‘ভারতের বিপক্ষে পার্থক্য গড়ে দেবে হামজা’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ March, ২০২৫

‘ভারতের বিপক্ষে পার্থক্য গড়ে দেবে হামজা’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ March, ২০২৫ |
তার সময়ে জাতীয় ফুটবল দলে প্রবাসী ফুটবলারদের আসা শুরু। প্রথমে জামাল ভূঁইয়া। সবশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলারের জাতীয় দলে যোগ দেওয়া নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। প্রশ্ন : অবশেষে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে এসেছেন। আপনার অনুভূতি কী? কাজী সালাউদ্দিন : খুব ভালো লাগছে। তিন বছর আগে থেকে আমরা হামজাকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য চেষ্টা করেছি। সেই কষ্ট সার্থক হয়েছে। অবশেষে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারছে সে। প্রশ্ন : কোন ভাবনা থেকে হামজাকে পছন্দ করেছিলেন? সালাউদ্দিন : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা অনেক ভেবেছি। আমাদের চোখ ছিল ইউরোপে। শেষ পর্যন্ত ইংলিশ

প্রিমিয়ার লিগে লেস্টার সিটিতে খেলা হামজার খোঁজ পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ইউরোপে খেলা একজন ফুটবলার আমাদের দেশে খেলবে, এটা অনেক গর্বের বিষয়। অবশেষে সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন : হামজা আসায় বাংলাদেশ দলের শক্তি কতটা বাড়বে? সালাউদ্দিন : অনেক বাড়বে। আমার মনে হচ্ছে না যে, ভারতের এবারের দলটি শক্তিশালী। কারণ তারা অবসরে যাওয়া ৪০ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড সুনীল ছেত্রীকে ফিরিয়েছে। ৪০ বছর বয়সি একজন ফুটবলারকে কখন ফেরাতে হয়, যখন দলটি দুর্বল। এতদিনেও তারা সুনীলের পরিবর্তিত ফুটবলার খুঁজে পায়নি। ভারতের ফ্রন্টলাইন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা বাংলাদেশের জন্য খুবই ভালো হবে। এই পজিশনে বাংলাদেশ দুর্বল ছিল। ভারতের বিপক্ষে হামজা পার্থক্য গড়ে দেবে বলে

আমার বিশ্বাস। প্রশ্ন: হামজার মতো এমন আরও দু-একজন ফুটবলার এলে বাংলাদেশ দল কি আরও শক্তিশালী হবে? সালাউদ্দিন : হামজার মতো এমন দুর্দান্ত প্রবাসী ফুটবলার ইউরোপে আর কেউ খেলছে বলে আমার জানা নেই। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে হামজাই টপ পজিশনে। এরকম আরও দু-একজন ফুটবলার এলে আমাদের শক্তি বেড়ে যাবে বহুগুণে। প্রশ্ন: অনেকে আশা করছেন হামজা আসায় আমরা এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পরবর্তী পর্বে কোয়ালিফাই করতে পারব। আপনারও কি তাই মনে হয়? সালাউদ্দিন : আমি অনুমান করে বলতে পারি, আশা করি, যেতে পারব। কারণ, দল সৌদি আরবে অনুশীলন করেছে। সবাই একসঙ্গে খেলছে অনেকদিন ধরে। আশা করা যায় পরবর্তী পর্বে যেতে পারবে। প্রশ্ন : আমরা দেখেছি ডেনমার্ক প্রবাসী মিডফিল্ডার

জামাল ভূঁইয়া আসায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন হামজা আসায় আরও হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন? সালাউদ্দিন : আশা ছিল বলেই তিন বছর আগে থেকে আমরা ওর পেছনে দৌড়েছি। সমস্যার মধ্যেও এগিয়েছি। ভালো হবে বলেই করেছি। বিএফএফের নির্বাহী কমিটির অনেক সদস্য আমাকে গালাগাল করেছে হামজাকে আনার বিষয়ে। বিরোধিতা করেছে। এখন তারাই দৌড়ে গেছে হামজাকে অভ্যর্থনা জানাতে। আমি আশ্চর্য হয়েছি। প্রশ্ন : হামজা আসায় দেশের ফুটবলে আকাক্সক্ষা বেড়েছে। তা ধরে রাখার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? সালাউদ্দিন : হামজাকে অনেক কষ্ট করে আনা হয়েছে। দলের সবাই এই কষ্টের মূল্য দেবে। এটা তাদের জন্যই ভালো হবে। বিরোধিতা আগেও করেছে। এখনো করবে। কিছু লোকের কাজই হলো সমালোচনা

করা। আর কিছু লোক কাজও করে, গালিও খায়। আবার কিছু লোক কাজ করবে না; কিন্তু সমালোচনা করবে। তাই হামজা আসায় যে উচ্চাকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশ্ন: জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ছিলেন আপনি। জাতীয় দলকে কোচিংও করিয়েছেন। বাফুফের সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৬ বছর। হামজা আসায় বাংলাদেশর ফুটবলকে কতদূর এগিয়ে যেতে দেখছেন? সালাউদ্দিন : একজন হামজা দিয়ে কিছু হবে না। এটা ক্রিকেট নয়, যে একজন ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাবে। অন্যজন ১০ উইকেট তুলে নিয়ে দলকে জেতাবে। এটা ফুটবল। এভাবে প্রেডিক্ট করা যাবে না। তবে প্রেডিক্ট যেটা করা যাবে, হামজা আসায় দলের জন্য ভালো হয়েছে। সামনেও ভালো হবে।

তবে কতটুকু ভালো হবে, তা সময়ই বলে দেবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হামজা যদি একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারত, তাহলে দলের অন্যরা তাকে সহজে বুঝে নিতে পারত। সে সরাসরি ভারতের সঙ্গে খেলছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আসরে হামজাকে বোঝার জন্য সময় পাচ্ছে না অন্যরা। প্রশ্ন : জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি আপনার কী বার্তা থাকবে? সালাউদ্দিন : ঠান্ডা মাথায় ভারতের সঙ্গে খেলবে। রেজাল্ট যাই হোক। খুব ভালো রেজাল্ট না হলেও সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের সঙ্গে রেজাল্ট বের করতে পারলে পরের পর্বে যাওয়ার আশা থাকবে। এই সুযোগটা যেন নষ্ট না হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা ও ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৪ সুরের মূর্ছনায় মুখর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ইসলামাবাদে পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, রাত ১০টায় মঞ্চে জেমস ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য ফাঁসে রাশিয়ার দিকে সন্দেহের আঙুল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান: শুভেন্দু অধিকারী নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি