যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলও – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ July, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলও

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ July, ২০২৫ |
বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক ও শর্ত আরোপ করছে, তা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, এর পেছনে স্পষ্ট ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে। বিশেষ করে ‘রুলস অব অরিজিন’ শর্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক বাধ্যবাধকতা চাপাচ্ছে, যা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুলস অব অনিজিন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে- যা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত- এই শর্ত পূরণ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ওভেন গার্মেন্টস (বোনা পোশাক) খাত সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে, কারণ এ খাতে ব্যবহৃত কাপড়ের প্রায় ৭০ শতাংশই চীন

থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, নিটওয়্যার খাতে স্থানীয় স্পিনাররা প্রায় ৯০ শতাংশ কাপড় সরবরাহ করতে পারছেন, ফলে সে খাতে চীনা নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু ওভেন খাতে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো দুর্বল, ফলে চীনা কাঁচামালের বিকল্প খোঁজা সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান কেবল দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস করাও এর একটি বড় উদ্দেশ্য। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, চীনা কাঁচামাল ব্যবহার করে তৃতীয় দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি কার্যত চীনেরই পরোক্ষ বাজার সম্প্রসারণ। তাই এই ধরনের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে তারা গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে চীনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে

চীনা বিনিয়োগ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে মার্কিন বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়েও বারবার আশ্বাস চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উচিত দ্রুত বিকল্প উৎস খোঁজা, ওভেন খাতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, এবং বৈদেশিক নীতিতে সুষম কৌশল গ্রহণ করা যাতে উভয় পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭% শুল্ক আরোপ হঠাৎ ও চ্যালেঞ্জিং—“expectedly challenging situation” হিসেবে তারা অভিহিত করেছে  বিজিএমইএ’র প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন: ‘We fully recognise the pressure this has created at your end’। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি গ্লোবাল ক্রেতাদের কাছে এটি বোঝাতে চেয়েছেন যাতে তাঁরা দাম বাড়িয়ে চাপ আরও

না বাড়ান । এদিকে শিল্প নেতারা ডায়লগ সভা আয়োজন করে রপ্তানি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। এতে রপ্তানিকারকরা জোর দিয়ে বলেছেন তৈরি পোশাকের দাম না বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উত্তরাধিকার বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে । ৯ জুলাই বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান পরামর্শ দিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে লবি গোষ্ঠী নিয়োগ করে এ সংকট নিরসনে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ করানো হোক ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের