেও এনসিপি আগামী দিনে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজপথে আরও সোচ্চার হবে। দলের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এখনও ঈদের রেশ কাটেনি। আমাদের নেতারা তৃণমূলপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক, সমাজের বিশিষ্টজন, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ অব্যাহত রেখেছেন। এবারের রমজান মাসজুড়েও দেশের প্রায়

অর্ধেক সাংগঠনিক জেলা-উপজেলা-থানাপর্যায়ে আমরা ইফতার-মাহফিল করেছি। এসব এলাকা ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কমিটি গঠন করব। এটাই আমাদের প্রথম কাজ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি পালন করব। আগামী ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হলে কী করবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, যদি নির্বাচন হয় তাহলে আমরাও নির্বাচনে অংশ নেব। তবে সম্প্রতি এনসিপির (উত্তরাঞ্চল মুখ্য সংগঠক) সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চান বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন স্টেটসম্যানকে ৫

বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাওয়ার আকাক্সক্ষা আমার আজীবন থাকবে।’ এ বিষয়ে এনসিপির অবস্থান সম্পর্কে আদীব বলেন, এটা আমাদের দলীয় বক্তব্য নয়; এটা সারজিস আলমের একান্ত বক্তব্য। এর ব্যাখ্যা তিনি দেবেন। এদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। তার আগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম আরও বাড়াতে চায় দলটি। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। তিনি বলেন, আমাদের দলের স্পষ্ট অবস্থান- নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার, আওয়ামী লীগ সরকার যে গণহত্যা চালিয়েছে, যে দুর্নীতি লুটপাট ও বিদেশে অর্থপাচার করেছে, তার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে। বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার করে ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইলে সে ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান একটু ভিন্ন। আবদুল হালিম বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো চাপাচাপি করতে চাই না। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার মধ্যেই নির্বাচন হোক- এটাই আমাদের চাওয়া। তবে দেশে যাতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো নির্বাচন না হতে পারে, সেই ধরনের সংস্কার চাই। নির্বাচিত হয়েও সরকার যাতে কর্তৃত্ববাদী হতে না পারে- এমন সংস্কার চাই আমরা। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার মধ্যে বিএনপি অস্পষ্টতা দেখছে, এ অবস্থায় নির্বাচনী রোডম্যাপ দাবি করছে দলটি। তবে জামায়াত মনে করে এখানে অস্পষ্টতার কিছু নেই। এ প্রসঙ্গে আবদুল হালিম বলেন, সরকার তো আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছে। আমরা মনে করি এটা এক ধরনের নির্বাচনী রোডম্যাপ। প্রধান উপদেষ্টাকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চান বলে দেওয়া সারজিস আলমের পোস্ট সম্পর্কে আবদুল হালিম বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার চাই। সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন চাই। এটাই আমাদের অবস্থান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
Bangladesh Election 2026 — Mandate or Mystery? The Story of Invisible Ballots Behind an “Unprecedented” Election শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় ‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের (ISD) বিবৃতি Bangladesh Elections Were Free & Fair? New Report Flags Irregularities In 40% Seats, Raises Concerns ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্বাচন নাটকঃ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ভর্তি বাক্স অরক্ষিত; উধাও প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি “আওয়ামী লীগ ফেরার কি আছে? আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশেই আছে।” – সজীব ওয়াজেদ জয় ছয়টি ব্যালট ভর্তি বাক্স সরিয়ে রেখে ফল প্রকাশ; নির্বাচনের চার দিন পর উদ্ধারে বিক্ষুব্ধ রংপুরবাসী, ইউএনও আটক ভোটার নেই, তবু ভোট পূর্ণ। মানুষ নেই, তবু ফলাফল প্রস্তুত।এটাই অবৈধ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। No voters, yet ballots filled. No people, yet results prepared. What TIB’s Statistics Say: Was the 13th Parliamentary ২৬ লাখ ভারতীয়’ বহাল রেখেই কি বিদায় নিচ্ছেন আসিফ নজরুল? কারাগারে অসুস্থ মুন্নির ‘খোঁজ রাখছে না’ কেউ শেখ হাসিনা মাসে ৮ হাজার কোটি , ইউনুস মাসে ২৩ হাজার কোটি ঋণ নিয়েছে। শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক