‘জয়ের ক্ষুধাই তাতিয়ে রাখছে মেসিকে’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ June, ২০২৬

‘জয়ের ক্ষুধাই তাতিয়ে রাখছে মেসিকে’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ June, ২০২৬ |
কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি, স্কালোনির জাদু আর মারাদোনাকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা মাক্সি রদ্রিগেস। লিওনেল মেসিকে মাক্সি রদ্রিগেসের চেয়ে ভালো খুব কম মানুষই চেনেন। শুধু জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার কারণে নয়, দুজনের শুরুটাও হয়েছিল একই জায়গায়—আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে। রোজারিওর রাস্তায় ফুটবল খেলে বড় হওয়া এই দুই তারকার পথ পরে এক হয়ে যায় জাতীয় দলে। ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির যখন অভিষেক হয়, তখন এই রদ্রিগেসের বদলি হিসেবেই মাঠে নেমেছিলেন ১৯ বছরের মেসি। রদ্রিগেস রসিকতা করে বলেন, ‘আমি সবসময় মেসিকে মজা করে বলি, মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় ওেক যখন হাই-ফাইভ করেছিলাম, তখনই আমার ভেতরের

ফুটবল জাদুটা ওর মধ্যে চলে গিয়েছিল।’ ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪—টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেলা রদ্রিগেস সম্প্রতি ফিফার সঙ্গে এক আড্ডায় মেসি, মারাদোনা আর আর্জেন্টিনার বর্তমান দল নিয়ে মনের ঝাঁপি খুলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার সেই আড্ডার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো: প্রশ্ন: ২০১০ বিশ্বকাপে আপনার কোচ ছিলেন ডিয়েগো মারাদোনা আর সতীর্থ ছিলেন মেসি। বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলারকে একসঙ্গে পাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? মাক্সি রদ্রিগেস: ওটা স্বপ্নের মতো ছিল। মারাদোনার খেলা দেখে আমি বড় হয়েছি, তিনি আমার আদর্শ। আর লিও তো কিংবদন্তি। অনুশীলনের পর আমরা যখন ফ্রি-কিক নেওয়ার জন্য মাঠে থেকে যেতাম, ডিয়েগো (মারাদোনা) আমাদের সঙ্গে যোগ দিতেন। মারাদোনা আর মেসি যেভাবে শট নিতেন,

আমরা হাঁ করে তাকিয়ে দেখতাম। মারাদোনা তখন যেভাবে বল মারতেন, অবিশ্বাস্য! আমার মনে হয় আমাদের ব্যাক-আপ গোলকিপার আন্দুহার তার একটা শটও আটকাতে পারেনি। দেখে মনে হতো, ডিয়েগো যেন মেসিকে ফ্রি-কিক মারার শিল্পটা হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন। আর লিওর এত সাফল্য, অথচ মানুষ হিসেবে ও ভীষণ বিনয়ী। প্রশ্ন: একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ আপনার কাছে কেমন ছিল? মাক্সি রদ্রিগেস: আমি তখন ধারাভাষ্য দিচ্ছিলাম। মাঠে যারা খেলছিল, তাদের মানসিক চাপটা আমি বুঝতে পারছিলাম। কারণ আমিও তো ওই জার্সি পরে খেলেছি। তাই আর্জেন্টিনা যখন চ্যাম্পিয়ন হলো, আনন্দের বাঁধ ভেঙে গেল। ট্রফি জেতার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম। একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে, আর মেসির সাবেক সতীর্থ হিসেবে এটা

ছিল একটা স্বপ্ন পূরণ। লিওর ক্যারিয়ারে শুধু এই একটা ট্রফিই বাকি ছিল। এই ট্রফিটা ওর বিরুদ্ধে হওয়া সব সমালোচনা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন: কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির কোন দিকটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে? মাক্সি রদ্রিগেস: স্কালোনি ড্রেসিংরুম খুব ভালো বোঝেন। ফুটবল কৌশল বা ট্যাকটিকস জানা এক জিনিস, আর ২৬ জন আলাদা মানসিকতার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধা অন্য জিনিস। ও সবার মন বুঝতে পারে। খেলোয়াড় হিসেবে স্কালোনি মাঠে ভীষণ রাগী আর চঞ্চল ছিল, কিন্তু ডাগআউটে ও এখন এত শান্ত থাকে যে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই! তবে সবচেয়ে বড় কথা, এত সাফল্যের পরও ও আগের মতোই মাটির মানুষ রয়ে গেছে। প্রশ্ন: কাতার

জয়ের পর এই দলের মানসিকতায় কী পরিবর্তন এসেছে? মাক্সি রদ্রিগেস: ওদের এখন বড় টুর্নামেন্ট জেতার অভিজ্ঞতা আছে। তবে জেতার ক্ষুধায় কোনো কমতি হয়নি। এই দলের কোচ আর ফুটবলারদের অনেকেই আমার বন্ধু। ওদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কাতারে জিতেছে বলেই ওরা ঢিলেমি দিচ্ছে না। ইতিহাস নতুন করে লেখার খিদেটা ওদের এখনও আছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে ওরা জানপ্রাণ লড়িয়ে দেবে। প্রশ্ন: মেসিকে আবারও সবকিছু উজাড় করে দিতে কোন জিনিসটা তাতিয়ে রাখছে? মাক্সি রদ্রিগেস: কেবলই জয়ের ক্ষুধা আর নতুন ইতিহাস গড়ার তাগিদ। রেকর্ড ভাঙার কথা মেসি মাথায়ই আনে না, ও শুধু দেশের জন্য খেলতে ভালোবাসে। আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াই এখন ওর একমাত্র লক্ষ্য।

এই জেদ আর মানসিকতা আছে বলেই ও সব অর্জন করতে পেরেছে। আর এই কারণেই আমরা এখনও আর্জেন্টিনার ওই ১০ নম্বর জার্সিতে মেসির খেলা উপভোগ করতে পারছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের