বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ November, ২০২৬

বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ November, ২০২৬ |

এর আগে গতকাল ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে হরমুজ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইরান, এদের কারো সাথেই নেই যুক্তরাষ্ট্রের  ‘পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি’ র বাঁধা! 

  বিশেষ প্রতিবেদক। ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬। বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহনে সহযোগিতার আশ্বাস তেহরানের; বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ও নির্ধারিত রুট অনুসরণের শর্ত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তির একটি ধারা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গেলে ওয়াশিংটনের আপত্তি ও পাল্টা শুল্কের ঝুঁকিতে পড়তে পারে ঢাকা—যদিও চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারাটি সব ধরনের যোগাযোগ বা জ্বালানি পরিবহনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি

ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো ইরানের সঙ্গে আগাম সমন্বয় করে এবং তেহরানের নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ করলে সেগুলোকে হরমুজ প্রণালি পারাপারে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত দেশটি। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে বাংলাদেশের সামনে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক জটিলতা তৈরি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তির কয়েকটি শর্তের কারণে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি এ বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে চাইলে দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে। দ্বিতীয়ত,

ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ করতে হবে। এই শর্ত দুটি মানলে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা থাকবে না। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। যেসব জাহাজ হামলা বা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছে, সেগুলো ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে চলাচল করছে বলে তাঁর দাবি। নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে ইরানকে অবহিত করলে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দেশকেই পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

চার দেশের জাহাজকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও

উঠে এসেছে। গত ৩ নভেম্বর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মুকাদ্দাম জানান, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চার দেশের জাহাজগুলো ইরানের আরোপিত চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বাইরে থেকে প্রণালি পার হতে পারছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে, তবে কাতারের জাহাজকে বিনা ফিতে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ এখনো এই চার দেশের মতো কোনো বিশেষ সুবিধা পেয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ইরানের

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতার আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির দুটি ধারা ইরানের সাথে সমন্বয়ে বাঁধা!

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘Agreement on Reciprocal Trade’ চুক্তির ৪.৩.৪ ধারা নিয়ে। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির Article 4.3, Paragraph 4-এ বলা হয়েছে: “If Bangladesh enters into a new bilateral free trade agreement or preferential economic agreement with a non-market country that undermines this Agreement, the United States may, if consultations with Bangladesh fail to resolve its concerns, terminate this Agreement and reimpose the applicable reciprocal tariff rate set forth in Executive Order 14257 of

April 2, 2025.” অর্থাৎ, বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে—এমন কোনো নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA) অথবা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি (Preferential Economic Agreement) কোনো নন-মার্কেট দেশের সঙ্গে করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। সেই আলোচনায় উদ্বেগের সমাধান না হলে ওয়াশিংটন বিদ্যমান চুক্তি বাতিল এবং ২০২৫ সালের ২ এপ্রিলের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী প্রযোজ্য পাল্টা শুল্ক পুনর্বহাল করতে পারে। এখানে উল্লেখযোগ্য, ধারাটিতে কেবল ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি, সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘নন-মার্কেট কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচনা এবং সেই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত

হওয়ার শর্ত রয়েছে।   মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির Article 4.2(2) বাংলাদেশের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। এই ধারায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনভাবে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ (Export Controls) লঙ্ঘনকারী লেনদেন সীমিত করা যায়।
Bangladesh shall cooperate in a manner consistent with, and permitted by, applicable requirements of domestic law, with the United States with a view to restricting transactions that would be violations of U.S. sanctions or export controls if they occurred in the United States or by a U.S. person. (7)
  এই ধারার ৭নং রেফেরেন্সে উল্লেখ করা আছে কোন কোন মার্কিন বিভাগের সাথে বাংলাদেশের করা “পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি”কে সামঞ্জস্যপূর্ন থাকতে হবেঃ
(7) These transactions include those involving individuals and entities included on the Department of Commerce, Bureau of Industry and Security’s Entity List (Supplement No.4 of Part 744 of the Export Administration Regulations), as well as the Department of the Treasury, Office of Foreign Assets Control?s Specially Designated Nationals and Blocked Persons List (SDN List) and Non-SDN Consolidated Sanctions List.   এই লেনদেনগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ‘ব্যুরো অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’-এর ‘এনটিটি লিস্ট’ (এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনস-এর পার্ট ৭৪৪-এর সাপ্লিমেন্ট নং ৪)-এ তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান; এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’-এর ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস অ্যান্ড ব্লকড পার্সনস লিস্ট’ (এসডিএন তালিকা) ও ‘নন-এসডিএন কনসোলিডেটেড স্যাংশনস লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
এর ফলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ইরানের সাথে কোন প্রকার সমঝোতা বা ইরানের কোনো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, জাহাজ, ব্যাংক বা আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেন হলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনে সহযোগিতা করতে গিয়ে মার্কিন চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, ইরান হরমুজ ব্যবহারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার এই চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা সেই সহযোগিতা বাস্তবায়নে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারী দেশের সম্ভাব্য পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা (US Sanctions) আরোপ করে রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ইরানের তেল ও গ্যাসশিল্প, ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা, জাহাজ পরিবহন, পেট্রোকেমিক্যাল, সামরিক সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এসব নিষেধাজ্ঞা পরিচালনা করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের Office of Foreign Assets Control (OFAC)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা জাহাজ কোম্পানিও মার্কিন Secondary Sanctions-এর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলছে না ইরান

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জানান, ওমান ও কাতারের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আপাতত প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না করার নিশ্চয়তা ছাড়া হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রশ্নে অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব ও শর্তগুলো জানানো হয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়া এবং পুনরায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতিসহ ইরানের ঘোষিত শর্তগুলো মেনে নেওয়া হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত। রাষ্ট্রদূত আরও অভিযোগ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা যখন সফলতার দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস এবং ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এমনকি পারমাণবিক হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রদূতের নিজস্ব মূল্যায়ন ও অভিযোগ।

বাংলাদেশের সামনে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এই পথে চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়লে জ্বালানি আমদানির সময়, পরিবহন ব্যয়, বিমা এবং সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ রুট ব্যবহারের সুযোগ বাংলাদেশের জন্য বিকল্প সরবরাহপথের বদলে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ব্যবহার অব্যাহত রাখার একটি সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এর ফলে পরিবহন খরচ কতটা কমবে, ট্রানজিট ফি কত হবে কিংবা বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশেষ আর্থিক সুবিধা থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারবে ঢাকা? আর সেই সহযোগিতা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সংঘাতে না যায়, সে জন্য কী ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান সংকট বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি পরিবহনের সমস্যা নয়; এটি দেশের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভাবি, দাও কই’ বলার পর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ চুরির অভিযোগে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা’র প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অপতথ্য প্রচার দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর কূটনৈতিক কর্মকর্তার কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম ন্যূনতম মজুরির জন্য শ্রমিক যখন মরছে, তখন ২০০ কোটি টাকা খরচে সরকারি কর্মচারীদের ফ্ল্যাট তৈরির ঘোষণা তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার সিলেট টেস্ট: ক্যারিবীয় পেসারদের তোপে দিনশেষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি